সংবাদ

জাতিসংঘের অধিবেশন: বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে মুখর প্রবাসীরা


রহিম বাদশা, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
রহিম বাদশা, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১ এএম

জাতিসংঘের অধিবেশন: বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে মুখর প্রবাসীরা

​জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে সমবেত হচ্ছেন।

১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে জাতিসংঘের সদর দপ্তর এলাকা ম্যানহাটন এখন বৈশ্বিক নেতাদের মহাসমাবেশে রূপ নিয়েছে। বিশ্বনেতা, প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যবসায়ীদের পদচারণায় ম্যানহাটনের হোটেল ও মোটেলগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

অতিরিক্ত চাপ সামলাতে অনেকেই ব্রুকলিন, দ্য ব্রংক্‌স, কুইন্‌স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের মতো আশপাশের বরোগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন। সাধারণ পরিষদকে কেন্দ্র করে পুরো সদর দপ্তর এলাকা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং মূল সড়কের যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

​বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল আজ ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

প্রবাসীদের প্রধান কেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সফল করতে একাধিক প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে তিনি অবস্থানের জন্য সরাসরি ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে যাবেন।

​আসন্ন অধিবেশনে দেশের প্রতিনিধিত্ব ও গুরুত্ব বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, "প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নব গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার প্রভৃতি বিষয় গুরুত্ব পাবে।"

​সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। সফরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইবেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সমতাভিত্তিক উন্নয়ন বিষয়ক বৈশ্বিক আলোচনায় তিনি বক্তব্য রাখবেন।

সফরকালে কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের চিত্র তুলে ধরা হবে।

​প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক সফরের ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট তুরস্কের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে। এর আগে ঢাকা থেকে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানটি নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।"

​আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশ নিয়ে তারেক রহমান তাঁর দাপ্তরিক সফর শুরু করবেন। জাতিসংঘের এই ৮১তম অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

এ ভাষণের মাধ্যমে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর নিজ পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সব অনুষ্ঠান ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাতিসংঘের অধিবেশন: বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে মুখর প্রবাসীরা

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

​জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে সমবেত হচ্ছেন।

১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে জাতিসংঘের সদর দপ্তর এলাকা ম্যানহাটন এখন বৈশ্বিক নেতাদের মহাসমাবেশে রূপ নিয়েছে। বিশ্বনেতা, প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যবসায়ীদের পদচারণায় ম্যানহাটনের হোটেল ও মোটেলগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

অতিরিক্ত চাপ সামলাতে অনেকেই ব্রুকলিন, দ্য ব্রংক্‌স, কুইন্‌স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের মতো আশপাশের বরোগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন। সাধারণ পরিষদকে কেন্দ্র করে পুরো সদর দপ্তর এলাকা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং মূল সড়কের যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

​বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল আজ ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

প্রবাসীদের প্রধান কেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সফল করতে একাধিক প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে তিনি অবস্থানের জন্য সরাসরি ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে যাবেন।

​আসন্ন অধিবেশনে দেশের প্রতিনিধিত্ব ও গুরুত্ব বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, "প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নব গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার প্রভৃতি বিষয় গুরুত্ব পাবে।"

​সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। সফরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইবেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সমতাভিত্তিক উন্নয়ন বিষয়ক বৈশ্বিক আলোচনায় তিনি বক্তব্য রাখবেন।

সফরকালে কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের চিত্র তুলে ধরা হবে।

​প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক সফরের ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট তুরস্কের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে। এর আগে ঢাকা থেকে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানটি নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।"

​আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশ নিয়ে তারেক রহমান তাঁর দাপ্তরিক সফর শুরু করবেন। জাতিসংঘের এই ৮১তম অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

এ ভাষণের মাধ্যমে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর নিজ পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সব অনুষ্ঠান ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত