সংবাদ

চা পান করেন? এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

চা পান করেন? এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন

সকালের শুরুতে এক কাপ চা, বিকেলে কাজের ফাঁকে আরেক কাপ কিংবা আড্ডায় একের পর এক চা-অনেকের দৈনন্দিন জীবনেই পানীয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক পরিমাণে চা পান করা অনেকের খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কখন চা খাচ্ছেন, কীভাবে খাচ্ছেন এবং চায়ের সঙ্গে কী যোগ করছেন-এসব বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কিছু সাধারণ অভ্যাসের কারণে চায়ের সম্ভাব্য উপকারের বদলে অস্বস্তি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চা পানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা ভালো।

খাবারের পরই চা নয়

ভাত, রুটি বা অন্য কোনো প্রধান খাবার খাওয়ার পরপরই চা পান করার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। কিন্তু চায়ে থাকা কিছু যৌগ খাবার থেকে শরীরে আয়রন শোষণের পরিমাণ কমাতে পারে। বিশেষ করে যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের সঙ্গে সঙ্গে চা পান না করাই ভালো।

তাই প্রধান খাবার চায়ের মধ্যে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখা যেতে পারে। এতে খাবার থেকে আয়রন শোষণের সুযোগও তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।

চায়ে চিনি কতটা দিচ্ছেন?

চায়ের সঙ্গে এক বা একাধিক চামচ চিনি যোগ করার অভ্যাস থাকলে দিনের মোট চিনি গ্রহণ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। চিনি থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি আসে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তাই চায়ে চিনির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা যেতে পারে। চাইলে চিনি ছাড়াও চায়ের স্বাদ নেওয়ার অভ্যাস করা সম্ভব।

খুব গরম চা পান করবেন না

চা তৈরির পরপরই ধোঁয়া ওঠা অবস্থায় পান করার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা ভালো। অতিরিক্ত গরম পানীয় মুখ খাদ্যনালিতে তাপজনিত ক্ষতি করতে পারে।

তাই চা পরিবেশনের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সহনীয় তাপমাত্রায় এলে পান করা নিরাপদ। পানীয়ের স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি তাপমাত্রার দিকটিও খেয়াল রাখা উচিত।

খাবারের বিকল্প হতে পারে না চা

ওজন কমানো বা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকে কখনো কখনো নাশতা কিংবা কোনো এক বেলার খাবার বাদ দিয়ে শুধু চা পান করেন। ক্যাফেইনের কারণে সাময়িকভাবে ক্ষুধা কম অনুভূত হলেও চা কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ খাবারের বিকল্প নয়।

এভাবে নিয়মিত খাবার বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের বদলে দুর্বলতা বা পুষ্টির ঘাটতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চা থাকুক, তবে পরিমিতভাবে

চা দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে এর সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা, খুব গরম অবস্থায় পান করা কিংবা খাবারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।

বিশেষ করে যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের খাবারের সঙ্গে চা পানের সময়ের ব্যবধানের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সারাদিনের খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

চায়ের স্বাদ অভ্যাস উপভোগ করার পাশাপাশি কখন এবং কীভাবে পান করছেন, সেদিকে একটু সচেতন হলেই প্রিয় পানীয়টিকে দৈনন্দিন জীবনের ভারসাম্যপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চা পান করেন? এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সকালের শুরুতে এক কাপ চা, বিকেলে কাজের ফাঁকে আরেক কাপ কিংবা আড্ডায় একের পর এক চা-অনেকের দৈনন্দিন জীবনেই পানীয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক পরিমাণে চা পান করা অনেকের খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কখন চা খাচ্ছেন, কীভাবে খাচ্ছেন এবং চায়ের সঙ্গে কী যোগ করছেন-এসব বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কিছু সাধারণ অভ্যাসের কারণে চায়ের সম্ভাব্য উপকারের বদলে অস্বস্তি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চা পানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা ভালো।

খাবারের পরই চা নয়

ভাত, রুটি বা অন্য কোনো প্রধান খাবার খাওয়ার পরপরই চা পান করার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। কিন্তু চায়ে থাকা কিছু যৌগ খাবার থেকে শরীরে আয়রন শোষণের পরিমাণ কমাতে পারে। বিশেষ করে যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের সঙ্গে সঙ্গে চা পান না করাই ভালো।

তাই প্রধান খাবার চায়ের মধ্যে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখা যেতে পারে। এতে খাবার থেকে আয়রন শোষণের সুযোগও তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।

চায়ে চিনি কতটা দিচ্ছেন?

চায়ের সঙ্গে এক বা একাধিক চামচ চিনি যোগ করার অভ্যাস থাকলে দিনের মোট চিনি গ্রহণ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। চিনি থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি আসে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তাই চায়ে চিনির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা যেতে পারে। চাইলে চিনি ছাড়াও চায়ের স্বাদ নেওয়ার অভ্যাস করা সম্ভব।

খুব গরম চা পান করবেন না

চা তৈরির পরপরই ধোঁয়া ওঠা অবস্থায় পান করার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা ভালো। অতিরিক্ত গরম পানীয় মুখ খাদ্যনালিতে তাপজনিত ক্ষতি করতে পারে।

তাই চা পরিবেশনের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সহনীয় তাপমাত্রায় এলে পান করা নিরাপদ। পানীয়ের স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি তাপমাত্রার দিকটিও খেয়াল রাখা উচিত।

খাবারের বিকল্প হতে পারে না চা

ওজন কমানো বা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকে কখনো কখনো নাশতা কিংবা কোনো এক বেলার খাবার বাদ দিয়ে শুধু চা পান করেন। ক্যাফেইনের কারণে সাময়িকভাবে ক্ষুধা কম অনুভূত হলেও চা কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ খাবারের বিকল্প নয়।

এভাবে নিয়মিত খাবার বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের বদলে দুর্বলতা বা পুষ্টির ঘাটতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চা থাকুক, তবে পরিমিতভাবে

চা দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে এর সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা, খুব গরম অবস্থায় পান করা কিংবা খাবারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।

বিশেষ করে যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের খাবারের সঙ্গে চা পানের সময়ের ব্যবধানের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সারাদিনের খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

চায়ের স্বাদ অভ্যাস উপভোগ করার পাশাপাশি কখন এবং কীভাবে পান করছেন, সেদিকে একটু সচেতন হলেই প্রিয় পানীয়টিকে দৈনন্দিন জীবনের ভারসাম্যপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা সম্ভব।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত