সংবাদ

১৫ হাজারে পুনর্বহাল অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

১৫ হাজারে পুনর্বহাল অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ
ছবি : সংবাদ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার খাঁড়াবাগ এলাকায় প্রায় সাত বছর ধরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে একদল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। কেবল অবৈধ সংযোগই নয়, বিষয়টি সামাল দিতে বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সুবীর মণ্ডল, সজল মণ্ডল ও অপূর্ব মাঝির বিরুদ্ধে। তারা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়াবাগ এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফার্ম পরিচালনা করে আসছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খবর পেয়ে সম্প্রতি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীরা গিয়ে ওই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু পরে গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি রফাদফা করে চলে আসেন এক লাইনম্যান। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি ধামাচাপাতে পরবর্তীতে ওই লাইনম্যান আবারও ঘটনাস্থলে যান এবং মূল আবাসিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটারটি খুলে নিয়ে আসেন। একই সঙ্গে আগে নেওয়া ১৫ হাজার টাকাও ফেরত দিয়ে আসেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, খাঁড়াবাগ এলাকায় একাধিক ফার্ম ও দোকানে এভাবে ‘সাইট কানেকশন’সহ বেআইনিভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গেলে সজল মণ্ডল ও অপূর্ব মাঝি এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন এবং উল্টো ওই সাংবাদিকের ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মধ্যে এমন জালিয়াতির ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সাধারণ গ্রাহক ভোগান্তি পোহালেও অনিয়মের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি স্বীকার করে সুবীর মণ্ডল বলেন, ‘১৫ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে আবার টাকা ফেরত দিয়ে মিটার খুলে নিয়ে গেছে। এখন যা জেল-জরিমানা হয়, সবার যা হবে আমারও তা-ই হবে।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) চন্দ্র শেখর বলেন, ‘অবৈধ সংযোগ নিলে নিয়ম অনুযায়ী মামলা করার বিধান রয়েছে। সুবীর মণ্ডল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসে যোগাযোগ না করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৫ হাজারে পুনর্বহাল অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার খাঁড়াবাগ এলাকায় প্রায় সাত বছর ধরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে একদল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। কেবল অবৈধ সংযোগই নয়, বিষয়টি সামাল দিতে বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সুবীর মণ্ডল, সজল মণ্ডল ও অপূর্ব মাঝির বিরুদ্ধে। তারা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁড়াবাগ এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফার্ম পরিচালনা করে আসছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খবর পেয়ে সম্প্রতি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীরা গিয়ে ওই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু পরে গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি রফাদফা করে চলে আসেন এক লাইনম্যান। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি ধামাচাপাতে পরবর্তীতে ওই লাইনম্যান আবারও ঘটনাস্থলে যান এবং মূল আবাসিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটারটি খুলে নিয়ে আসেন। একই সঙ্গে আগে নেওয়া ১৫ হাজার টাকাও ফেরত দিয়ে আসেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, খাঁড়াবাগ এলাকায় একাধিক ফার্ম ও দোকানে এভাবে ‘সাইট কানেকশন’সহ বেআইনিভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গেলে সজল মণ্ডল ও অপূর্ব মাঝি এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন এবং উল্টো ওই সাংবাদিকের ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মধ্যে এমন জালিয়াতির ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সাধারণ গ্রাহক ভোগান্তি পোহালেও অনিয়মের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি স্বীকার করে সুবীর মণ্ডল বলেন, ‘১৫ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে আবার টাকা ফেরত দিয়ে মিটার খুলে নিয়ে গেছে। এখন যা জেল-জরিমানা হয়, সবার যা হবে আমারও তা-ই হবে।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) চন্দ্র শেখর বলেন, ‘অবৈধ সংযোগ নিলে নিয়ম অনুযায়ী মামলা করার বিধান রয়েছে। সুবীর মণ্ডল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসে যোগাযোগ না করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত