সংবাদ

বিলুপ্তির পথে ১৭২ বছরের পুরোনো বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরি


জেআই জুয়েল, বরিশাল
জেআই জুয়েল, বরিশাল
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

বিলুপ্তির পথে ১৭২ বছরের পুরোনো বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরি
ছবি : সংবাদ

১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশালের ১৭২ বছরের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক লাইব্রেরিটি আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় নগরীর বিবির পুকুর পাড়ে অবস্থিত এই পাঠাগারটি ছিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। তবে বর্তমানে বাঁধ রোডে সরিয়ে নেওয়া লাইব্রেরিটির অবস্থা জরাজীর্ণ।

ভবনের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা, আর বিরল ও অমূল্য বইগুলো নষ্ট হচ্ছে পোকা-মাকড়ের আক্রমণে।

লাইব্রেরির কেয়ারটেকার শহীদ গাজী জানান, বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৪ হাজার বই রয়েছে, যার বড় অংশই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, ‘মাসে সামান্য সম্মানী ভাতায় আমি বইগুলো আগলে রেখেছি। কিন্তু একার পক্ষে এত বড় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৫ সালে লাইব্রেরিটি বিবির পুকুর পাড় থেকে বাঁধ রোডে স্থানান্তর করা হয়। তবে পুকুর পাড়ের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকার পর ২০০২ সালে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ভাড়া নেয় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি। ভবনটির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।

লাইব্রেরি পুনরুদ্ধারের দাবিতে সক্রিয় কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভাড়াটিয়া হিসেবে ঢুকে পুরো ভবন দখল করা হয়েছে। আমরা চাই লাইব্রেরির ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব ভবন ফিরিয়ে দিয়ে পাঠাগারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক।’

অন্যদিকে রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি সূত্রে বলা হয়, ‘২০০২ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ও নোংরা অবস্থায় পড়ে ছিল। আমরা নিজেদের অর্থায়নে এটি সংস্কার করেছি। আমরা ভবনের মালিকানা দাবি করছি না। তবে এখানে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করে লাইব্রেরি ও রিপোর্টার্স ইউনিটি—উভয়ের জন্যই আলাদা ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

পাবলিক লাইব্রেরি পুনর্দখল ও চালুর দাবিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পুরোনো ভবনের সামনে ‘বইপাঠ’ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর একটি ৫১ সদস্যের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। অপর দিকে রিপোর্টার্স ইউনিটিও জেলা প্রশাসকের কাছে ৭ দফা দাবি জানিয়ে আবেদন করেছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—লাইব্রেরি পুনরায় সচল করা, ভবন সংস্কার, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটি বাতিল করা।

পদাধিকারবলে লাইব্রেরির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং সাধারণ সম্পাদক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হলেও গত ৩ দশকে কেন এটি সচল করা যায়নি—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরীর সচেতন সমাজ। সাংবাদিকদের একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘আমরা লাইব্রেরিটি নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছি। এটি যেহেতু অনেক পুরোনো ও জরাজীর্ণ, আমি পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি এটি নতুন করে নির্মাণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও জানান, এর আগের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন লাইব্রেরি সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদের কাছে অনুদান চেয়েছিলেন, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমানে জরাজীর্ণ লাইব্রেরির বইগুলো নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। পাশের কালেক্টরেট স্কুল ভবনে একটি রুম নিয়ে বইগুলো আপাতত রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে বরিশালবাসীকে একটি সুন্দর লাইব্রেরি উপহার দেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


বিলুপ্তির পথে ১৭২ বছরের পুরোনো বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশালের ১৭২ বছরের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক লাইব্রেরিটি আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় নগরীর বিবির পুকুর পাড়ে অবস্থিত এই পাঠাগারটি ছিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। তবে বর্তমানে বাঁধ রোডে সরিয়ে নেওয়া লাইব্রেরিটির অবস্থা জরাজীর্ণ।

ভবনের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা, আর বিরল ও অমূল্য বইগুলো নষ্ট হচ্ছে পোকা-মাকড়ের আক্রমণে।

লাইব্রেরির কেয়ারটেকার শহীদ গাজী জানান, বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৪ হাজার বই রয়েছে, যার বড় অংশই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, ‘মাসে সামান্য সম্মানী ভাতায় আমি বইগুলো আগলে রেখেছি। কিন্তু একার পক্ষে এত বড় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৫ সালে লাইব্রেরিটি বিবির পুকুর পাড় থেকে বাঁধ রোডে স্থানান্তর করা হয়। তবে পুকুর পাড়ের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকার পর ২০০২ সালে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ভাড়া নেয় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি। ভবনটির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।

লাইব্রেরি পুনরুদ্ধারের দাবিতে সক্রিয় কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভাড়াটিয়া হিসেবে ঢুকে পুরো ভবন দখল করা হয়েছে। আমরা চাই লাইব্রেরির ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব ভবন ফিরিয়ে দিয়ে পাঠাগারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক।’

অন্যদিকে রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি সূত্রে বলা হয়, ‘২০০২ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ও নোংরা অবস্থায় পড়ে ছিল। আমরা নিজেদের অর্থায়নে এটি সংস্কার করেছি। আমরা ভবনের মালিকানা দাবি করছি না। তবে এখানে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করে লাইব্রেরি ও রিপোর্টার্স ইউনিটি—উভয়ের জন্যই আলাদা ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

পাবলিক লাইব্রেরি পুনর্দখল ও চালুর দাবিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পুরোনো ভবনের সামনে ‘বইপাঠ’ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর একটি ৫১ সদস্যের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। অপর দিকে রিপোর্টার্স ইউনিটিও জেলা প্রশাসকের কাছে ৭ দফা দাবি জানিয়ে আবেদন করেছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—লাইব্রেরি পুনরায় সচল করা, ভবন সংস্কার, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটি বাতিল করা।

পদাধিকারবলে লাইব্রেরির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং সাধারণ সম্পাদক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হলেও গত ৩ দশকে কেন এটি সচল করা যায়নি—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরীর সচেতন সমাজ। সাংবাদিকদের একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘আমরা লাইব্রেরিটি নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছি। এটি যেহেতু অনেক পুরোনো ও জরাজীর্ণ, আমি পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি এটি নতুন করে নির্মাণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও জানান, এর আগের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন লাইব্রেরি সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদের কাছে অনুদান চেয়েছিলেন, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমানে জরাজীর্ণ লাইব্রেরির বইগুলো নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। পাশের কালেক্টরেট স্কুল ভবনে একটি রুম নিয়ে বইগুলো আপাতত রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে বরিশালবাসীকে একটি সুন্দর লাইব্রেরি উপহার দেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত