সংবাদ

মহামারি আকারে হাম-ডেঙ্গু, প্রাণহানি ছাড়াল ১২০০


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

মহামারি আকারে হাম-ডেঙ্গু, প্রাণহানি ছাড়াল ১২০০
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে হাম ও ডেঙ্গু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পাঁচ বছর বয়সী শিশু থেকে ৮০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, কেউ কেউ মারা যাচ্ছেন। টিকা দেওয়াসহ নানা পদক্ষেপের পরও আক্রান্তের সংখ্যা থামছে না।

সংক্রমণব্যাধি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ডিসেম্বর মাসে হামের মৌসুম শুরু হবে। তখন আক্রান্ত আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে শীত না পড়া পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত কমবে না। অক্টোবর মাসে আরও বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মৃত্যু বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৯৪৬ ও নিশ্চিত হামে ১০০ শিশুসহ মোট ১ হাজার ৪৬ শিশু মারা গেছে। প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে।

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত ১ হাজার ২৮২ শিশু ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৬১ শিশুসহ মোট ১ হাজার ৩৪৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৪৯৩ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৪১ শিশু। সিলেটে সন্দেহজনক হামে ১৬৫ শিশু। রাজশাহীতে ৩৮ শিশু। চট্টগ্রামে সন্দেহজনক হামে ২৭৭ শিশু ও নিশ্চিত হামে ২০ শিশু। ময়মনসিংহে সন্দেহজনক হামে ৬৪ শিশু। বরিশালে ১২২ শিশু। খুলনায় ৯৪ শিশু ও রংপুরে ২৯ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ শিশু ও নিশ্চিত হামে ২০ হাজার ৩৪৩ শিশুসহ মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮২৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬০২ শিশু। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪০ শিশু। অন্যরা এখনো দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাসাবাড়িতে চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও পাঁচজন মারা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে চারজন ও রংপুরে একজন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৭৬ জন মারা গেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭৯ জন মারা গেছে। গত আগস্ট মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ জন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৮৪ জন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন, ঢাকায় ১৯০ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২০৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৩৫ জন ও সিলেটে ৪ জন।

বয়সভিত্তিক হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের ৮৪ জন, ৬ থেকে ১০ বছরের ৬০ জন, ১১ থেকে ১৫ বছরের ৪৪ জন, ১৬ থেকে ২০ বছরের ২০৯ জন, ২১ থেকে ২৫ বছরের ১৯৫ জন, ২৬ থেকে ৩০ বছরের ২০৪ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী ৭ জনসহ নানা বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫৮ হাজার ৪০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২২ হাজার ৫৫৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত শত শত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ২০০০ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে। তবে ২০১৯ সালে সর্বপ্রথম বড় আকারে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৭৯ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে ডেঙ্গু কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই বছর আক্রান্ত হন ১ হাজার ১৯৩ জন এবং মারা যান ৭ জন। ২০২১ সালে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন এবং মারা যান ১০৫ জন।

২০২২ সালে পরিস্থিতির আবার অবনতি ঘটে। ওই বছর আক্রান্ত হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন এবং মারা যান ২৮১ জন। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই বছর আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

২০২৪ সালে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই বছর আক্রান্ত হন ১ লাখ ৮ হাজার ৩০০ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে এ যাবৎ আক্রান্ত ৫৮ হাজার ৪০০ জন এবং মারা গেছেন ১৭৬ জন।

হামের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালে দেশে হামের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ওই বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে। তবে চলতি বছরের মার্চ থেকে হাম আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।        

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মহামারি আকারে হাম-ডেঙ্গু, প্রাণহানি ছাড়াল ১২০০

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সারাদেশে হাম ও ডেঙ্গু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পাঁচ বছর বয়সী শিশু থেকে ৮০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, কেউ কেউ মারা যাচ্ছেন। টিকা দেওয়াসহ নানা পদক্ষেপের পরও আক্রান্তের সংখ্যা থামছে না।

সংক্রমণব্যাধি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ডিসেম্বর মাসে হামের মৌসুম শুরু হবে। তখন আক্রান্ত আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে শীত না পড়া পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত কমবে না। অক্টোবর মাসে আরও বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মৃত্যু বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৯৪৬ ও নিশ্চিত হামে ১০০ শিশুসহ মোট ১ হাজার ৪৬ শিশু মারা গেছে। প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে।

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত ১ হাজার ২৮২ শিশু ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৬১ শিশুসহ মোট ১ হাজার ৩৪৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৪৯৩ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৪১ শিশু। সিলেটে সন্দেহজনক হামে ১৬৫ শিশু। রাজশাহীতে ৩৮ শিশু। চট্টগ্রামে সন্দেহজনক হামে ২৭৭ শিশু ও নিশ্চিত হামে ২০ শিশু। ময়মনসিংহে সন্দেহজনক হামে ৬৪ শিশু। বরিশালে ১২২ শিশু। খুলনায় ৯৪ শিশু ও রংপুরে ২৯ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ শিশু ও নিশ্চিত হামে ২০ হাজার ৩৪৩ শিশুসহ মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮২৩ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬০২ শিশু। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪০ শিশু। অন্যরা এখনো দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাসাবাড়িতে চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও পাঁচজন মারা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে চারজন ও রংপুরে একজন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৭৬ জন মারা গেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭৯ জন মারা গেছে। গত আগস্ট মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ জন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৮৪ জন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন, ঢাকায় ১৯০ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২০৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৩৫ জন ও সিলেটে ৪ জন।

বয়সভিত্তিক হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের ৮৪ জন, ৬ থেকে ১০ বছরের ৬০ জন, ১১ থেকে ১৫ বছরের ৪৪ জন, ১৬ থেকে ২০ বছরের ২০৯ জন, ২১ থেকে ২৫ বছরের ১৯৫ জন, ২৬ থেকে ৩০ বছরের ২০৪ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী ৭ জনসহ নানা বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫৮ হাজার ৪০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২২ হাজার ৫৫৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত শত শত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ২০০০ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে। তবে ২০১৯ সালে সর্বপ্রথম বড় আকারে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৭৯ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে ডেঙ্গু কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই বছর আক্রান্ত হন ১ হাজার ১৯৩ জন এবং মারা যান ৭ জন। ২০২১ সালে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন এবং মারা যান ১০৫ জন।

২০২২ সালে পরিস্থিতির আবার অবনতি ঘটে। ওই বছর আক্রান্ত হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন এবং মারা যান ২৮১ জন। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই বছর আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

২০২৪ সালে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই বছর আক্রান্ত হন ১ লাখ ৮ হাজার ৩০০ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে এ যাবৎ আক্রান্ত ৫৮ হাজার ৪০০ জন এবং মারা গেছেন ১৭৬ জন।

হামের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালে দেশে হামের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ওই বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে। তবে চলতি বছরের মার্চ থেকে হাম আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।        



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত