দেশে শিশুশ্রম নিরসনে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেছেন, কেবল আইন করে শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়, এর জন্য দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষার প্রসার এবং বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্ল্যাটফর্মের (ক্লেপ) সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’ (এএসডি) এই সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপে বক্তারা উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইনের প্রয়োগকারীরা অনেক সময় আপস করেন, বিশেষ করে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখা যায়। আমরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়ে কথা বলি, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা জরুরি। একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে নির্বাহী বিভাগের কাজের কড়া সমালোচনা ও তদারকি প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখান। তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এই মানবিক উদ্যোগগুলোকে আমাদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো: আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে অনানুষ্ঠানিক খাত এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন জানান, বর্তমানে ৪৩টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গৃহকর্মকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগ বন্ধে শ্রম অধিদপ্তর কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিম বলেন, ‘শিশুশ্রম বন্ধের বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনানুষ্ঠানিক খাত। ছোট কারখানা, দোকান বা গ্যারেজে শিশুরা কাজ করছে, যা নজরদারির বাইরে। শিশুকে কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে শিশুশ্রম নিরসন কার্যক্রমকে যুক্ত করা জরুরি।’
এএসডির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, শওকত আরা আক্তার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, আইএলওর জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক পাবলো নেরুদা, ক্লেপ-এর সদস্য এ কে এম মাকসুদ, শাপলা নীড় বাংলাদেশের মাহফুজা পারভীন, এএসডির কর্মসূচি পরিচালক লুৎফুন নাহার কান্তা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা, স্ক্যানের সহ-সভাপতি আফতাবুজ্জামান প্রমূখ।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
দেশে শিশুশ্রম নিরসনে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেছেন, কেবল আইন করে শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়, এর জন্য দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষার প্রসার এবং বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্ল্যাটফর্মের (ক্লেপ) সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’ (এএসডি) এই সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপে বক্তারা উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইনের প্রয়োগকারীরা অনেক সময় আপস করেন, বিশেষ করে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখা যায়। আমরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়ে কথা বলি, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা জরুরি। একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে নির্বাহী বিভাগের কাজের কড়া সমালোচনা ও তদারকি প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখান। তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এই মানবিক উদ্যোগগুলোকে আমাদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো: আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে অনানুষ্ঠানিক খাত এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন জানান, বর্তমানে ৪৩টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গৃহকর্মকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগ বন্ধে শ্রম অধিদপ্তর কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিম বলেন, ‘শিশুশ্রম বন্ধের বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনানুষ্ঠানিক খাত। ছোট কারখানা, দোকান বা গ্যারেজে শিশুরা কাজ করছে, যা নজরদারির বাইরে। শিশুকে কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে শিশুশ্রম নিরসন কার্যক্রমকে যুক্ত করা জরুরি।’
এএসডির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, শওকত আরা আক্তার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, আইএলওর জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক পাবলো নেরুদা, ক্লেপ-এর সদস্য এ কে এম মাকসুদ, শাপলা নীড় বাংলাদেশের মাহফুজা পারভীন, এএসডির কর্মসূচি পরিচালক লুৎফুন নাহার কান্তা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা, স্ক্যানের সহ-সভাপতি আফতাবুজ্জামান প্রমূখ।

আপনার মতামত লিখুন