সংবাদ

যশোরে নড়বড়ে কাঠের ঘরে নবীরুন্নেসার মানবেতর জীবন


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

যশোরে নড়বড়ে কাঠের ঘরে নবীরুন্নেসার মানবেতর জীবন
ছবি : সংবাদ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আগরহাটি গ্রামে পুকুরের ওপর বাঁশ ও কাঠের খুঁটিতে ভর করে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি নড়বড়ে দোকানঘর। যেকোনো সময় ভেঙে পুকুরে পড়ে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক এই ঘরটিই ৯০ বছর বয়সী অসুস্থ বৃদ্ধা নবীরুন্নেসার একমাত্র আশ্রয়। নেই বিছানা, বালিশ কিংবা নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা; অনিশ্চয়তা ও চরম শঙ্কার মধ্যেই কাটছে তার জীবন।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ নবীরুন্নেসা দিনের আলোতেও ঠিকমতো দেখতে পান না, সন্ধ্যা নামলে হয়ে পড়েন পুরোপুরি দৃষ্টিহীন। একা কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য তার নেই। স্থানীয় প্রতিবেশীরা খাবার দিলে জোটে, নতুবা না খেয়েই পার করতে হয় রাত।

নবীরুন্নেসা জানান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তার স্বামী হবিবুর রহমান নিখোঁজ হন। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বেনাপোল থেকে বাবার বাড়ি আগরহাটি গ্রামে চলে আসেন তিনি। বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া সামান্য জমি বিক্রি করে দুই মেয়ের বিয়ে দেন। এক মেয়ে প্রায় ২০ বছর আগে দারিদ্র্য ও যৌতুকের চাপে আত্মহত্যা করেন, অন্য মেয়ের সংসারেও রয়েছে তীব্র অভাব। 

জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া নবীরুন্নেসাকে প্রায় ২২ বছর আগে এক ভাইপো পরিত্যক্ত এই কাঠের দোকানঘরটি এনে দেন। নিজের জায়গা না থাকায় একটি যৌথ পুকুরের এক কোণে সেটি বসিয়ে তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

চোখের জল মুছতে মুছতে নবীরুন্নেসা বলেন, ‘ঘরটা ভেঙে পড়ছে, এখন আমি কোথায় থাকব? খাবই-বা কী?’ তার আকুল আকুতি, অন্তত যদি চোখের আলোটুকু ফিরে পেতেন, তবে কারও বোঝা না হয়ে নিজে চেয়েচিন্তেও খেতে পারতেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ও নবীরুন্নেসার ভাতিজা মামুনুর রশীদ মিন্টু জানান, পারিবারিক সাধ্য অনুযায়ী তারা পাশে থাকার চেষ্টা করেন। তবে সরকারি সাহায্য ও কোনো স্থায়ী আশ্রয় ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

জীবনের শেষ বয়সে এসে এমন মানবেতর জীবনযাপন স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। নবীরুন্নেসার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়, চোখের চিকিৎসা ও নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


যশোরে নড়বড়ে কাঠের ঘরে নবীরুন্নেসার মানবেতর জীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আগরহাটি গ্রামে পুকুরের ওপর বাঁশ ও কাঠের খুঁটিতে ভর করে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি নড়বড়ে দোকানঘর। যেকোনো সময় ভেঙে পুকুরে পড়ে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক এই ঘরটিই ৯০ বছর বয়সী অসুস্থ বৃদ্ধা নবীরুন্নেসার একমাত্র আশ্রয়। নেই বিছানা, বালিশ কিংবা নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা; অনিশ্চয়তা ও চরম শঙ্কার মধ্যেই কাটছে তার জীবন।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ নবীরুন্নেসা দিনের আলোতেও ঠিকমতো দেখতে পান না, সন্ধ্যা নামলে হয়ে পড়েন পুরোপুরি দৃষ্টিহীন। একা কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য তার নেই। স্থানীয় প্রতিবেশীরা খাবার দিলে জোটে, নতুবা না খেয়েই পার করতে হয় রাত।

নবীরুন্নেসা জানান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তার স্বামী হবিবুর রহমান নিখোঁজ হন। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বেনাপোল থেকে বাবার বাড়ি আগরহাটি গ্রামে চলে আসেন তিনি। বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া সামান্য জমি বিক্রি করে দুই মেয়ের বিয়ে দেন। এক মেয়ে প্রায় ২০ বছর আগে দারিদ্র্য ও যৌতুকের চাপে আত্মহত্যা করেন, অন্য মেয়ের সংসারেও রয়েছে তীব্র অভাব। 

জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া নবীরুন্নেসাকে প্রায় ২২ বছর আগে এক ভাইপো পরিত্যক্ত এই কাঠের দোকানঘরটি এনে দেন। নিজের জায়গা না থাকায় একটি যৌথ পুকুরের এক কোণে সেটি বসিয়ে তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

চোখের জল মুছতে মুছতে নবীরুন্নেসা বলেন, ‘ঘরটা ভেঙে পড়ছে, এখন আমি কোথায় থাকব? খাবই-বা কী?’ তার আকুল আকুতি, অন্তত যদি চোখের আলোটুকু ফিরে পেতেন, তবে কারও বোঝা না হয়ে নিজে চেয়েচিন্তেও খেতে পারতেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ও নবীরুন্নেসার ভাতিজা মামুনুর রশীদ মিন্টু জানান, পারিবারিক সাধ্য অনুযায়ী তারা পাশে থাকার চেষ্টা করেন। তবে সরকারি সাহায্য ও কোনো স্থায়ী আশ্রয় ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

জীবনের শেষ বয়সে এসে এমন মানবেতর জীবনযাপন স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। নবীরুন্নেসার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়, চোখের চিকিৎসা ও নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত