সংবাদ

সাদুল্লাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ চিকিৎসকের পদই শূন্য, সেবা বঞ্চিত রোগীরা


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

সাদুল্লাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ চিকিৎসকের পদই শূন্য, সেবা বঞ্চিত রোগীরা
ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র জনবলসংকটে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৪৫টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের মধ্যে ২৯টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, আর চিকিৎসা নিতে এসে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগীরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিনিয়ত শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকছেন। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী সেবা নিতে আসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিশেষায়িত চিকিৎসকের আটটি পদের মধ্যে সাতটিই ফাঁকা। গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন ও কার্ডিওলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় জরুরি অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এতে প্রসূতি ও জরুরি রোগীদের জেলা সদর বা রংপুরে পাঠাতে হচ্ছে, যা দরিদ্র মানুষের ব্যয় ও ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। চিকিৎসক ছাড়াও নার্স, টেকনিশিয়ান ও অফিস সহকারীসহ মোট ২১৩টি পদের মধ্যে ৮৬টি পদই বর্তমানে খালি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. দীপান্বিতা দাস বলেন, ‘চিকিৎসক-সংকটে কাজের চাপ মাত্রাতিরিক্ত। ইনডোরে রোগী দেখার পাশাপাশি আউটডোরেও বসতে হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন একাই প্রায় ১৫০ জন রোগী দেখতে হয়।’

চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসার আশায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক সময় ক্লিনিকে যেতে হয়।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিলকিস চৌধুরী বলেন, জনবলসংকট ও শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পদায়ন করা হলে সেবার মান দ্রুত উন্নত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাদুল্লাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ চিকিৎসকের পদই শূন্য, সেবা বঞ্চিত রোগীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র জনবলসংকটে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৪৫টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের মধ্যে ২৯টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, আর চিকিৎসা নিতে এসে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগীরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিনিয়ত শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকছেন। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী সেবা নিতে আসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিশেষায়িত চিকিৎসকের আটটি পদের মধ্যে সাতটিই ফাঁকা। গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন ও কার্ডিওলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় জরুরি অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এতে প্রসূতি ও জরুরি রোগীদের জেলা সদর বা রংপুরে পাঠাতে হচ্ছে, যা দরিদ্র মানুষের ব্যয় ও ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। চিকিৎসক ছাড়াও নার্স, টেকনিশিয়ান ও অফিস সহকারীসহ মোট ২১৩টি পদের মধ্যে ৮৬টি পদই বর্তমানে খালি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. দীপান্বিতা দাস বলেন, ‘চিকিৎসক-সংকটে কাজের চাপ মাত্রাতিরিক্ত। ইনডোরে রোগী দেখার পাশাপাশি আউটডোরেও বসতে হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন একাই প্রায় ১৫০ জন রোগী দেখতে হয়।’

চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসার আশায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক সময় ক্লিনিকে যেতে হয়।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিলকিস চৌধুরী বলেন, জনবলসংকট ও শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পদায়ন করা হলে সেবার মান দ্রুত উন্নত হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত