সংবাদ

২০০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী, দেখার কেউ নেই


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

২০০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী, দেখার কেউ নেই
শ্রী নদীর তলদেশ পলি জমে ভরাট হওয়ায় থমকে গেছে পানি নিষ্কাশন। ছবি : সংবাদ

বর্ষা মৌসুম পেরিয়ে গেলেও পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় যশোরের ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ২০০ গ্রামে থমকে আছে জীবনযাত্রা। গত তিন মাস ধরে এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই এখন ঠাঁই নিয়েছেন রাস্তার ওপর। পানিতে নিমজ্জিত থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পড়াশোনা।

দীর্ঘদিনের এই দীর্ঘশ্বাস ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির দাবিতে ৫ অক্টোবর (সোমবার) ‘ভবদহ দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এই উপলক্ষে পদযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই ভবদহ অঞ্চলে কার্যকর জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) চালুর জোর দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার নিম্নাঞ্চল নিয়ে ভবদহ এলাকা গঠিত। অভয়নগরের ভবানীপুর গ্রামে শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে এই অঞ্চলের ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। তবে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীতে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারছে না।

বাস্তব চিত্র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ এখনো পানির নিচে। মণিরামপুরের কুলটিয়া ইউনিয়নের বাজে কুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জমা পানিতে গজিয়েছে কচুরিপানা। এতে শিশু শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে।


সংগ্রাম কমিটির দাবি, গত জুলাইয়ের অতিবৃষ্টিতে তিন উপজেলার ২০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। গাজী আবদুল হামিদ বলেন, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারকাজ চললেও টিআরএম চালু না হলে পলি জমে নদী আবার ভরাট হয়ে যাবে। তিনি ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) প্রস্তাব অনুযায়ী দ্রুত একটি বিলে টিআরএম চালু এবং আমডাঙ্গা খাল প্রশস্তকরণের দাবি জানান।

কমিটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে–নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পানিবন্দী মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের হামলা ও নির্যাতনের বিচার দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, বর্তমানে ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। ২১-ভেন্ট ভবদহ স্লুইসগেটের সব কটি কপাট খোলা রাখা হয়েছে এবং সেখান দিয়ে পানি বের হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই এলাকার পানি নেমে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


২০০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী, দেখার কেউ নেই

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বর্ষা মৌসুম পেরিয়ে গেলেও পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় যশোরের ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ২০০ গ্রামে থমকে আছে জীবনযাত্রা। গত তিন মাস ধরে এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই এখন ঠাঁই নিয়েছেন রাস্তার ওপর। পানিতে নিমজ্জিত থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পড়াশোনা।

দীর্ঘদিনের এই দীর্ঘশ্বাস ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির দাবিতে ৫ অক্টোবর (সোমবার) ‘ভবদহ দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এই উপলক্ষে পদযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই ভবদহ অঞ্চলে কার্যকর জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) চালুর জোর দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার নিম্নাঞ্চল নিয়ে ভবদহ এলাকা গঠিত। অভয়নগরের ভবানীপুর গ্রামে শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে এই অঞ্চলের ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। তবে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীতে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারছে না।

বাস্তব চিত্র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ এখনো পানির নিচে। মণিরামপুরের কুলটিয়া ইউনিয়নের বাজে কুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জমা পানিতে গজিয়েছে কচুরিপানা। এতে শিশু শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে।


সংগ্রাম কমিটির দাবি, গত জুলাইয়ের অতিবৃষ্টিতে তিন উপজেলার ২০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। গাজী আবদুল হামিদ বলেন, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারকাজ চললেও টিআরএম চালু না হলে পলি জমে নদী আবার ভরাট হয়ে যাবে। তিনি ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) প্রস্তাব অনুযায়ী দ্রুত একটি বিলে টিআরএম চালু এবং আমডাঙ্গা খাল প্রশস্তকরণের দাবি জানান।

কমিটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে–নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পানিবন্দী মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের হামলা ও নির্যাতনের বিচার দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, বর্তমানে ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। ২১-ভেন্ট ভবদহ স্লুইসগেটের সব কটি কপাট খোলা রাখা হয়েছে এবং সেখান দিয়ে পানি বের হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই এলাকার পানি নেমে যাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত