সংবাদ

লেবাননে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস হামলা চালাল ইসরায়েল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

লেবাননে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস হামলা চালাল ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় কামানের গোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর বরাতে বার্তা সংস্থা আনাতোলু জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নাবাতিয়ে জেলাসহ সংলগ্ন বেশ কিছু সীমান্ত এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমে নাবাতিয়ে আল-ফাওকা এলাকায় ফসফরাস গোলা বর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে জাওতার আল-শারকিয়াহ, মায়ফাদুন এবং নাবাতিয়ে আল-ফাওকার আশপাশের এলাকাতেও একই ধরনের বিষাক্ত দাহ্য পদার্থ ছড়ানো গোলা বর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন, হারিস ও হাদ্দাতার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও ভারী কামানের গোলা মেখেছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে মারজায়ুন ও বিন্ত জবাইল জেলার মাজদাল সেলম এবং আল-ঘান্দুরিয়াহ এলাকায় ফেলানো দুটি অবিস্ফোরিত শক্তিশালী বোমার সন্ধান মেলে। পরে লেবানন সামরিক বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল সতর্কতার সঙ্গে বোমা দুটি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়।

সাদা ফসফরাস হলো অত্যন্ত দাহ্য ও তীব্র বিষাক্ত একপ্রকার রাসায়নিক যুদ্ধাস্ত্র। বাতাসের অক্সিজেনের সং্পর্শ পাওয়া মাত্র এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে এবং প্রায় ৮১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত প্রচণ্ড উত্তাপ ও ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি করে।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এটি সরাসরি 'রাসায়নিক অস্ত্র' না হলেও, জেনেভা কনভেনশনের প্রটোকল অনুসারে জনবহুল এলাকা কিংবা বেসামরিক লোকালয়ের ওপর এ ধরনের অগ্নিঅস্ত্রের প্রয়োগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধের শামিল।

লেবাননের সরকারি হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৪০৭ জন এবং গৃহহীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে এক সমঝোতার ভিত্তিতে দখলকৃত লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সেনা মোতায়েন ও হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্তসংবলিত চুক্তি হলেও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

\ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লেবাননে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস হামলা চালাল ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় কামানের গোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর বরাতে বার্তা সংস্থা আনাতোলু জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নাবাতিয়ে জেলাসহ সংলগ্ন বেশ কিছু সীমান্ত এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমে নাবাতিয়ে আল-ফাওকা এলাকায় ফসফরাস গোলা বর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে জাওতার আল-শারকিয়াহ, মায়ফাদুন এবং নাবাতিয়ে আল-ফাওকার আশপাশের এলাকাতেও একই ধরনের বিষাক্ত দাহ্য পদার্থ ছড়ানো গোলা বর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন, হারিস ও হাদ্দাতার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও ভারী কামানের গোলা মেখেছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে মারজায়ুন ও বিন্ত জবাইল জেলার মাজদাল সেলম এবং আল-ঘান্দুরিয়াহ এলাকায় ফেলানো দুটি অবিস্ফোরিত শক্তিশালী বোমার সন্ধান মেলে। পরে লেবানন সামরিক বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল সতর্কতার সঙ্গে বোমা দুটি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়।

সাদা ফসফরাস হলো অত্যন্ত দাহ্য ও তীব্র বিষাক্ত একপ্রকার রাসায়নিক যুদ্ধাস্ত্র। বাতাসের অক্সিজেনের সং্পর্শ পাওয়া মাত্র এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে এবং প্রায় ৮১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত প্রচণ্ড উত্তাপ ও ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি করে।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এটি সরাসরি 'রাসায়নিক অস্ত্র' না হলেও, জেনেভা কনভেনশনের প্রটোকল অনুসারে জনবহুল এলাকা কিংবা বেসামরিক লোকালয়ের ওপর এ ধরনের অগ্নিঅস্ত্রের প্রয়োগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধের শামিল।

লেবাননের সরকারি হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৪০৭ জন এবং গৃহহীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে এক সমঝোতার ভিত্তিতে দখলকৃত লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সেনা মোতায়েন ও হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্তসংবলিত চুক্তি হলেও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

\ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত