সংবাদ

আমেরিকার বদলে হংকংয়ে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ, চলছে তদন্ত


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

আমেরিকার বদলে হংকংয়ে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ, চলছে তদন্ত
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া থেকে সংস্কার কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পথে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম (স্টিলেথ) এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিছু যন্ত্রাংশের চালান রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা থাকলেও চালানের মূল গতিপথ বদলে সেটি সরাসরি চলে গেছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ গোপন এই প্রযুক্তি চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে পড়তে পারে–এমন আশঙ্কায় পেন্টাগন ও মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম পলিটিকো ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, হারানো চালানের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি হলো এফ-৩৫ বিমানের ‘ক্যানোপি’ বা ককপিটের স্বচ্ছ গম্বুজাকৃতির প্রচ্ছদ। এটি সাধারণ কোনো গ্লাস নয়; এর ওপর রাডার তরঙ্গ শোষণকারী বিশেষ কেমিক্যালের সূক্ষ্ম প্রলেপ থাকে, যা শত্রুপক্ষের রাডারে বিমানকে আড়াল রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে।

জানা গেছে, বিমানটির মূল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের নিবন্ধিত এক সরবরাহকারীর মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা ছিল যন্ত্রাংশগুলোর। তবে মাঝপথেই কৌশলগতভাবে চালানের দিক পরিবর্তন করে তা হংকংয়ে পাঠানো হয়। যন্ত্রাংশগুলো বর্তমানে ঠিক কার হেফাজতে রয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত না হলেও এগুলো চীনা গোয়েন্দা বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করছেন।

বিষয়টি সামনে আসার পর গত জুনেই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ও পররাষ্ট্র দপ্তর যৌথভাবে কংগ্রেসের প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিকে ব্রিফ করা শুরু করে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে মাঠে নেমেছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল। এফ-৩৫ জয়েন্ট প্রোগ্রাম অফিস জানিয়েছে, গায়েব হওয়া যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারে আন্তর্জাতিক মিত্র ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বহরে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০টির মতো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার কারণেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন মারাত্মক গলদ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আমেরিকার বদলে হংকংয়ে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ, চলছে তদন্ত

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অস্ট্রেলিয়া থেকে সংস্কার কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পথে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম (স্টিলেথ) এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিছু যন্ত্রাংশের চালান রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা থাকলেও চালানের মূল গতিপথ বদলে সেটি সরাসরি চলে গেছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ গোপন এই প্রযুক্তি চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে পড়তে পারে–এমন আশঙ্কায় পেন্টাগন ও মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম পলিটিকো ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, হারানো চালানের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি হলো এফ-৩৫ বিমানের ‘ক্যানোপি’ বা ককপিটের স্বচ্ছ গম্বুজাকৃতির প্রচ্ছদ। এটি সাধারণ কোনো গ্লাস নয়; এর ওপর রাডার তরঙ্গ শোষণকারী বিশেষ কেমিক্যালের সূক্ষ্ম প্রলেপ থাকে, যা শত্রুপক্ষের রাডারে বিমানকে আড়াল রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে।

জানা গেছে, বিমানটির মূল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের নিবন্ধিত এক সরবরাহকারীর মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা ছিল যন্ত্রাংশগুলোর। তবে মাঝপথেই কৌশলগতভাবে চালানের দিক পরিবর্তন করে তা হংকংয়ে পাঠানো হয়। যন্ত্রাংশগুলো বর্তমানে ঠিক কার হেফাজতে রয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত না হলেও এগুলো চীনা গোয়েন্দা বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করছেন।

বিষয়টি সামনে আসার পর গত জুনেই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ও পররাষ্ট্র দপ্তর যৌথভাবে কংগ্রেসের প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিকে ব্রিফ করা শুরু করে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে মাঠে নেমেছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল। এফ-৩৫ জয়েন্ট প্রোগ্রাম অফিস জানিয়েছে, গায়েব হওয়া যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারে আন্তর্জাতিক মিত্র ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বহরে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০টির মতো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার কারণেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন মারাত্মক গলদ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত