সংবাদ

পুরোনো সৌর প্যানেলের ভবিষ্যৎ কী, বাড়ছে বর্জ্যের উদ্বেগ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

পুরোনো সৌর প্যানেলের ভবিষ্যৎ কী, বাড়ছে বর্জ্যের উদ্বেগ

সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র—বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত প্যানেল বছরের পর বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। তবে এসব প্যানেলের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর সেগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) তথ্য অনুযায়ী, একটি সৌর প্যানেল সাধারণত ২৫ বছরের বেশি সময় কার্যকর থাকতে পারে। এরপর সেটি বর্জ্যে পরিণত হলে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়।

বাড়ছে সৌর প্যানেলের বর্জ্য

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১০ সালে দেশটির নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪ শতাংশ এসেছিল সৌরবিদ্যুৎ থেকে। ২০২০ সালে এই হার বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছায়। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এসেছিল সৌরপ্রযুক্তি থেকে।

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে ভবিষ্যতে পুরোনো প্যানেলের সংখ্যাও বাড়বে। ইপিএর হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সৌর প্যানেল বর্জ্য প্রায় ১০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে সেই পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টনে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

প্যানেলে থাকে বিভিন্ন ধাতু

সৌর প্যানেল ব্যবহারের সময় সাধারণত বায়ুতে দূষণকারী পদার্থ নির্গত হয় না। কিন্তু ব্যবহারের শেষ পর্যায়ে সেগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ প্যানেলের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ধাতু ও অন্যান্য উপাদান সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন।

বর্তমানে ব্যবহৃত সৌর প্যানেলের ৯৫ শতাংশের বেশি ক্রিস্টালাইন-সিলিকন প্রযুক্তির। এতে সিলিকনের পাশাপাশি অল্প পরিমাণে রুপা ও তামার মতো মূল্যবান ধাতু থাকে। এসব প্যানেলের সাধারণ আয়ু ২৫ বছর বা তার বেশি।

অন্যদিকে থিন-ফিল্ম বা পাতলা স্তরের সৌর প্যানেলে ক্যাডমিয়াম টেলুরাইড কিংবা কপার ইন্ডিয়াম গ্যালিয়াম ডিসেলেনাইডের মতো অর্ধপরিবাহী উপাদান ব্যবহৃত হয়।

সব পুরোনো প্যানেল একই ধরনের বর্জ্য নয়

ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হওয়া সব সৌর প্যানেলকে একই ধরনের বর্জ্য হিসেবে দেখা যায় না। ইপিএর পরীক্ষায় বিভিন্ন মডেল ও নির্মাতার প্যানেলে ধাতু ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণে পার্থক্য পাওয়া গেছে।

কিছু প্যানেলে সিসা বা ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু এমন মাত্রায় থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো কোনো ব্যবহৃত সৌর প্যানেল বিপজ্জনক বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবার একই ধরনের অন্য প্যানেল সেই শ্রেণিতে নাও পড়তে পারে।

এমনকি একই নির্মাতা ও মডেলের প্যানেলের ক্ষেত্রেও পরীক্ষার ফল ভিন্ন হতে পারে।

কীভাবে নির্ধারিত হয় ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সৌর প্যানেল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরিত্যক্ত হলে সেটিকে বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর সেটির ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হয়।

সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু বর্জ্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারে কি না, তা যাচাইয়ে ‘টক্সিসিটি ক্যারেক্টারিস্টিক লিচিং প্রসিডিউর’ পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষায় নির্ধারিত মাত্রার বেশি ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে এলে সেটিকে বিপজ্জনক বর্জ্য হিসেবে ব্যবস্থাপনা করতে হয়।

তবে পুরোনো সৌর প্যানেল মানেই বিপজ্জনক বর্জ্য—এমন নয়। প্যানেলের নকশা, উপাদান ও নির্মাণপ্রক্রিয়ার ভিন্নতার কারণে ঝুঁকিও আলাদা হতে পারে।

পুনর্ব্যবহারে গুরুত্ব ইপিএর

পুরোনো প্যানেল ফেলে না দিয়ে এর ব্যবহারযোগ্য উপাদান উদ্ধার করা গেলে নতুন প্যানেল তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শক্তির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। তাই সৌর প্যানেলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পুনর্ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ইপিএ।

বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত কিছু সৌর প্যানেলও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পুনর্ব্যবহার-সংক্রান্ত কিছু নিয়ন্ত্রক সুবিধার আওতায় আসতে পারে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি মূল্যবান উপাদানগুলোকে আবার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়।

‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট’ ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগ

সৌর প্যানেলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ ও কার্যকর করতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইপিএ সৌর প্যানেলকে ‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট’ ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য নতুন নিয়ম তৈরির উদ্যোগের কথা জানায়।

এই ব্যবস্থার লক্ষ্য নির্দিষ্ট ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ করা এবং একই সঙ্গে নিরাপদ ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরি করা।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যও এ বিষয়ে নিজস্ব উদ্যোগ নিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, নিউ জার্সি, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওয়াশিংটনে সৌর প্যানেলের ব্যবহার শেষে ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার বা নির্মাতার কাছে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আইন, কর্মসূচি ও নীতিমালা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অভিন্ন ব্যবস্থা নয়।

সৌরশক্তির টেকসই ভবিষ্যতের প্রশ্ন

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো প্যানেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্যানেল যতদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, ততদিন এর পরিবেশগত সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু কার্যকাল শেষ হওয়ার পর সেটি যেন নতুন পরিবেশগত সমস্যার কারণ না হয়, সে জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত সংগ্রহ, নিরাপদ পরিবহন, পুনর্ব্যবহার ও যথাযথ নিষ্পত্তি।

সৌরশক্তির টেকসই ভবিষ্যৎ তাই শুধু সূর্যের আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তরের ওপর নির্ভর করছে না; ব্যবহৃত প্রযুক্তির পুরো জীবনচক্র কতটা দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


পুরোনো সৌর প্যানেলের ভবিষ্যৎ কী, বাড়ছে বর্জ্যের উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র—বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত প্যানেল বছরের পর বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। তবে এসব প্যানেলের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর সেগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়েও এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) তথ্য অনুযায়ী, একটি সৌর প্যানেল সাধারণত ২৫ বছরের বেশি সময় কার্যকর থাকতে পারে। এরপর সেটি বর্জ্যে পরিণত হলে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়।

বাড়ছে সৌর প্যানেলের বর্জ্য

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১০ সালে দেশটির নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪ শতাংশ এসেছিল সৌরবিদ্যুৎ থেকে। ২০২০ সালে এই হার বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছায়। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এসেছিল সৌরপ্রযুক্তি থেকে।

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে ভবিষ্যতে পুরোনো প্যানেলের সংখ্যাও বাড়বে। ইপিএর হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সৌর প্যানেল বর্জ্য প্রায় ১০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে সেই পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টনে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

প্যানেলে থাকে বিভিন্ন ধাতু

সৌর প্যানেল ব্যবহারের সময় সাধারণত বায়ুতে দূষণকারী পদার্থ নির্গত হয় না। কিন্তু ব্যবহারের শেষ পর্যায়ে সেগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ প্যানেলের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ধাতু ও অন্যান্য উপাদান সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন।

বর্তমানে ব্যবহৃত সৌর প্যানেলের ৯৫ শতাংশের বেশি ক্রিস্টালাইন-সিলিকন প্রযুক্তির। এতে সিলিকনের পাশাপাশি অল্প পরিমাণে রুপা ও তামার মতো মূল্যবান ধাতু থাকে। এসব প্যানেলের সাধারণ আয়ু ২৫ বছর বা তার বেশি।

অন্যদিকে থিন-ফিল্ম বা পাতলা স্তরের সৌর প্যানেলে ক্যাডমিয়াম টেলুরাইড কিংবা কপার ইন্ডিয়াম গ্যালিয়াম ডিসেলেনাইডের মতো অর্ধপরিবাহী উপাদান ব্যবহৃত হয়।

সব পুরোনো প্যানেল একই ধরনের বর্জ্য নয়

ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হওয়া সব সৌর প্যানেলকে একই ধরনের বর্জ্য হিসেবে দেখা যায় না। ইপিএর পরীক্ষায় বিভিন্ন মডেল ও নির্মাতার প্যানেলে ধাতু ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণে পার্থক্য পাওয়া গেছে।

কিছু প্যানেলে সিসা বা ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু এমন মাত্রায় থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো কোনো ব্যবহৃত সৌর প্যানেল বিপজ্জনক বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবার একই ধরনের অন্য প্যানেল সেই শ্রেণিতে নাও পড়তে পারে।

এমনকি একই নির্মাতা ও মডেলের প্যানেলের ক্ষেত্রেও পরীক্ষার ফল ভিন্ন হতে পারে।

কীভাবে নির্ধারিত হয় ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সৌর প্যানেল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরিত্যক্ত হলে সেটিকে বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর সেটির ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হয়।

সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু বর্জ্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারে কি না, তা যাচাইয়ে ‘টক্সিসিটি ক্যারেক্টারিস্টিক লিচিং প্রসিডিউর’ পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষায় নির্ধারিত মাত্রার বেশি ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে এলে সেটিকে বিপজ্জনক বর্জ্য হিসেবে ব্যবস্থাপনা করতে হয়।

তবে পুরোনো সৌর প্যানেল মানেই বিপজ্জনক বর্জ্য—এমন নয়। প্যানেলের নকশা, উপাদান ও নির্মাণপ্রক্রিয়ার ভিন্নতার কারণে ঝুঁকিও আলাদা হতে পারে।

পুনর্ব্যবহারে গুরুত্ব ইপিএর

পুরোনো প্যানেল ফেলে না দিয়ে এর ব্যবহারযোগ্য উপাদান উদ্ধার করা গেলে নতুন প্যানেল তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শক্তির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। তাই সৌর প্যানেলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পুনর্ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ইপিএ।

বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত কিছু সৌর প্যানেলও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পুনর্ব্যবহার-সংক্রান্ত কিছু নিয়ন্ত্রক সুবিধার আওতায় আসতে পারে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি মূল্যবান উপাদানগুলোকে আবার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়।

‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট’ ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগ

সৌর প্যানেলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ ও কার্যকর করতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইপিএ সৌর প্যানেলকে ‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট’ ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য নতুন নিয়ম তৈরির উদ্যোগের কথা জানায়।

এই ব্যবস্থার লক্ষ্য নির্দিষ্ট ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ করা এবং একই সঙ্গে নিরাপদ ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরি করা।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যও এ বিষয়ে নিজস্ব উদ্যোগ নিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, নিউ জার্সি, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওয়াশিংটনে সৌর প্যানেলের ব্যবহার শেষে ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার বা নির্মাতার কাছে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আইন, কর্মসূচি ও নীতিমালা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অভিন্ন ব্যবস্থা নয়।

সৌরশক্তির টেকসই ভবিষ্যতের প্রশ্ন

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো প্যানেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্যানেল যতদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, ততদিন এর পরিবেশগত সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু কার্যকাল শেষ হওয়ার পর সেটি যেন নতুন পরিবেশগত সমস্যার কারণ না হয়, সে জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত সংগ্রহ, নিরাপদ পরিবহন, পুনর্ব্যবহার ও যথাযথ নিষ্পত্তি।

সৌরশক্তির টেকসই ভবিষ্যৎ তাই শুধু সূর্যের আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তরের ওপর নির্ভর করছে না; ব্যবহৃত প্রযুক্তির পুরো জীবনচক্র কতটা দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত