সংবাদ

বিলুপ্তির শঙ্কায় শতবর্ষের ঐতিহ্য


প্রতিনিধি, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)
প্রতিনিধি, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

বিলুপ্তির শঙ্কায় শতবর্ষের ঐতিহ্য
ইট-সিমেন্টের আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার মাটির ঘর, বিলুপ্তির শঙ্কায় শতবর্ষের ঐতিহ্য

সিরাজগঞ্জের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। একসময় গ্রামের পর গ্রামজুড়ে দেখা যেত মাটি, বাঁশ, খড় ও কাঠ দিয়ে তৈরি এসব বসতঘর। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কম খরচে নির্মাণযোগ্য এবং গরমে শীতল ও শীতে উষ্ণ থাকার কারণে মাটির ঘরের ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া, মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পাকা বাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়ার ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার এই চিরচেনা ঐতিহ্য।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দশক আগেও যেখানে অধিকাংশ পরিবার মাটির ঘরে বসবাস করত, সেখানে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে টিনশেড, আধাপাকা ও বহুতল পাকা ভবন। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে মাটির ঘর এখন অনেকটাই ইতিহাসের অংশ।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় গ্রামীণ জীবনের প্রতীক ছিল মাটির ঘর। কৃষিনির্ভর সমাজে মানুষের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত থাকলেও নিজস্ব জমির মাটি ব্যবহার করে সহজেই এসব ঘর নির্মাণ করা যেত। পরিবার ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কয়েক দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যেত একটি বসতঘর। এসব ঘরের দেয়াল ছিল পুরু, ফলে প্রচণ্ড গরমেও ঘরের ভেতর থাকত শীতল পরিবেশ। আবার শীতকালে বাইরের ঠান্ডা সহজে প্রবেশ করতে না পারায় আরামদায়ক পরিবেশ বজায় থাকত।

তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আড়াঙ্গাইল গ্রামে এখনো শত বছরের পুরোনো কয়েকটি মাটির ঘর টিকে আছে। পাশাপাশি দুটি পরিবারের তিনটি বসতঘর আজও অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। এসব ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন রহিম উদ্দিন (৬৫) ও হানিফ মোল্লা (৬৭)।

রহিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের বাপ-দাদার আমলের এই ঘর এখনো ব্যবহার করছি। নিয়মিত মাটি দিয়ে সংস্কার করায় ঘরগুলো টিকে আছে। আগে গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মাটির ঘর ছিল। এখন হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া আর কিছুই নেই।”

হানিফ মোল্লা বলেন, “মাটির ঘরে বসবাস অনেক আরামদায়ক। গরমে ঠান্ডা আর শীতে উষ্ণ থাকে। বন্যা বা ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এ ধরনের ঘর বহু বছর টিকে থাকে। কিন্তু এখন মানুষ আধুনিক বাড়ি নির্মাণে বেশি আগ্রহী হওয়ায় মাটির ঘর বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।”

রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের মৌহার গ্রামের বাসিন্দা আসলাম জানান, প্রায় ৬০ বছর আগে তিনি একটি মাটির ঘর নির্মাণ করেছিলেন। তখন খরচ হয়েছিল মাত্র ছয় হাজার টাকা। বর্তমানে একই ধরনের ঘর নির্মাণ করতে গেলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে। তাছাড়া দক্ষ কারিগরেরও সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি সেখ বলেন, “রায়গঞ্জ ও তাড়াশের বিভিন্ন গ্রামে এখনো অনেক পরিবার পূর্বপুরুষদের তৈরি মাটির ঘরে বাস করছে। প্রতিবছর বর্ষার আগে কিছু মাটি দিয়ে দেয়াল মেরামত করেই তারা ঘরগুলো টিকিয়ে রাখছেন। তবে নতুন করে কেউ আর মাটির ঘর নির্মাণ করছে না।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিবেশবান্ধব এবং প্রাকৃতিকভাবে অনেকটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক মর্যাদা ও আধুনিক জীবনধারার প্রতীক হিসেবে পাকা বাড়ি নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে অনেক পরিবার পুরোনো মাটির ঘর ভেঙে সেখানে ইট-সিমেন্টের স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে একদিকে যেমন হারিয়ে যাচ্ছে একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী, অন্যদিকে বিলীন হচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসাক বলেন, রায়গঞ্জ ও তাড়াশ অঞ্চলের অনেক গ্রামে এখনো মাটির ঘর রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এসব ঘর সংস্কার করে বসবাস করছেন। তবে প্রতি বছরই এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো কিছু মাটির ঘর দেখা যায়। কিন্তু মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার ধরনও বদলেছে। আধুনিক ও টেকসই আবাসনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘরের অস্তিত্ব ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।”

ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

স্থাপত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক গবেষকদের মতে, মাটির ঘর শুধু একটি আবাসস্থল নয়; এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবনধারা এবং ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু উপযোগী এই নির্মাণ পদ্ধতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে মাটির ঘর কেবল বইয়ের পাতা ও পুরোনো ছবিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

একসময় গ্রামীণ জনপদের পরিচয় বহনকারী মাটির ঘর আজ আধুনিকতার প্রবল স্রোতে হারিয়ে যাওয়ার পথে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পাকা ভবনের সংখ্যা বাড়লেও বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই অনন্য স্মারক সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

তাদের মতে, মাটির ঘর রক্ষা করা মানে শুধু একটি বসতঘর সংরক্ষণ করা নয়, বরং সংরক্ষণ করা বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য, স্মৃতি ও গ্রামীণ সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিলুপ্তির শঙ্কায় শতবর্ষের ঐতিহ্য

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। একসময় গ্রামের পর গ্রামজুড়ে দেখা যেত মাটি, বাঁশ, খড় ও কাঠ দিয়ে তৈরি এসব বসতঘর। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কম খরচে নির্মাণযোগ্য এবং গরমে শীতল ও শীতে উষ্ণ থাকার কারণে মাটির ঘরের ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া, মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পাকা বাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়ার ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার এই চিরচেনা ঐতিহ্য।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দশক আগেও যেখানে অধিকাংশ পরিবার মাটির ঘরে বসবাস করত, সেখানে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে টিনশেড, আধাপাকা ও বহুতল পাকা ভবন। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে মাটির ঘর এখন অনেকটাই ইতিহাসের অংশ।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় গ্রামীণ জীবনের প্রতীক ছিল মাটির ঘর। কৃষিনির্ভর সমাজে মানুষের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত থাকলেও নিজস্ব জমির মাটি ব্যবহার করে সহজেই এসব ঘর নির্মাণ করা যেত। পরিবার ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কয়েক দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যেত একটি বসতঘর। এসব ঘরের দেয়াল ছিল পুরু, ফলে প্রচণ্ড গরমেও ঘরের ভেতর থাকত শীতল পরিবেশ। আবার শীতকালে বাইরের ঠান্ডা সহজে প্রবেশ করতে না পারায় আরামদায়ক পরিবেশ বজায় থাকত।

তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আড়াঙ্গাইল গ্রামে এখনো শত বছরের পুরোনো কয়েকটি মাটির ঘর টিকে আছে। পাশাপাশি দুটি পরিবারের তিনটি বসতঘর আজও অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। এসব ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন রহিম উদ্দিন (৬৫) ও হানিফ মোল্লা (৬৭)।

রহিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের বাপ-দাদার আমলের এই ঘর এখনো ব্যবহার করছি। নিয়মিত মাটি দিয়ে সংস্কার করায় ঘরগুলো টিকে আছে। আগে গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মাটির ঘর ছিল। এখন হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া আর কিছুই নেই।”

হানিফ মোল্লা বলেন, “মাটির ঘরে বসবাস অনেক আরামদায়ক। গরমে ঠান্ডা আর শীতে উষ্ণ থাকে। বন্যা বা ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এ ধরনের ঘর বহু বছর টিকে থাকে। কিন্তু এখন মানুষ আধুনিক বাড়ি নির্মাণে বেশি আগ্রহী হওয়ায় মাটির ঘর বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।”

রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের মৌহার গ্রামের বাসিন্দা আসলাম জানান, প্রায় ৬০ বছর আগে তিনি একটি মাটির ঘর নির্মাণ করেছিলেন। তখন খরচ হয়েছিল মাত্র ছয় হাজার টাকা। বর্তমানে একই ধরনের ঘর নির্মাণ করতে গেলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে। তাছাড়া দক্ষ কারিগরেরও সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি সেখ বলেন, “রায়গঞ্জ ও তাড়াশের বিভিন্ন গ্রামে এখনো অনেক পরিবার পূর্বপুরুষদের তৈরি মাটির ঘরে বাস করছে। প্রতিবছর বর্ষার আগে কিছু মাটি দিয়ে দেয়াল মেরামত করেই তারা ঘরগুলো টিকিয়ে রাখছেন। তবে নতুন করে কেউ আর মাটির ঘর নির্মাণ করছে না।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিবেশবান্ধব এবং প্রাকৃতিকভাবে অনেকটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক মর্যাদা ও আধুনিক জীবনধারার প্রতীক হিসেবে পাকা বাড়ি নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে অনেক পরিবার পুরোনো মাটির ঘর ভেঙে সেখানে ইট-সিমেন্টের স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে একদিকে যেমন হারিয়ে যাচ্ছে একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী, অন্যদিকে বিলীন হচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসাক বলেন, রায়গঞ্জ ও তাড়াশ অঞ্চলের অনেক গ্রামে এখনো মাটির ঘর রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এসব ঘর সংস্কার করে বসবাস করছেন। তবে প্রতি বছরই এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো কিছু মাটির ঘর দেখা যায়। কিন্তু মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার ধরনও বদলেছে। আধুনিক ও টেকসই আবাসনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘরের অস্তিত্ব ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।”

ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

স্থাপত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক গবেষকদের মতে, মাটির ঘর শুধু একটি আবাসস্থল নয়; এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবনধারা এবং ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু উপযোগী এই নির্মাণ পদ্ধতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে মাটির ঘর কেবল বইয়ের পাতা ও পুরোনো ছবিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

একসময় গ্রামীণ জনপদের পরিচয় বহনকারী মাটির ঘর আজ আধুনিকতার প্রবল স্রোতে হারিয়ে যাওয়ার পথে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পাকা ভবনের সংখ্যা বাড়লেও বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই অনন্য স্মারক সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

তাদের মতে, মাটির ঘর রক্ষা করা মানে শুধু একটি বসতঘর সংরক্ষণ করা নয়, বরং সংরক্ষণ করা বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য, স্মৃতি ও গ্রামীণ সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত