হেঁ হেঁ হেঁ, দাড়ি না দাঁড়ি। দাড়ির লগে চন্দ্রবিন্দু দি আন্নেনি ক্রুসেড লাগাইবার চান! বাংলাদেশে আন্নে আর ক্রুসেড লাগাইতে পারবেন না। বাঙালি অহন বহুত সেয়ানা। হ্যাতারা প্রফিট না পাইলে ক্রুসেড কোইরতো ন’ বুইচেননি।
নাহ্ তোর মতো উড়ঝুড়ে বাঙাল নিয়ে আর পারা যাবে না। আমি বলছি শব্দটা “দাড়ি না দাঁড়ি” আর তুই দাড়ির উপর ক্রুসেড মানে ধর্মযুদ্ধ শুরু করলি।
আন্নে জানেন না মিয়া। ইউরোপে দুই খ্রিষ্টান ক্যাথোলিক আর প্রটেষ্টানরা ছত্রিশ বছর ক্রুসেড কোইরা তারপর ১৬৪০ সালে ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তির মাইধ্যমে এই ক্রুসেড বন্ধ কোরছে। আপনে আবার দাড়ি না দাঁড়ি লই মাইরপিট করবেন নি?
আরে বাঙাল, আমি বাঙলা একাডেমির এক প্রখ্যাত লেখকের লেখার পৃষ্ঠা দশে দেখলাম যে, “চুলগুলো উশকোখুশকো, দাঁড়ি কাটেননি কতদিন কে জানে।”
তো। আন্নের অসুবিধা কী? হ্যাতারা বাঙলা একাডেমি। হ্যাতারা কোনায় হ্রস্ব “”ি দিবো কোনায় র্দীঘ “ী” দিবো, এইসব আন্নেরে কোইবোনি? হ্যাতেগো প্রতিবছরের সরকারে থোক বরাদ্দ কত টিয়া দেয়, হ্যেইডা আন্নে জানেননি?
মানে কী? হ্রস্ব “”ি, র্দীঘ“ী” এর সাথে থোক বরাদ্দের কী সম্পর্ক!
মিয়া বোজেন না! আন্নেতো মিয়া বাপের নাম বেঁচি খান। এক “মাছের রাজা ইলিশ আর বাত্তির রাজা ফিলিপস” বানাই নিজেরে ইয়াবড়া চুয়ালওয়ালা ইন্টেলেকচ্যুয়াল ভাবেন! আরে মিয়া ইন্টেলেকচ্যুয়াল হোইলো বাঙলা একাডেমির চৌকোস অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ ইন্টেলেকচ্যুয়ালস, যারা কেবল ফোকলোরের ফান্ড ব্যাবহার করি মোঘল সুলতানের মতুন জীবন যাপন করের।
উঁহ্, খালি মোঘল সুলতানের কথা বলছিস, আর তোমার প্রিয় স্বয়ং বজ্জাত স্যারের কথা বলবি না, যিনি মাল খেয়ে মৃত মানুষ ছেড়ে জীবিত মানুষের রচনাবলী বের করেছে। কিন্তু ২৭ বছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম কথাশিল্পী শওকত ওসমানের রচনাবলী ছাপেননি!
এইডা আবার কী কন, আমি নিজে দেখছি বাঙলা একাডেমির মহাপরিচালক, অধ্যাপক মোহাম্মদ আযম স্যার নিজে লিখিত আদেশ দিছেন যে কথাশিল্পী শওকত ওসমান স্যারের জেষ্ঠপুত্র বুলবন ওসমানের সম্পাদনায় কথাশিল্পী শওকত ওসমানের রচনাবলী ছাপতে।
উপপরিচালক ড. এ. কে. এম. কুতুবউদ্দিন স্যার অলরেডি মিটিং করি কাম আগার।
আরে ভাই সে তো এই জুম্মা জুম্মা সাত দিনের ব্যাপার, তুই বিগত ২৭ বছরের কথা ভুলে গেলি।
হেই কথা কোইলে তো, আন্নের ফ্যাসিস্ট সরকাররে জিগান। আইঁ কোই কী, বেটার লেট দ্যান নেভার। আকামে কথা বাড়ায়েন না। বাঙলা একাডেমির মহা পরিচালক, অধ্যাপক মোহাম্মদ আযম স্যাররে ধন্যবাদদি, রচনাবলীর কাজটা শেষ করেন।
ঠিক আছে বেটার লেট দ্যান নেভার। কিন্তু তাই বলে বাঙলা একাডেমি, দাড়ি, মানে গন্ডলোম অর্থাৎ শ্মশ্রুকে দাঁড়ি বললে তাও মেনে নিতে হবে? দাঁড়ি মানে পূর্ণচ্ছেদ সূচক দন্ডায়মান রেখা। এখন দাড়ি আর দাঁড়িকে এককরে একাকার করবো?
না না, হ্যেইডা আমি কমু না। আন্নে দাড়ি আর দাঁড়িকে একাকার কইরেন না। আন্নে দাড়ি মানে গন্ডলোম অর্থাৎ শ্মশ্রুকে শ্মশ্রুই কন, আর দাঁড়িরে পূর্ণচ্ছেদ সূচক দন্ডায়মান রেখাই কন। আপনে এই দুইটারে এক কোইরেন না।
কিন্তু ভাইরে তুই যে এক করতে বারণ করছিস অথচ কলকাতায়, মুসলিম পুলিশ কর্মীরা দাড়ি রাখতে পারবে না!
বাহ্ তা হয় নাকি! পুলিশ তো সমাজের ব্যাবাগ ব্যাক্তির স্বার্থ রক্ষা করবো, হ্যারা মানবতা রক্ষা করবো, ব্যাক্তি স্বাধীনতায় হাত দিলে বাধা দিবো। আর আন্নে কন ভারতীয় সরকার পুলিশের ব্যাক্তি স্বধীনতায় হাত দিছে! দাড়ির লগে পুলিশের ডিউটির কী সম্পর্ক?
জ্বী, পুলিশের দাড়ির সাথে ডিউটির সম্পর্ক আছে রে আছে।
মানে কী? দাড়ি দেখলে চুরে আরোও চুরি করবো।
আরে না, বৃটিশ আমলে সাহেবরা দেখলো যে অনেক মৌলানা বলেন মুসলমানদের দাড়ি রাখা সুন্নত।
ঠিকই তো কয়।
ঠিকতো কয়। কি›তু বৃটিশরা দেখলো যে মুসলমান পুলিশ দাড়ি রেখেও ঘুষ খায়, উৎকোচ গ্রহণ করে। কিন্তু ইসলামে ঘুষ খাওয়া হারাম। তাই বৃটিশ সরকার ইসলামের পবিত্রতা রক্ষার জন্য পুলিশদের দাড়ি রাখা বন্ধ করলেন। কিন্তু শিখ পুলিশ দাড়ি রাখতে পারবেন।
ওম্মারে একই যাত্রায় পৃথক ফল! পুলিশ ঠিকমতো ডিউটি করের কিনা হ্যাইডা না দ্যেইক্ষা পুলিশে কোথায় দাড়ি রাখছে হ্যেইডা দেখারলাই ভারত সরকার বোই আচে! আইশ্চার্য্য! তায়লে এই যে হিন্দু ধর্মালম্বী ঋষি এ্যাকরোয়েড অরবিন্দ ঘোষ, শ্রী শ্রী রাম কৃষ্ম পরমহংস দেব হ্যাগোতো দাড়ি আছিলো?
হেঁ হেঁ উনারা যদি ভারতীয় পুলিশে যোগ দিতেন তাহলে দাড়ি কাটতে হোতো।
আমার মনে লয় এইসব দাড়ি কাটাকাটি, পুলিশের দাড়িরাখি ঘুষ খাওয়া এইসবের একটা দাঁড়ি দেওয়া উচিৎ।
ঠিক ঠিক তুই ঠিক বলেছিস, সব ঘুষ খাওয়ার, সব অন্যায়ের একটা দাঁড়ি মানে, পূর্ণচ্ছেদ সূচক দন্ডায়মান রেখা দিয়ে এবার এগুলো থামানো মানে শেষ করা উচিৎ।
আন্নে ঠিকই কোইছেন মিয়া ভাই অহন ব্যেবাগ অন্যায়ের দাঁড়ি দিবেন না কি দিবেন হ্যেইডা আপনেরা মানে জনগণই ঠিক করেন.... দাঁড়ি দিবেন না কী দিবেন?
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হেঁ হেঁ হেঁ, দাড়ি না দাঁড়ি। দাড়ির লগে চন্দ্রবিন্দু দি আন্নেনি ক্রুসেড লাগাইবার চান! বাংলাদেশে আন্নে আর ক্রুসেড লাগাইতে পারবেন না। বাঙালি অহন বহুত সেয়ানা। হ্যাতারা প্রফিট না পাইলে ক্রুসেড কোইরতো ন’ বুইচেননি।
নাহ্ তোর মতো উড়ঝুড়ে বাঙাল নিয়ে আর পারা যাবে না। আমি বলছি শব্দটা “দাড়ি না দাঁড়ি” আর তুই দাড়ির উপর ক্রুসেড মানে ধর্মযুদ্ধ শুরু করলি।
আন্নে জানেন না মিয়া। ইউরোপে দুই খ্রিষ্টান ক্যাথোলিক আর প্রটেষ্টানরা ছত্রিশ বছর ক্রুসেড কোইরা তারপর ১৬৪০ সালে ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তির মাইধ্যমে এই ক্রুসেড বন্ধ কোরছে। আপনে আবার দাড়ি না দাঁড়ি লই মাইরপিট করবেন নি?
আরে বাঙাল, আমি বাঙলা একাডেমির এক প্রখ্যাত লেখকের লেখার পৃষ্ঠা দশে দেখলাম যে, “চুলগুলো উশকোখুশকো, দাঁড়ি কাটেননি কতদিন কে জানে।”
তো। আন্নের অসুবিধা কী? হ্যাতারা বাঙলা একাডেমি। হ্যাতারা কোনায় হ্রস্ব “”ি দিবো কোনায় র্দীঘ “ী” দিবো, এইসব আন্নেরে কোইবোনি? হ্যাতেগো প্রতিবছরের সরকারে থোক বরাদ্দ কত টিয়া দেয়, হ্যেইডা আন্নে জানেননি?
মানে কী? হ্রস্ব “”ি, র্দীঘ“ী” এর সাথে থোক বরাদ্দের কী সম্পর্ক!
মিয়া বোজেন না! আন্নেতো মিয়া বাপের নাম বেঁচি খান। এক “মাছের রাজা ইলিশ আর বাত্তির রাজা ফিলিপস” বানাই নিজেরে ইয়াবড়া চুয়ালওয়ালা ইন্টেলেকচ্যুয়াল ভাবেন! আরে মিয়া ইন্টেলেকচ্যুয়াল হোইলো বাঙলা একাডেমির চৌকোস অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ ইন্টেলেকচ্যুয়ালস, যারা কেবল ফোকলোরের ফান্ড ব্যাবহার করি মোঘল সুলতানের মতুন জীবন যাপন করের।
উঁহ্, খালি মোঘল সুলতানের কথা বলছিস, আর তোমার প্রিয় স্বয়ং বজ্জাত স্যারের কথা বলবি না, যিনি মাল খেয়ে মৃত মানুষ ছেড়ে জীবিত মানুষের রচনাবলী বের করেছে। কিন্তু ২৭ বছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম কথাশিল্পী শওকত ওসমানের রচনাবলী ছাপেননি!
এইডা আবার কী কন, আমি নিজে দেখছি বাঙলা একাডেমির মহাপরিচালক, অধ্যাপক মোহাম্মদ আযম স্যার নিজে লিখিত আদেশ দিছেন যে কথাশিল্পী শওকত ওসমান স্যারের জেষ্ঠপুত্র বুলবন ওসমানের সম্পাদনায় কথাশিল্পী শওকত ওসমানের রচনাবলী ছাপতে।
উপপরিচালক ড. এ. কে. এম. কুতুবউদ্দিন স্যার অলরেডি মিটিং করি কাম আগার।
আরে ভাই সে তো এই জুম্মা জুম্মা সাত দিনের ব্যাপার, তুই বিগত ২৭ বছরের কথা ভুলে গেলি।
হেই কথা কোইলে তো, আন্নের ফ্যাসিস্ট সরকাররে জিগান। আইঁ কোই কী, বেটার লেট দ্যান নেভার। আকামে কথা বাড়ায়েন না। বাঙলা একাডেমির মহা পরিচালক, অধ্যাপক মোহাম্মদ আযম স্যাররে ধন্যবাদদি, রচনাবলীর কাজটা শেষ করেন।
ঠিক আছে বেটার লেট দ্যান নেভার। কিন্তু তাই বলে বাঙলা একাডেমি, দাড়ি, মানে গন্ডলোম অর্থাৎ শ্মশ্রুকে দাঁড়ি বললে তাও মেনে নিতে হবে? দাঁড়ি মানে পূর্ণচ্ছেদ সূচক দন্ডায়মান রেখা। এখন দাড়ি আর দাঁড়িকে এককরে একাকার করবো?
না না, হ্যেইডা আমি কমু না। আন্নে দাড়ি আর দাঁড়িকে একাকার কইরেন না। আন্নে দাড়ি মানে গন্ডলোম অর্থাৎ শ্মশ্রুকে শ্মশ্রুই কন, আর দাঁড়িরে পূর্ণচ্ছেদ সূচক দন্ডায়মান রেখাই কন। আপনে এই দুইটারে এক কোইরেন না।
কিন্তু ভাইরে তুই যে এক করতে বারণ করছিস অথচ কলকাতায়, মুসলিম পুলিশ কর্মীরা দাড়ি রাখতে পারবে না!
বাহ্ তা হয় নাকি! পুলিশ তো সমাজের ব্যাবাগ ব্যাক্তির স্বার্থ রক্ষা করবো, হ্যারা মানবতা রক্ষা করবো, ব্যাক্তি স্বাধীনতায় হাত দিলে বাধা দিবো। আর আন্নে কন ভারতীয় সরকার পুলিশের ব্যাক্তি স্বধীনতায় হাত দিছে! দাড়ির লগে পুলিশের ডিউটির কী সম্পর্ক?
জ্বী, পুলিশের দাড়ির সাথে ডিউটির সম্পর্ক আছে রে আছে।
মানে কী? দাড়ি দেখলে চুরে আরোও চুরি করবো।
আরে না, বৃটিশ আমলে সাহেবরা দেখলো যে অনেক মৌলানা বলেন মুসলমানদের দাড়ি রাখা সুন্নত।
ঠিকই তো কয়।
ঠিকতো কয়। কি›তু বৃটিশরা দেখলো যে মুসলমান পুলিশ দাড়ি রেখেও ঘুষ খায়, উৎকোচ গ্রহণ করে। কিন্তু ইসলামে ঘুষ খাওয়া হারাম। তাই বৃটিশ সরকার ইসলামের পবিত্রতা রক্ষার জন্য পুলিশদের দাড়ি রাখা বন্ধ করলেন। কিন্তু শিখ পুলিশ দাড়ি রাখতে পারবেন।
ওম্মারে একই যাত্রায় পৃথক ফল! পুলিশ ঠিকমতো ডিউটি করের কিনা হ্যাইডা না দ্যেইক্ষা পুলিশে কোথায় দাড়ি রাখছে হ্যেইডা দেখারলাই ভারত সরকার বোই আচে! আইশ্চার্য্য! তায়লে এই যে হিন্দু ধর্মালম্বী ঋষি এ্যাকরোয়েড অরবিন্দ ঘোষ, শ্রী শ্রী রাম কৃষ্ম পরমহংস দেব হ্যাগোতো দাড়ি আছিলো?
হেঁ হেঁ উনারা যদি ভারতীয় পুলিশে যোগ দিতেন তাহলে দাড়ি কাটতে হোতো।
আমার মনে লয় এইসব দাড়ি কাটাকাটি, পুলিশের দাড়িরাখি ঘুষ খাওয়া এইসবের একটা দাঁড়ি দেওয়া উচিৎ।
ঠিক ঠিক তুই ঠিক বলেছিস, সব ঘুষ খাওয়ার, সব অন্যায়ের একটা দাঁড়ি মানে, পূর্ণচ্ছেদ সূচক দন্ডায়মান রেখা দিয়ে এবার এগুলো থামানো মানে শেষ করা উচিৎ।
আন্নে ঠিকই কোইছেন মিয়া ভাই অহন ব্যেবাগ অন্যায়ের দাঁড়ি দিবেন না কি দিবেন হ্যেইডা আপনেরা মানে জনগণই ঠিক করেন.... দাঁড়ি দিবেন না কী দিবেন?
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন