গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান একসময় ছিল মানুষের অন্যতম প্রিয় বিনোদন ও প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার জায়গা। এখন অব্যবস্থাপনা, অযত্ন ও নিরাপত্তাহীনতায় সেই উদ্যানের জৌলুশ হারাচ্ছে। প্রতিদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে ১০০ থেকে ১৫০-তে নেমে এসেছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় দুই হাজার একর আয়তনের এই উদ্যানের বড় সমস্যা হচ্ছে- নিরাপত্তা। অভিযোগ রয়েছে, উদ্যানে প্রায়েই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। শৌচাগারগুলোর অধিকাংশই ব্যবহার অনুপযোগী। বিশ্রামাগার, শিশুপার্ক, রাস্তা ও কটেজগুলোরও বেহাল দশা। লেকের পানি ময়লা-আবর্জনায় ভরা। নেই পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা। ফলে দূর থেকে আসা দর্শনার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকট রয়েছে। উদ্যানের ছয়টি গেটের মধ্যে একটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছে। আমরা বলব, জনবল সংকট কোনো স্থাপনা ও সেবার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার একমাত্র কারণ হতে পারে না। যে লোকবল আছে তার সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।
বলা হচ্ছে, বেসরকারি রিসোর্ট বেড়ে যাওয়ায় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে দর্শনার্থী কমেছে। আমার বলতে চাই, এটা দায় এড়ানোর বক্তব্য। একটি জাতীয় উদ্যানের মূল আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক পরিবেশ। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ আবারও সেখানে যেতে আগ্রহী হবে।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানকে শুধু রাজস্ব আয়ের জায়গা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি নগরবাসীর জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার একটি সুযোগ। তাই সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। শৌচাগার ও বিশ্রামাগার সংস্কার করতে হবে। পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। লেক পরিষ্কারসহ জরুরি সংস্কারকাজ দ্রুত করা প্রয়োজন। সঠিক ব্যবস্থাপনায় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান আবারও তার হারানো আকর্ষণ ফিরে পেতে পারে।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান একসময় ছিল মানুষের অন্যতম প্রিয় বিনোদন ও প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার জায়গা। এখন অব্যবস্থাপনা, অযত্ন ও নিরাপত্তাহীনতায় সেই উদ্যানের জৌলুশ হারাচ্ছে। প্রতিদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে ১০০ থেকে ১৫০-তে নেমে এসেছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় দুই হাজার একর আয়তনের এই উদ্যানের বড় সমস্যা হচ্ছে- নিরাপত্তা। অভিযোগ রয়েছে, উদ্যানে প্রায়েই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। শৌচাগারগুলোর অধিকাংশই ব্যবহার অনুপযোগী। বিশ্রামাগার, শিশুপার্ক, রাস্তা ও কটেজগুলোরও বেহাল দশা। লেকের পানি ময়লা-আবর্জনায় ভরা। নেই পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা। ফলে দূর থেকে আসা দর্শনার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকট রয়েছে। উদ্যানের ছয়টি গেটের মধ্যে একটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছে। আমরা বলব, জনবল সংকট কোনো স্থাপনা ও সেবার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার একমাত্র কারণ হতে পারে না। যে লোকবল আছে তার সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।
বলা হচ্ছে, বেসরকারি রিসোর্ট বেড়ে যাওয়ায় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে দর্শনার্থী কমেছে। আমার বলতে চাই, এটা দায় এড়ানোর বক্তব্য। একটি জাতীয় উদ্যানের মূল আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক পরিবেশ। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ আবারও সেখানে যেতে আগ্রহী হবে।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানকে শুধু রাজস্ব আয়ের জায়গা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি নগরবাসীর জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার একটি সুযোগ। তাই সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। শৌচাগার ও বিশ্রামাগার সংস্কার করতে হবে। পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। লেক পরিষ্কারসহ জরুরি সংস্কারকাজ দ্রুত করা প্রয়োজন। সঠিক ব্যবস্থাপনায় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান আবারও তার হারানো আকর্ষণ ফিরে পেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন