উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোয় রচিত হলো নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো কোনো নারী দেশটির সরকারপ্রধানের চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন। মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরিকে নিয়োগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে তার দল জয়লাভ করার পর বাদশাহ তাকে নতুন সরকার গঠনের এই ভার দেন।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে মধ্যপন্থী দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম) সর্বাধিক আসনে জয় পায়। ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা এজ্জাহরা মানসুরি এ দলের শীর্ষ রাজনীতিক। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর আরব বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি।
মরক্কোর মন্ত্রিসভায় আসার আগে মানসুরি নগর পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিখ্যাত পর্যটন শহর মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর এক টেলিভিশন বার্তায় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকার পরিচালনার ভার নিচ্ছেন। এটি মরক্কোর সমগ্র নারীসমাজের জন্য এক বড় অর্জনের দিন।’
মরক্কোর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৩৯৫টি আসনের মধ্যে মানসুরির দল ৯৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮টি আসনের কোটা পূরণ না হওয়ায় তাকে এখন অন্যান্য সমমনা দলের সঙ্গে জোট গঠনে আলোচনা চালাতে হবে। পিএএম সব দলের সঙ্গেই আলোচনার পথ খোলা রেখেছে বলে জানিয়েছে।
২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক মরক্কো (পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে)। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া জোট সরকারের ওপর বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন বাজেট ও বিশ্বকাপ অবকাঠামো নির্মাণের বিশাল দায়িত্ব থাকবে।
ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরির জন্ম ১৯৭৬ সালে মারাকেশে। পেশায় আইনজীবী মানসুরি ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ের বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৯ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে তার উদয় ঘটে। ২০২১ সালে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি একই বছর জাতীয় সরকারের নগর উন্নয়ন ও আবাসনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচি ও আবাসন সহায়তা তদারকি করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোয় রচিত হলো নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো কোনো নারী দেশটির সরকারপ্রধানের চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন। মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরিকে নিয়োগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে তার দল জয়লাভ করার পর বাদশাহ তাকে নতুন সরকার গঠনের এই ভার দেন।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে মধ্যপন্থী দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম) সর্বাধিক আসনে জয় পায়। ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা এজ্জাহরা মানসুরি এ দলের শীর্ষ রাজনীতিক। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর আরব বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন তিনি।
মরক্কোর মন্ত্রিসভায় আসার আগে মানসুরি নগর পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিখ্যাত পর্যটন শহর মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর এক টেলিভিশন বার্তায় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকার পরিচালনার ভার নিচ্ছেন। এটি মরক্কোর সমগ্র নারীসমাজের জন্য এক বড় অর্জনের দিন।’
মরক্কোর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৩৯৫টি আসনের মধ্যে মানসুরির দল ৯৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮টি আসনের কোটা পূরণ না হওয়ায় তাকে এখন অন্যান্য সমমনা দলের সঙ্গে জোট গঠনে আলোচনা চালাতে হবে। পিএএম সব দলের সঙ্গেই আলোচনার পথ খোলা রেখেছে বলে জানিয়েছে।
২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক মরক্কো (পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে)। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া জোট সরকারের ওপর বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন বাজেট ও বিশ্বকাপ অবকাঠামো নির্মাণের বিশাল দায়িত্ব থাকবে।
ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরির জন্ম ১৯৭৬ সালে মারাকেশে। পেশায় আইনজীবী মানসুরি ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ের বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৯ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে তার উদয় ঘটে। ২০২১ সালে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি একই বছর জাতীয় সরকারের নগর উন্নয়ন ও আবাসনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচি ও আবাসন সহায়তা তদারকি করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন