সংবাদ

রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হতে আর কত অপেক্ষা


প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ পিএম

রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হতে আর কত অপেক্ষা

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চরাঞ্চলের মানুষের জন্য অসুস্থতা যেন বাড়তি এক দুর্ভোগের নাম। জ্বর, ডায়রিয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সাধারণ রোগেও তাদের চিকিৎসার জন্য উত্তাল নদী পাড়ি দিতে হয়। মুমূর্ষু রোগীকে নিতে হয় ট্রলার বা স্পিডবোটে। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু।

২০১২ সালে রাঙ্গাবালী উপজেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। অথচ এখনো সেখানে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়নি। ২০২৩ সালে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি তা বন্ধ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজ থেমে আছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, পাঁচজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সবগুলোই শূন্য। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন পরিত্যক্ত। আরেকটি লোকবলের অভাবে বন্ধ। কোথাও কর্মীরা অন্যের বাড়ির আঙিনায় বসে সেবা দিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধেরও সংকট রয়েছে। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেন না দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ।

চরাঞ্চলে চিকিৎসক রাখা কঠিন। যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল, আবাসন সুবিধা নেই, জরুরি পরিবহনও সীমিত। তবে এসব সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে দেখলে চলবে না। দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাঙ্গাবালীতে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবারহ নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সচল করাও জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হতে আর কত অপেক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চরাঞ্চলের মানুষের জন্য অসুস্থতা যেন বাড়তি এক দুর্ভোগের নাম। জ্বর, ডায়রিয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সাধারণ রোগেও তাদের চিকিৎসার জন্য উত্তাল নদী পাড়ি দিতে হয়। মুমূর্ষু রোগীকে নিতে হয় ট্রলার বা স্পিডবোটে। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু।

২০১২ সালে রাঙ্গাবালী উপজেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। অথচ এখনো সেখানে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়নি। ২০২৩ সালে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি তা বন্ধ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজ থেমে আছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, পাঁচজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সবগুলোই শূন্য। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন পরিত্যক্ত। আরেকটি লোকবলের অভাবে বন্ধ। কোথাও কর্মীরা অন্যের বাড়ির আঙিনায় বসে সেবা দিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধেরও সংকট রয়েছে। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেন না দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ।

চরাঞ্চলে চিকিৎসক রাখা কঠিন। যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল, আবাসন সুবিধা নেই, জরুরি পরিবহনও সীমিত। তবে এসব সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে দেখলে চলবে না। দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাঙ্গাবালীতে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবারহ নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সচল করাও জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত