সকালে ঘুম থেকে উঠে বেশ ফুরফুরে লাগছে। কাজও হচ্ছে দ্রুতগতিতে। কিন্তু দুপুরের খাবারের পর যেন সবকিছু বদলে যায়-চোখ ভার হয়ে আসে, শরীরে আলস্য ভর করে, কাজে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিকেল নাগাদ এই ক্লান্তি অনেকের কাছেই নিয়মিত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
দুপুরের পর সাময়িক ঘুমঘুম ভাব স্বাভাবিক হতে পারে। তবে প্রতিদিন একই সময়ে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হলে শুধু কম ঘুম বা কাজের চাপকে দায়ী না করে খাবারের ধরন, খাবারের পরিমাণ, পানি পান, ঘুমের সময়সূচি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবা দরকার।
দুপুরের খাবারেই
থাকতে পারে
কারণ
একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার খেলে খাবারের পর ঝিমুনি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারী বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার খাওয়ার পর শরীর হজমের কাজে ব্যস্ত থাকে এবং অনেকেরই তখন সাময়িকভাবে অলস লাগতে পারে।
তাই দুপুরের খাবারে শুধু পেট ভরানো নয়, পরিমাণ ও ভারসাম্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত সবজি, প্রোটিন ও পরিমিত শর্করা রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল-মসলা ও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার এড়িয়ে চলা যেতে পারে।
পানি কম
খেলেও বাড়তে
পারে ক্লান্তি
দিনের ব্যস্ততায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করার কথা
ভুলে যান। শরীরে পানির ঘাটতি হলে তৃষ্ণা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তাই শুধু খাবারের দিকে নজর না দিয়ে সারা দিন নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করা দরকার। গরম আবহাওয়া বা বেশি শারীরিক পরিশ্রমের সময় পানির প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে।
খেজুর ও
ঘি কি
উপকারী?
দ্রুত শক্তির জন্য অনেকেই খেজুরের সঙ্গে অল্প ঘি খান। খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় এটি দ্রুত শক্তির উৎস হতে পারে। ঘিতে থাকা চর্বি খাবারের মোট শক্তির পরিমাণ বাড়ায় এবং খাবার থেকে শক্তি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে খেজুর-ঘিকে নিয়মিত ক্লান্তি দূর করার কোনো নিশ্চিত উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকলে এ ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
জাফরান দুধে
মিলবে কি
শক্তি?
দুধের সঙ্গে অল্প
জাফরান
মিশিয়ে
খাওয়ার
প্রচলন
রয়েছে।
তবে
জাফরান
দুধ
পান
করলেই
বিকেলের
ক্লান্তি
দূর
হবে-এমন নির্ভরযোগ্য
নিশ্চয়তা
নেই।
তাই
এটিকে
বিশেষ
কোনো
চিকিৎসা
হিসেবে
না
দেখে
স্বাভাবিক
খাদ্যতালিকার
অংশ
হিসেবেই
বিবেচনা
করা
উচিত।
পর্যাপ্ত
ঘুম,
পানি
পান
ও
সুষম
খাবারের
গুরুত্ব
এখানে
বেশি।
রাতের ঘুম ঠিক আছে তো?
বিকেলের
ক্লান্তির
পেছনে
আগের
রাতের
ঘুমের
ঘাটতিও
থাকতে
পারে।
অনেকে
রাতে
দেরিতে
খাবার
খান
এবং
খাওয়ার
কিছুক্ষণ
পরই
ঘুমাতে
যান।
অতিরিক্ত
ভারী
খাবার
বা
ঘুমের
কাছাকাছি
সময়ে
খাওয়ার
অভ্যাস
কিছু
মানুষের
ঘুমে
ব্যাঘাত
ঘটাতে
পারে।
প্রতিদিন
কাছাকাছি
সময়ে
ঘুমানো
ও
জাগার
চেষ্টা
করা
এবং
ঘুমানোর
কয়েক
ঘণ্টা
আগে
রাতের
খাবার
শেষ
করার
অভ্যাস
ভালো
ঘুমের
জন্য
সহায়ক
হতে
পারে।
শুধু চা-কফির ওপর নির্ভর করবেন না
বিকেলে
ক্লান্তি
এলেই
চা
বা
কফি
পান
করলে
সাময়িকভাবে
সতেজ
লাগতে
পারে।
কিন্তু
এটি
যদি
প্রতিদিনের
অতিরিক্ত
ক্লান্তির
মূল
কারণ
আড়াল
করে,
তাহলে
সমস্যার
সমাধান
হবে
না।
বিশেষ
করে
পর্যাপ্ত
ঘুম
ও
খাবারের
পরও
নিয়মিত
ঝিমুনি
থাকলে
জীবনযাপনের
অন্যান্য
বিষয়
পর্যালোচনা
করা
প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন থাকলে অন্য কারণও খুঁজতে হবে
কয়েক
সপ্তাহ
ধরে
নিয়মিত
অতিরিক্ত
ক্লান্তি
বা
ঘুমঘুম
ভাব
থাকলে
এর
পেছনে
অন্য
কোনো
শারীরিক
কারণ
আছে
কি
না,
সেটিও
বিবেচনা
করা
দরকার।
রক্তস্বল্পতা,
ডায়াবেটিস,
থাইরয়েডের
সমস্যা,
পানিশূন্যতা,
দীর্ঘস্থায়ী
মানসিক
চাপ
কিংবা
ঘুমের
কিছু
সমস্যার
সঙ্গে
দীর্ঘস্থায়ী
ক্লান্তির
সম্পর্ক
থাকতে
পারে।
যদি
ক্লান্তির
কারণে
কাজ,
পড়াশোনা
বা
দৈনন্দিন
জীবন
ব্যাহত
হয়,
তাহলে
চিকিৎসকের
পরামর্শ
নেওয়া
উচিত।
উপসর্গ
ও
শারীরিক
অবস্থার
ভিত্তিতে
চিকিৎসক
প্রয়োজন
মনে
করলে
রক্ত
পরীক্ষা
বা
অন্যান্য
পরীক্ষা
করাতে
পারেন।
দুপুরের
পর
সামান্য
ঝিমুনি
স্বাভাবিক
হলেও
প্রতিদিনের
অতিরিক্ত
ক্লান্তিকে
অবহেলা
করা
ঠিক
নয়।
খাবারের
পরিমাণ
ও
ধরন,
পানি
পান,
রাতের
ঘুম
এবং
দৈনন্দিন
জীবনযাপনের
দিকে
নজর
দেওয়ার
পাশাপাশি
দীর্ঘস্থায়ী
সমস্যা
হলে
কারণ
খুঁজে
বের
করাই
গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সকালে ঘুম থেকে উঠে বেশ ফুরফুরে লাগছে। কাজও হচ্ছে দ্রুতগতিতে। কিন্তু দুপুরের খাবারের পর যেন সবকিছু বদলে যায়-চোখ ভার হয়ে আসে, শরীরে আলস্য ভর করে, কাজে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিকেল নাগাদ এই ক্লান্তি অনেকের কাছেই নিয়মিত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
দুপুরের পর সাময়িক ঘুমঘুম ভাব স্বাভাবিক হতে পারে। তবে প্রতিদিন একই সময়ে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হলে শুধু কম ঘুম বা কাজের চাপকে দায়ী না করে খাবারের ধরন, খাবারের পরিমাণ, পানি পান, ঘুমের সময়সূচি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবা দরকার।
দুপুরের খাবারেই
থাকতে পারে
কারণ
একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার খেলে খাবারের পর ঝিমুনি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারী বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার খাওয়ার পর শরীর হজমের কাজে ব্যস্ত থাকে এবং অনেকেরই তখন সাময়িকভাবে অলস লাগতে পারে।
তাই দুপুরের খাবারে শুধু পেট ভরানো নয়, পরিমাণ ও ভারসাম্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত সবজি, প্রোটিন ও পরিমিত শর্করা রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল-মসলা ও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার এড়িয়ে চলা যেতে পারে।
পানি কম
খেলেও বাড়তে
পারে ক্লান্তি
দিনের ব্যস্ততায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করার কথা
ভুলে যান। শরীরে পানির ঘাটতি হলে তৃষ্ণা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তাই শুধু খাবারের দিকে নজর না দিয়ে সারা দিন নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করা দরকার। গরম আবহাওয়া বা বেশি শারীরিক পরিশ্রমের সময় পানির প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে।
খেজুর ও
ঘি কি
উপকারী?
দ্রুত শক্তির জন্য অনেকেই খেজুরের সঙ্গে অল্প ঘি খান। খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় এটি দ্রুত শক্তির উৎস হতে পারে। ঘিতে থাকা চর্বি খাবারের মোট শক্তির পরিমাণ বাড়ায় এবং খাবার থেকে শক্তি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে খেজুর-ঘিকে নিয়মিত ক্লান্তি দূর করার কোনো নিশ্চিত উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকলে এ ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
জাফরান দুধে
মিলবে কি
শক্তি?
দুধের সঙ্গে অল্প
জাফরান
মিশিয়ে
খাওয়ার
প্রচলন
রয়েছে।
তবে
জাফরান
দুধ
পান
করলেই
বিকেলের
ক্লান্তি
দূর
হবে-এমন নির্ভরযোগ্য
নিশ্চয়তা
নেই।
তাই
এটিকে
বিশেষ
কোনো
চিকিৎসা
হিসেবে
না
দেখে
স্বাভাবিক
খাদ্যতালিকার
অংশ
হিসেবেই
বিবেচনা
করা
উচিত।
পর্যাপ্ত
ঘুম,
পানি
পান
ও
সুষম
খাবারের
গুরুত্ব
এখানে
বেশি।
রাতের ঘুম ঠিক আছে তো?
বিকেলের
ক্লান্তির
পেছনে
আগের
রাতের
ঘুমের
ঘাটতিও
থাকতে
পারে।
অনেকে
রাতে
দেরিতে
খাবার
খান
এবং
খাওয়ার
কিছুক্ষণ
পরই
ঘুমাতে
যান।
অতিরিক্ত
ভারী
খাবার
বা
ঘুমের
কাছাকাছি
সময়ে
খাওয়ার
অভ্যাস
কিছু
মানুষের
ঘুমে
ব্যাঘাত
ঘটাতে
পারে।
প্রতিদিন
কাছাকাছি
সময়ে
ঘুমানো
ও
জাগার
চেষ্টা
করা
এবং
ঘুমানোর
কয়েক
ঘণ্টা
আগে
রাতের
খাবার
শেষ
করার
অভ্যাস
ভালো
ঘুমের
জন্য
সহায়ক
হতে
পারে।
শুধু চা-কফির ওপর নির্ভর করবেন না
বিকেলে
ক্লান্তি
এলেই
চা
বা
কফি
পান
করলে
সাময়িকভাবে
সতেজ
লাগতে
পারে।
কিন্তু
এটি
যদি
প্রতিদিনের
অতিরিক্ত
ক্লান্তির
মূল
কারণ
আড়াল
করে,
তাহলে
সমস্যার
সমাধান
হবে
না।
বিশেষ
করে
পর্যাপ্ত
ঘুম
ও
খাবারের
পরও
নিয়মিত
ঝিমুনি
থাকলে
জীবনযাপনের
অন্যান্য
বিষয়
পর্যালোচনা
করা
প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন থাকলে অন্য কারণও খুঁজতে হবে
কয়েক
সপ্তাহ
ধরে
নিয়মিত
অতিরিক্ত
ক্লান্তি
বা
ঘুমঘুম
ভাব
থাকলে
এর
পেছনে
অন্য
কোনো
শারীরিক
কারণ
আছে
কি
না,
সেটিও
বিবেচনা
করা
দরকার।
রক্তস্বল্পতা,
ডায়াবেটিস,
থাইরয়েডের
সমস্যা,
পানিশূন্যতা,
দীর্ঘস্থায়ী
মানসিক
চাপ
কিংবা
ঘুমের
কিছু
সমস্যার
সঙ্গে
দীর্ঘস্থায়ী
ক্লান্তির
সম্পর্ক
থাকতে
পারে।
যদি
ক্লান্তির
কারণে
কাজ,
পড়াশোনা
বা
দৈনন্দিন
জীবন
ব্যাহত
হয়,
তাহলে
চিকিৎসকের
পরামর্শ
নেওয়া
উচিত।
উপসর্গ
ও
শারীরিক
অবস্থার
ভিত্তিতে
চিকিৎসক
প্রয়োজন
মনে
করলে
রক্ত
পরীক্ষা
বা
অন্যান্য
পরীক্ষা
করাতে
পারেন।
দুপুরের
পর
সামান্য
ঝিমুনি
স্বাভাবিক
হলেও
প্রতিদিনের
অতিরিক্ত
ক্লান্তিকে
অবহেলা
করা
ঠিক
নয়।
খাবারের
পরিমাণ
ও
ধরন,
পানি
পান,
রাতের
ঘুম
এবং
দৈনন্দিন
জীবনযাপনের
দিকে
নজর
দেওয়ার
পাশাপাশি
দীর্ঘস্থায়ী
সমস্যা
হলে
কারণ
খুঁজে
বের
করাই
গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন