নদী সিরিজ
ইকবাল হোসেন বুলবুল
নদী ভালোবাসে সঙ্গীত
নদী ভালোবাসে ছন্দ
নদীর বাড়ি যাবো...
নদীর জলে কষ্ট যে যায় ধুয়ে (দেয়) যায়
নদীর জলে দুংখ্য যে দেয় মুছে (দেয়) যায়
নদীর বাড়ি যাবো...
নদী আমার গল্প শোনে (নদী
নদী আমায় গল্প শোনায়) নদী
নদীর বাড়ি যাবো...
নদীর কাছে নিদ্রা থাকে
নদীর কাছে স্বপ্ন থাকে
নদীর বাড়ি যাবো...
নদী জানে মনের কথা
নদী জানে প্রাণের ব্যথা
নদীর বাড়ি যাবো...
নদী ছাড়া শান্তি যে কই
নদী ছাড়া বিনিদ্র রই
নদীর বাড়ি যাবো...
নদীর কাছে জীবন রাখা
নদী আমার প্রাণের সখা
নদীর বাড়ি যাবো...
(খ)
পথের ক্লান্তি ভুলে গিয়ে
স্বপ্ন আঁকি দু-চোখ ভরে
নদীর কাছে এলে...
জীবন হাসে মুচকি হাসি
ভালোবাসি জগতটাকে
নদীর কাছে এলে...
সুরে জাগে গানের কলি
কুসুম ফোটে হাজার রঙে
নদীর কাছে এলে...
(গ)
সময় আমার উদাস উদাস
সময় আমার পাগলা বাতাস
যদি না রই নদীর পাশে...
দিন-যে থাকে দুঃখমাখা
রাত-যে থাকে কষ্টে আঁকা
যদি না রই নদীর পাশে...
পাইনা আমি ছবির দেখা
গানের খাতা শূন্য ফাঁকা
যদি না রই নদীর পাশে...
সবুজ আমার অগ্নি পোডা
শস্য-মাঠে দারুণ খরা
যদি না রই নদীর পাশে...
( ঘ)
তার কূলেতে আকাশ দেখি
তার জলেতে নিজকে সাজাই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
তারে ধরে কথা বলি
তারে ধরে শব্দ বানাই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
তার হাসিতে প্রেমকে খুঁজি
তার বুকেতে নিজকে লুকাই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
তার ঠোঁটেতে নিজকে ধরি
তার বুলেতে আত্মা জুড়াই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
তার ছোঁয়াতে অঙ্গ জাগে
তার ছোঁয়াতে মনকে জাগাই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
(ঙ)
নদীর জলে ভাসাই ভেলা
নদীর সাথে সকল খেলা
তারে আমি ভালোবাসি...
নদীর জলে কুসুম ফুটাই
নদীর জলে ফসল ফলাই
তারে আমি ভালোবাসি...
(চ)
কইতে শিখাত গাইতে শিখায়
থাকতে শিখায় যাইতে শিখায়
নদী আমায় সইতে শিখায়
ধরতে শিখায় ছাড়তে শিখায়
মরতে শিখায় বাঁচতে শিখায়
নদী আমায় বইতে শিখায়
(ছ)
ঝড়বাদলে?
রাত-বিরাতে?
কাক-ডাকা ভোর?
মধ্য-দূপুর?
কেউ রাখে না আমায় ধরে
তোমার পানে ছুটি...
(জ)
হাজার কথার মালা নিয়ে
আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে
নদীর কাছে যাই...
পালক ভরা রৌদ্র নিয়ে
হৃদয় ভরা বৃষ্টি নিয়ে
নদীর কাছে যাই...
বুকে জমা জোছনা নিয়ে
ঠোঁটে আঁকা কাব্য নিয়ে
নদীর কাছে যাই...
সাতটি সুরের নৃত্য নিয়ে
সাতটি রঙের ছবি নিয়ে
নদীর কাছে যাই...
(ঝ)
১.
দরজা জানালা খুলে নদী আসে ঘরের ভিতর। ঘর ভরে রেখে দেয় ঈশ্বরের গন্ধ।
তার ঢেউয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখি আমার দুচোখ। দেখি লাল নীল ঘুড়ি উড়ে। দলে দলে নাচে প্রজাপতি।
আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া ঘোষণা হয়। রাস্তায় মিছিল করে পাপীদের দল...
২.
নদী আসে ঠোঁটে নিয়ে জবা জুঁই, আরো কতো শতশত ফুল। নদী আসে জলের পালকে লিখা কাব্য-কথা নিয়ে। নদী আসে কণ্ঠে নিয়ে জীবনের গান।
৩.
নদীর বুকে চন্দ্র সূর্য । নদীর গায়ে চারটি ঋতু। নদীর ঠোঁটে সাতটি সুর। নদীর কাছে সাতটি রঙ।
৪.
বুকের বাঁ দিকে থাকে নদী । ডানহাত রাখি তার জলের ভিতর। আমার এ-হাত যেনো প্রদীপের সলতে। তারে ছাড়া আলোহীন, যেনো মৃত লাশ...
৫.
বারোমাস, সে যেনো যৌবন রাখে ধরে। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির ধারা থাকে যেনো তার বুক জুড়ে।
৬.
আমি তার জলে রাখি ফসলী বৃক্ষের বীজ; নক্ষত্রের চারা। স্বপ্নমাখা শব্দ। রাখি গ্রীষ্ম, বর্ষা। রাখি শরৎ হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
৭.
নদীর জলে আঁকি আমার পরাণ পাখি। নদীর জলে খোদাই করি প্রাণের অক্ষর। আমি তো আর কোথাও যাই না; নদীর বুকে জমা করি আমার মৃত্যু আমার জীবন।
৮.
নদীবক্ষে ডুব দেই। সে-ও যেনো তৃষ্ণায় থাকে, বুক-ভরা জল নিয়ে।
আমরা একে অন্যের ঠোঁটে বাঁশি হয়ে বাজি। মাছের চোখে জ্বলে ওঠে তারার আলো...
৯.
তার ঢেউয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখি আমার দু-চোখ। দেখি লাল নীল ঘুড়ি উড়ে। দলে দলে নাচে প্রজাপতি। কানে আসে মধুর আহ্বান। আমি তার ইবাদতে মশগুল হই।
ফতোয়া ঘোষণা হয় আমার বিরুদ্ধে। রাস্তায় মিছিল করে পাপীদের দল...
১০.
দূরে
পরিচিতি: ইকবাল হোসেন বুলবুল বিশ শতকের নব্বইয়ের দশকের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, গীতিকার ও সংগঠক। প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৩।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নদী সিরিজ
ইকবাল হোসেন বুলবুল
নদী ভালোবাসে সঙ্গীত
নদী ভালোবাসে ছন্দ
নদীর বাড়ি যাবো...
নদীর জলে কষ্ট যে যায় ধুয়ে (দেয়) যায়
নদীর জলে দুংখ্য যে দেয় মুছে (দেয়) যায়
নদীর বাড়ি যাবো...
নদী আমার গল্প শোনে (নদী
নদী আমায় গল্প শোনায়) নদী
নদীর বাড়ি যাবো...
নদীর কাছে নিদ্রা থাকে
নদীর কাছে স্বপ্ন থাকে
নদীর বাড়ি যাবো...
নদী জানে মনের কথা
নদী জানে প্রাণের ব্যথা
নদীর বাড়ি যাবো...
নদী ছাড়া শান্তি যে কই
নদী ছাড়া বিনিদ্র রই
নদীর বাড়ি যাবো...
নদীর কাছে জীবন রাখা
নদী আমার প্রাণের সখা
নদীর বাড়ি যাবো...
(খ)
পথের ক্লান্তি ভুলে গিয়ে
স্বপ্ন আঁকি দু-চোখ ভরে
নদীর কাছে এলে...
জীবন হাসে মুচকি হাসি
ভালোবাসি জগতটাকে
নদীর কাছে এলে...
সুরে জাগে গানের কলি
কুসুম ফোটে হাজার রঙে
নদীর কাছে এলে...
(গ)
সময় আমার উদাস উদাস
সময় আমার পাগলা বাতাস
যদি না রই নদীর পাশে...
দিন-যে থাকে দুঃখমাখা
রাত-যে থাকে কষ্টে আঁকা
যদি না রই নদীর পাশে...
পাইনা আমি ছবির দেখা
গানের খাতা শূন্য ফাঁকা
যদি না রই নদীর পাশে...
সবুজ আমার অগ্নি পোডা
শস্য-মাঠে দারুণ খরা
যদি না রই নদীর পাশে...
( ঘ)
তার কূলেতে আকাশ দেখি
তার জলেতে নিজকে সাজাই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
তারে ধরে কথা বলি
তারে ধরে শব্দ বানাই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
তার হাসিতে প্রেমকে খুঁজি
তার বুকেতে নিজকে লুকাই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
তার ঠোঁটেতে নিজকে ধরি
তার বুলেতে আত্মা জুড়াই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
তার ছোঁয়াতে অঙ্গ জাগে
তার ছোঁয়াতে মনকে জাগাই
সে যে আমার হিয়ার আপন...
(ঙ)
নদীর জলে ভাসাই ভেলা
নদীর সাথে সকল খেলা
তারে আমি ভালোবাসি...
নদীর জলে কুসুম ফুটাই
নদীর জলে ফসল ফলাই
তারে আমি ভালোবাসি...
(চ)
কইতে শিখাত গাইতে শিখায়
থাকতে শিখায় যাইতে শিখায়
নদী আমায় সইতে শিখায়
ধরতে শিখায় ছাড়তে শিখায়
মরতে শিখায় বাঁচতে শিখায়
নদী আমায় বইতে শিখায়
(ছ)
ঝড়বাদলে?
রাত-বিরাতে?
কাক-ডাকা ভোর?
মধ্য-দূপুর?
কেউ রাখে না আমায় ধরে
তোমার পানে ছুটি...
(জ)
হাজার কথার মালা নিয়ে
আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে
নদীর কাছে যাই...
পালক ভরা রৌদ্র নিয়ে
হৃদয় ভরা বৃষ্টি নিয়ে
নদীর কাছে যাই...
বুকে জমা জোছনা নিয়ে
ঠোঁটে আঁকা কাব্য নিয়ে
নদীর কাছে যাই...
সাতটি সুরের নৃত্য নিয়ে
সাতটি রঙের ছবি নিয়ে
নদীর কাছে যাই...
(ঝ)
১.
দরজা জানালা খুলে নদী আসে ঘরের ভিতর। ঘর ভরে রেখে দেয় ঈশ্বরের গন্ধ।
তার ঢেউয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখি আমার দুচোখ। দেখি লাল নীল ঘুড়ি উড়ে। দলে দলে নাচে প্রজাপতি।
আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া ঘোষণা হয়। রাস্তায় মিছিল করে পাপীদের দল...
২.
নদী আসে ঠোঁটে নিয়ে জবা জুঁই, আরো কতো শতশত ফুল। নদী আসে জলের পালকে লিখা কাব্য-কথা নিয়ে। নদী আসে কণ্ঠে নিয়ে জীবনের গান।
৩.
নদীর বুকে চন্দ্র সূর্য । নদীর গায়ে চারটি ঋতু। নদীর ঠোঁটে সাতটি সুর। নদীর কাছে সাতটি রঙ।
৪.
বুকের বাঁ দিকে থাকে নদী । ডানহাত রাখি তার জলের ভিতর। আমার এ-হাত যেনো প্রদীপের সলতে। তারে ছাড়া আলোহীন, যেনো মৃত লাশ...
৫.
বারোমাস, সে যেনো যৌবন রাখে ধরে। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির ধারা থাকে যেনো তার বুক জুড়ে।
৬.
আমি তার জলে রাখি ফসলী বৃক্ষের বীজ; নক্ষত্রের চারা। স্বপ্নমাখা শব্দ। রাখি গ্রীষ্ম, বর্ষা। রাখি শরৎ হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
৭.
নদীর জলে আঁকি আমার পরাণ পাখি। নদীর জলে খোদাই করি প্রাণের অক্ষর। আমি তো আর কোথাও যাই না; নদীর বুকে জমা করি আমার মৃত্যু আমার জীবন।
৮.
নদীবক্ষে ডুব দেই। সে-ও যেনো তৃষ্ণায় থাকে, বুক-ভরা জল নিয়ে।
আমরা একে অন্যের ঠোঁটে বাঁশি হয়ে বাজি। মাছের চোখে জ্বলে ওঠে তারার আলো...
৯.
তার ঢেউয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখি আমার দু-চোখ। দেখি লাল নীল ঘুড়ি উড়ে। দলে দলে নাচে প্রজাপতি। কানে আসে মধুর আহ্বান। আমি তার ইবাদতে মশগুল হই।
ফতোয়া ঘোষণা হয় আমার বিরুদ্ধে। রাস্তায় মিছিল করে পাপীদের দল...
১০.
দূরে
পরিচিতি: ইকবাল হোসেন বুলবুল বিশ শতকের নব্বইয়ের দশকের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, গীতিকার ও সংগঠক। প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৩।

আপনার মতামত লিখুন