সংবাদ

জনমিতির সুযোগ কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে


প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম

জনমিতির সুযোগ কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে

দেশের অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান। কর্মক্ষম মানুষের ৮৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, স্নাতক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশের বেশি নিয়মিত চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এসব কাজে তাদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ কম। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র।

অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা মানুষের বেশির ভাগের নিয়োগপত্র নেই। নেই নির্ধারিত মজুরি ও চাকরির নিরাপত্তা। ফলে তারা কম আয় করেন এবং নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। শিক্ষিত তরুণদেরও যখন যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ মেলে না, তখন তা দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ করে। শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, কাজের মান ও আয় নিশ্চিত করাও জরুরি।

ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালে বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর বাড়বে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। ২০৫০ সালের মধ্যে শ্রমের জোগান কর্মসংস্থানের চেয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনসংখ্যার এই সুবিধা কাজে লাগানোর সময়ও তাই সীমিত।

এ জন্য এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তরুণদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের দক্ষতা, আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ এখন জনমিতিক সুবিধার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে। এই সময় কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাকে এখনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


জনমিতির সুযোগ কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান। কর্মক্ষম মানুষের ৮৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, স্নাতক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশের বেশি নিয়মিত চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এসব কাজে তাদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ কম। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র।

অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা মানুষের বেশির ভাগের নিয়োগপত্র নেই। নেই নির্ধারিত মজুরি ও চাকরির নিরাপত্তা। ফলে তারা কম আয় করেন এবং নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। শিক্ষিত তরুণদেরও যখন যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ মেলে না, তখন তা দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ করে। শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, কাজের মান ও আয় নিশ্চিত করাও জরুরি।

ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালে বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর বাড়বে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। ২০৫০ সালের মধ্যে শ্রমের জোগান কর্মসংস্থানের চেয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনসংখ্যার এই সুবিধা কাজে লাগানোর সময়ও তাই সীমিত।

এ জন্য এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তরুণদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের দক্ষতা, আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ এখন জনমিতিক সুবিধার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে। এই সময় কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাকে এখনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত