ব্যস্ত জীবনে অনেকের রাতের ঘুম নেমে আসে ছয় ঘণ্টায়। কেউ কেউ আবার দীর্ঘদিন এমন রুটিন মেনে চলতে চলতে মনে করেন, কম ঘুমেই শরীর অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু ঘুমের প্রয়োজনীয়তা শুধু সকালে সতেজ লাগার ওপর নির্ভর করে না। ঘুমের সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রম, স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণ এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
তাই প্রশ্ন উঠতে পারে-প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুম কি শরীরের
জন্য যথেষ্ট? বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে উত্তর হলো, নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে ছয়
ঘণ্টা ঘুম সাধারণত পর্যাপ্ত নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া
হয়।
মানুষের বয়সের সঙ্গে ঘুমের প্রয়োজনীয়তাও পরিবর্তিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বয়সভেদে ঘুমের যে পরিমাণ সুপারিশ করে, তা হলো-
অর্থাৎ, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুমালে
সাধারণত তার প্রয়োজনীয় ঘুমের তুলনায় কম ঘুম হচ্ছে।
কম ঘুমেও
ঠিকঠাক লাগার কারণ কী?
অনেকেই দীর্ঘদিন কম ঘুমানোর পরও দিনের কাজ স্বাভাবিকভাবে
চালিয়ে যেতে পারেন। ফলে তাঁদের মনে হতে পারে, শরীর হয়তো ছয় ঘণ্টা ঘুমেই অভ্যস্ত হয়ে
গেছে। কিন্তু ক্লান্তি খুব বেশি অনুভূত না হওয়া মানেই পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে-এমন নয়।
অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে এমন জিনগত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়,
যার কারণে তারা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘুমিয়েও ভালোভাবে কাজ করতে পারেন। এ ধরনের মানুষকে
সাধারণভাবে ‘ন্যাচারাল শর্ট স্লিপার’ বলা হয়। তবে এটি বিরল বৈশিষ্ট্য। অধিকাংশ মানুষের
জন্য নিয়মিত কম ঘুমের ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রাপ্ত ঘুমের মধ্যে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ছয় ঘণ্টা
ঘুমের প্রভাব সবসময় তাৎক্ষণিক নয়
অপর্যাপ্ত ঘুমের সমস্যা অনেক সময় একদিনে স্পষ্ট হয় না।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকলে শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে
পারে।
গবেষণায় অপর্যাপ্ত বা অনুপযুক্ত ঘুমের সঙ্গে হৃদ্রোগ,
স্ট্রোক, বিপাকীয় সমস্যা, বিষণ্ণতা ও স্মৃতিসংক্রান্ত সমস্যার মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির
সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ‘স্লিপ অ্যান্ড ব্রিদিং’ জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় ৬৯টি
মেটা-অ্যানালাইসিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘুমের সময়কাল ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ফলাফলের
মধ্যে সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়েছিল।
নিয়মিত
ছয় ঘণ্টা ঘুমালে কী হতে পারে?
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের
সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—
·
মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
·
স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতায় প্রভাব
·
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমে যাওয়া
·
মেজাজের পরিবর্তন ও খিটখিটে ভাব
·
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
·
বিপাকীয় সমস্যার আশঙ্কা
· ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব
ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত
হরমোনগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেশি খাওয়ার প্রবণতা
তৈরি হয়ে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
‘অভ্যাস
হয়ে গেছে’-এটাই শেষ কথা নয়
প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়ে শরীরকে অভ্যস্ত করে ফেলার অনুভূতি
থাকলেও সেটিকে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। ঘুমের ঘাটতি অনেক সময় এমনভাবে
তৈরি হয় যে ব্যক্তি নিজের কর্মক্ষমতার পরিবর্তনও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন না।
তাই শুধু সকালে ঘুম থেকে উঠে কেমন লাগছে, তা দিয়ে ঘুম যথেষ্ট হচ্ছে কি না বিচার না করে বয়স অনুযায়ী সুপারিশ করা ঘুমের সময়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিয়মিত পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যস্ত জীবনে অনেকের রাতের ঘুম নেমে আসে ছয় ঘণ্টায়। কেউ কেউ আবার দীর্ঘদিন এমন রুটিন মেনে চলতে চলতে মনে করেন, কম ঘুমেই শরীর অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু ঘুমের প্রয়োজনীয়তা শুধু সকালে সতেজ লাগার ওপর নির্ভর করে না। ঘুমের সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রম, স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণ এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
তাই প্রশ্ন উঠতে পারে-প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুম কি শরীরের
জন্য যথেষ্ট? বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে উত্তর হলো, নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে ছয়
ঘণ্টা ঘুম সাধারণত পর্যাপ্ত নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া
হয়।
মানুষের বয়সের সঙ্গে ঘুমের প্রয়োজনীয়তাও পরিবর্তিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বয়সভেদে ঘুমের যে পরিমাণ সুপারিশ করে, তা হলো-
অর্থাৎ, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুমালে
সাধারণত তার প্রয়োজনীয় ঘুমের তুলনায় কম ঘুম হচ্ছে।
কম ঘুমেও
ঠিকঠাক লাগার কারণ কী?
অনেকেই দীর্ঘদিন কম ঘুমানোর পরও দিনের কাজ স্বাভাবিকভাবে
চালিয়ে যেতে পারেন। ফলে তাঁদের মনে হতে পারে, শরীর হয়তো ছয় ঘণ্টা ঘুমেই অভ্যস্ত হয়ে
গেছে। কিন্তু ক্লান্তি খুব বেশি অনুভূত না হওয়া মানেই পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে-এমন নয়।
অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে এমন জিনগত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়,
যার কারণে তারা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘুমিয়েও ভালোভাবে কাজ করতে পারেন। এ ধরনের মানুষকে
সাধারণভাবে ‘ন্যাচারাল শর্ট স্লিপার’ বলা হয়। তবে এটি বিরল বৈশিষ্ট্য। অধিকাংশ মানুষের
জন্য নিয়মিত কম ঘুমের ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রাপ্ত ঘুমের মধ্যে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ছয় ঘণ্টা
ঘুমের প্রভাব সবসময় তাৎক্ষণিক নয়
অপর্যাপ্ত ঘুমের সমস্যা অনেক সময় একদিনে স্পষ্ট হয় না।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকলে শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে
পারে।
গবেষণায় অপর্যাপ্ত বা অনুপযুক্ত ঘুমের সঙ্গে হৃদ্রোগ,
স্ট্রোক, বিপাকীয় সমস্যা, বিষণ্ণতা ও স্মৃতিসংক্রান্ত সমস্যার মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির
সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ‘স্লিপ অ্যান্ড ব্রিদিং’ জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় ৬৯টি
মেটা-অ্যানালাইসিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘুমের সময়কাল ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ফলাফলের
মধ্যে সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়েছিল।
নিয়মিত
ছয় ঘণ্টা ঘুমালে কী হতে পারে?
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের
সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—
·
মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
·
স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতায় প্রভাব
·
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমে যাওয়া
·
মেজাজের পরিবর্তন ও খিটখিটে ভাব
·
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
·
বিপাকীয় সমস্যার আশঙ্কা
· ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব
ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত
হরমোনগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেশি খাওয়ার প্রবণতা
তৈরি হয়ে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
‘অভ্যাস
হয়ে গেছে’-এটাই শেষ কথা নয়
প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়ে শরীরকে অভ্যস্ত করে ফেলার অনুভূতি
থাকলেও সেটিকে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। ঘুমের ঘাটতি অনেক সময় এমনভাবে
তৈরি হয় যে ব্যক্তি নিজের কর্মক্ষমতার পরিবর্তনও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন না।
তাই শুধু সকালে ঘুম থেকে উঠে কেমন লাগছে, তা দিয়ে ঘুম যথেষ্ট হচ্ছে কি না বিচার না করে বয়স অনুযায়ী সুপারিশ করা ঘুমের সময়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিয়মিত পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আপনার মতামত লিখুন