সংবাদ

হলে বিষধর সাপের উপদ্রব, নেই প্রতিষেধক


প্রতিনিধি, গোবিপ্রবি
প্রতিনিধি, গোবিপ্রবি
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

হলে বিষধর সাপের উপদ্রব, নেই প্রতিষেধক
ছবি : সংবাদ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোতে একের পর এক বিষধর সাপ দেখা যাচ্ছে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অথচ ক্যাম্পাসে নিয়মিত সাপের আনাগোনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেই কোনো প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম। ফলে কোনো শিক্ষার্থী সাপের কামড়ের শিকার হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলের শৌচাগার, নিচতলা ও আশপাশের এলাকায় বিষধর সাপ দেখা গেছে। সর্বশেষ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শহীদ তিতুমীর হলের একটি কক্ষের পাশের শৌচাগারে একটি বড় গোখরা সাপ দেখা যায়। এর আগে বিজয় দিবস হল ও স্বাধীনতা দিবস হলেও কয়েক দফা সাপ দেখা গেছে। বারবার শৌচাগারে সাপের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক কাজকর্মেও ভয় পাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের ধারণা, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার করার পর সাপগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আবাসিক ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ তারেক বলেন, ‘আশপাশে প্রচুর ঝোপঝাড় ছিল। সেগুলো পরিষ্কার করার পর থেকেই সাপগুলো হলে ঢুকছে। আমরা এখন ঘরের ভেতরেও নিরাপদ বোধ করছি না।’

এদিকে সাপের উপদ্রব বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল সেন্টারে কোনো অ্যান্টিভেনম না থাকায় গভীর রাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত সবাই। ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ লুৎফর রহমান বলেন, ‘এত বড় ক্যাম্পাসে কোনো অ্যান্টিভেনম থাকবে না, এটা মানা কঠিন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এর ব্যবস্থা করা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. লিখন চন্দ্র বালা জানান, সাধারণত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে অ্যান্টিভেনম রাখা হয় না। তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন, যা আমাদের এখানে নেই। তবে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কাছেই হওয়ায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে দ্রুত পাঠানো সম্ভব।’

শহীদ তিতুমীর হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। হলের চারপাশ নিয়মিত পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সাপ আর ভেতরে ঢুকতে না পারে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হলে বিষধর সাপের উপদ্রব, নেই প্রতিষেধক

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোতে একের পর এক বিষধর সাপ দেখা যাচ্ছে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অথচ ক্যাম্পাসে নিয়মিত সাপের আনাগোনা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেই কোনো প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম। ফলে কোনো শিক্ষার্থী সাপের কামড়ের শিকার হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলের শৌচাগার, নিচতলা ও আশপাশের এলাকায় বিষধর সাপ দেখা গেছে। সর্বশেষ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শহীদ তিতুমীর হলের একটি কক্ষের পাশের শৌচাগারে একটি বড় গোখরা সাপ দেখা যায়। এর আগে বিজয় দিবস হল ও স্বাধীনতা দিবস হলেও কয়েক দফা সাপ দেখা গেছে। বারবার শৌচাগারে সাপের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক কাজকর্মেও ভয় পাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের ধারণা, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার করার পর সাপগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আবাসিক ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ তারেক বলেন, ‘আশপাশে প্রচুর ঝোপঝাড় ছিল। সেগুলো পরিষ্কার করার পর থেকেই সাপগুলো হলে ঢুকছে। আমরা এখন ঘরের ভেতরেও নিরাপদ বোধ করছি না।’

এদিকে সাপের উপদ্রব বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল সেন্টারে কোনো অ্যান্টিভেনম না থাকায় গভীর রাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত সবাই। ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ লুৎফর রহমান বলেন, ‘এত বড় ক্যাম্পাসে কোনো অ্যান্টিভেনম থাকবে না, এটা মানা কঠিন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এর ব্যবস্থা করা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. লিখন চন্দ্র বালা জানান, সাধারণত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে অ্যান্টিভেনম রাখা হয় না। তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন, যা আমাদের এখানে নেই। তবে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কাছেই হওয়ায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে দ্রুত পাঠানো সম্ভব।’

শহীদ তিতুমীর হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। হলের চারপাশ নিয়মিত পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সাপ আর ভেতরে ঢুকতে না পারে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত