যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর লন্ডনের সুরক্ষিত ভল্ট থেকে প্রায় ৪৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকার বিশাল সোনার মজুত নিউইয়র্কে সরিয়ে নেওয়ার জোর আলোচনা চলছে। ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ টন সোনা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে বন্দি রয়েছে।
এ বিপুল পরিমাণ সোনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দেশটির সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরই এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়, যা গড়ায় যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এবার দুই পক্ষের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতার সুবাতাস বইছে।
গত বৃহস্পতিবার আলোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানিয়েছেন যে সোনা স্থানান্তরের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্তের পথে রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি পুরোপুরি কার্যকর করতে কারিগরি কিছু জটিল বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে এই সোনা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে স্থানান্তরিত হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে ভেনেজুয়েলার সোনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের চিরতরে অবসান ঘটবে এবং এটি হবে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকার ও বিরোধীদের আলোচনার প্রথম বাস্তব কোনো বড় সাফল্য।
এদিকে, সমাজতান্ত্রিক সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিরোধীরা শুরু থেকেই সোনা সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছে। যেন ভবিষ্যতে এই বিপুল সম্পদ কেউ অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য সম্ভাব্য চুক্তিতে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফলে সোনা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হলেও তা ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরাসরি একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। এই সোনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক তদারকি বহাল থাকবে, যাতে সরকার চাইলেই এককভাবে তা বিক্রি বা যত্রতত্র ব্যবহার করতে না পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ সক্রিয় হয়। এরপর ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনা করায় যুক্তরাষ্ট্রও ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।
একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লন্ডনের ভল্ট থেকে নিউইয়র্কে সোনার এই বিশাল চালান স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর লন্ডনের সুরক্ষিত ভল্ট থেকে প্রায় ৪৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকার বিশাল সোনার মজুত নিউইয়র্কে সরিয়ে নেওয়ার জোর আলোচনা চলছে। ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ টন সোনা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে বন্দি রয়েছে।
এ বিপুল পরিমাণ সোনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দেশটির সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরই এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়, যা গড়ায় যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এবার দুই পক্ষের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতার সুবাতাস বইছে।
গত বৃহস্পতিবার আলোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানিয়েছেন যে সোনা স্থানান্তরের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্তের পথে রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি পুরোপুরি কার্যকর করতে কারিগরি কিছু জটিল বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে এই সোনা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে স্থানান্তরিত হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে ভেনেজুয়েলার সোনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের চিরতরে অবসান ঘটবে এবং এটি হবে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকার ও বিরোধীদের আলোচনার প্রথম বাস্তব কোনো বড় সাফল্য।
এদিকে, সমাজতান্ত্রিক সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিরোধীরা শুরু থেকেই সোনা সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছে। যেন ভবিষ্যতে এই বিপুল সম্পদ কেউ অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য সম্ভাব্য চুক্তিতে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফলে সোনা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হলেও তা ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরাসরি একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। এই সোনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক তদারকি বহাল থাকবে, যাতে সরকার চাইলেই এককভাবে তা বিক্রি বা যত্রতত্র ব্যবহার করতে না পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ সক্রিয় হয়। এরপর ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনা করায় যুক্তরাষ্ট্রও ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।
একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লন্ডনের ভল্ট থেকে নিউইয়র্কে সোনার এই বিশাল চালান স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

আপনার মতামত লিখুন