রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুধু স্টুডিও নয়, আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনাতেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাট শুরু হয়ে চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। ঘণ্টাব্যাপী এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ আসে। পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা মো. পল্লব আলী জানান, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এসেছিল। তাদের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। তারা গুলি করতে করতে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। প্রবেশমুখের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ঢুকে তারা লুটপাট চালায় এবং মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে যায়।
এরপর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাট চালানো হয়। নিউগিনি প্রপার্টিজের অফিসেও হামলা করা হয়। নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রও নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাট শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তখন পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। হামলাকারীরা সংখ্যায় অনেক বেশি থাকায় পুলিশ পিছু হটে। পরে হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে চলে যায়।
ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন, রাজধানীর ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম ও মুন্না।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি হাউজিংয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। জমির দখল–বেদখলকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল আলম বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও টার্গেট ছিল না।
তবে সালমান মুক্তাদির দাবি করেছেন, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে হামলা হয়েছে। তিনি জানান, স্টুডিওটির জমির মালিক সম্ভবত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চাঁদাবাজি নিয়ে জমির মালিকের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল। সেই রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে তার স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির। ভিডিওতে স্টুডিও দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’
ভিডিওতে দেখা যায়, স্টুডিওর বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টুডিওর কর্মীদের কয়েকজনকে কাঁদতেও দেখা যায়।
ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা কাজ বন্ধ করবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’
এদিকে, ঘটনার পর বিএনপির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগকে ঢালাও বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সালমান মুক্তাদির ‘ভিকটিমাইজড’ (ঘটনার শিকার) হয়েছেন।
রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি তছনছ হয়ে আছে। মেঝেতে পড়ে আছে কাচের টুকরা, ভাঙা সোফা, বাদ্যযন্ত্র ও বিভিন্ন জিনিসপত্র।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুধু স্টুডিও নয়, আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনাতেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাট শুরু হয়ে চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। ঘণ্টাব্যাপী এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ আসে। পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা মো. পল্লব আলী জানান, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এসেছিল। তাদের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। তারা গুলি করতে করতে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। প্রবেশমুখের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ঢুকে তারা লুটপাট চালায় এবং মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে যায়।
এরপর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাট চালানো হয়। নিউগিনি প্রপার্টিজের অফিসেও হামলা করা হয়। নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রও নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা–ভাঙচুর–লুটপাট শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তখন পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। হামলাকারীরা সংখ্যায় অনেক বেশি থাকায় পুলিশ পিছু হটে। পরে হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে চলে যায়।
ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন, রাজধানীর ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম ও মুন্না।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি হাউজিংয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। জমির দখল–বেদখলকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল আলম বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও টার্গেট ছিল না।
তবে সালমান মুক্তাদির দাবি করেছেন, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে হামলা হয়েছে। তিনি জানান, স্টুডিওটির জমির মালিক সম্ভবত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চাঁদাবাজি নিয়ে জমির মালিকের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল। সেই রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে তার স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির। ভিডিওতে স্টুডিও দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’
ভিডিওতে দেখা যায়, স্টুডিওর বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টুডিওর কর্মীদের কয়েকজনকে কাঁদতেও দেখা যায়।
ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা কাজ বন্ধ করবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’
এদিকে, ঘটনার পর বিএনপির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগকে ঢালাও বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সালমান মুক্তাদির ‘ভিকটিমাইজড’ (ঘটনার শিকার) হয়েছেন।
রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি তছনছ হয়ে আছে। মেঝেতে পড়ে আছে কাচের টুকরা, ভাঙা সোফা, বাদ্যযন্ত্র ও বিভিন্ন জিনিসপত্র।

আপনার মতামত লিখুন