সংবাদ

ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে আইনি নোটিশ, হাইকোর্টে রিটের হুঁশিয়ারি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে আইনি নোটিশ, হাইকোর্টে রিটের হুঁশিয়ারি
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

​দেশের বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং বিদেশে দেশীয় ইলিশ পুনঃরপ্তানি ঠেকানোর দাবিতে ভারতে ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
​নোটিশে দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন উল্লেখ করেন, "জাতীয় মাছ ইলিশ বাংলাদেশের একটি মূল্যবান ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সম্পদ। অথচ বর্তমানে দেশের স্থানীয় বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এতে সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ইলিশ ক্রয় কঠিন হয়ে পড়েছে।"
স্থানীয় বাজারে তীব্র সংকট ও চড়া মূল্য থাকার পরও তুলনামূলক কম দামে বিদেশে ইলিশ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
​ভারত থেকে বাংলাদেশি ইলিশ অন্য দেশে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ এনে নোটিশে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ আমদানির পর ভারতীয় কিছু আমদানিকারক তা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে বেশি দামে পুনঃরপ্তানি করে বিপুল মুনাফা করছে।"
এ ধরনের প্রক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশ প্রকৃত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটছে বলে অভিযোগ করেন নোটিশদাতা।
​দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে নোটিশে বলা হয়, "সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা এবং আইন মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক দায়িত্ব।"
সরকার এখনো ভারতে ইলিশ রপ্তানির চূড়ান্ত নীতিগত অনুমোদন না দিলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ব‌ন্ধেই এই আগাম আইনি পদক্ষেপে জোর দেওয়া হয়েছে।
​বিকল্প বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়ে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, "বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রয়োজন থাকলে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে না করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে প্রকৃত আন্তর্জাতিক মূল্যে সরাসরি ইলিশ রপ্তানির জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে।"
​আগামী সাতদিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ পাঠানোর সব ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগ বন্ধ করা, স্থানীয় বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা এবং মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি বিশ্ববাজারে ইলিশ বিক্রির নীতিমালা তৈরীর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে আইনি নোটিশ, হাইকোর্টে রিটের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

​দেশের বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং বিদেশে দেশীয় ইলিশ পুনঃরপ্তানি ঠেকানোর দাবিতে ভারতে ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
​নোটিশে দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন উল্লেখ করেন, "জাতীয় মাছ ইলিশ বাংলাদেশের একটি মূল্যবান ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সম্পদ। অথচ বর্তমানে দেশের স্থানীয় বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এতে সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ইলিশ ক্রয় কঠিন হয়ে পড়েছে।"
স্থানীয় বাজারে তীব্র সংকট ও চড়া মূল্য থাকার পরও তুলনামূলক কম দামে বিদেশে ইলিশ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
​ভারত থেকে বাংলাদেশি ইলিশ অন্য দেশে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ এনে নোটিশে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ আমদানির পর ভারতীয় কিছু আমদানিকারক তা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে বেশি দামে পুনঃরপ্তানি করে বিপুল মুনাফা করছে।"
এ ধরনের প্রক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশ প্রকৃত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটছে বলে অভিযোগ করেন নোটিশদাতা।
​দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে নোটিশে বলা হয়, "সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা এবং আইন মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক দায়িত্ব।"
সরকার এখনো ভারতে ইলিশ রপ্তানির চূড়ান্ত নীতিগত অনুমোদন না দিলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ব‌ন্ধেই এই আগাম আইনি পদক্ষেপে জোর দেওয়া হয়েছে।
​বিকল্প বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়ে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, "বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রয়োজন থাকলে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে না করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে প্রকৃত আন্তর্জাতিক মূল্যে সরাসরি ইলিশ রপ্তানির জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে।"
​আগামী সাতদিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ পাঠানোর সব ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগ বন্ধ করা, স্থানীয় বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা এবং মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি বিশ্ববাজারে ইলিশ বিক্রির নীতিমালা তৈরীর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত