চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক, দেশের স্বার্থবিরোধী এবং সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।
আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য থেকে দেশকে মুক্ত রাখার দাবিতে সিপিবি পল্টন শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
সমাবেশে সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, "সরকার জনমত উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। অবিলম্বে এই চুক্তি করা থেকে ফিরে না আসলে দেশের উপরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য আরো বৃদ্ধি পাবে। যা আগামীতে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব স্বাধীনতা খর্ব হবে। শুধু তাই নয়, ভূ রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আমেরিকা এ অঞ্চলে যে আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে সে কাজে সফল হলে বাংলাদেশকে আগামীতে প্রক্সি ওয়ার এর মধ্যে থাকতে হবে।"
চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনক। এখানে দুর্নীতি অব্যবস্থাপনা থাকলে, তা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যন্ত্রপাতির আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি আনা এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ আনতে হবে। কিন্তু এই পরিচালনার ভার বিদেশিদের দেওয়ার মধ্য দিয়ে সার্বভৌমত্ব বিরোধী অবস্থান নেওয়া যাবে না।"
সরকারের নীতির বৈপরীত্য তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, "সরকার বলে 'সবার আগে ও সবার জন্য বাংলাদেশ'। কিন্তু জনমত উপেক্ষা করে যদি বন্দরকে বিদেশিদের হাতে দেওয়া হয় তখন বলতে হবে সরকার মুখে যাই বলুক না কেন আসলে তার মূল লক্ষ্য হলো, 'সবার আগে এবং সবার জন্য আমেরিকা'।"
গণতন্ত্রের প্রকৃত সংজ্ঞা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিপিবির এই প্রবীণ নেতা বলেন, "নির্বাচিত হলেই সরকার গণতান্ত্রিক হয় না। গণতান্ত্রিক আচরণের মধ্য দিয়ে নিজেকেই গণতান্ত্রিক সরকার প্রমাণ করতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের না দেওয়ার ব্যাপারে দেশের অধিকাংশ মানুষ একমত থাকলেও সরকার জনগণ উপেক্ষা করে বিদেশীদের অপারেটরের দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অগণতান্ত্রিক।"
একই সাথে তিনি বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানান।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "দেশ আজ উগ্র দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্রাজ্যবাদের দাসত্বের কবলে। এরা বাংলাদেশের অর্থনীতি রাজনীতি সবকিছুকে হাতের মুঠায় নিয়ে আর একবার অগণতান্ত্রিক শাসনের ফাঁদে ফেলতে চায়। এই অবস্থায় দেশের সচেতন মহল কে জাগ্রত থাকতে হবে এবং দেশের স্বার্থ বিরোধী যে কোন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।"
সিপিবি পল্টন শাখার সম্পাদক রফিজুল ইসলাম রফিকের সভাপতিত্বে এবং সহ-সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ত্রিদীব সাহা, পল্টন থানার সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল এবং বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক, দেশের স্বার্থবিরোধী এবং সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।
আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য থেকে দেশকে মুক্ত রাখার দাবিতে সিপিবি পল্টন শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
সমাবেশে সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, "সরকার জনমত উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। অবিলম্বে এই চুক্তি করা থেকে ফিরে না আসলে দেশের উপরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য আরো বৃদ্ধি পাবে। যা আগামীতে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব স্বাধীনতা খর্ব হবে। শুধু তাই নয়, ভূ রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আমেরিকা এ অঞ্চলে যে আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে সে কাজে সফল হলে বাংলাদেশকে আগামীতে প্রক্সি ওয়ার এর মধ্যে থাকতে হবে।"
চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনক। এখানে দুর্নীতি অব্যবস্থাপনা থাকলে, তা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যন্ত্রপাতির আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি আনা এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ আনতে হবে। কিন্তু এই পরিচালনার ভার বিদেশিদের দেওয়ার মধ্য দিয়ে সার্বভৌমত্ব বিরোধী অবস্থান নেওয়া যাবে না।"
সরকারের নীতির বৈপরীত্য তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, "সরকার বলে 'সবার আগে ও সবার জন্য বাংলাদেশ'। কিন্তু জনমত উপেক্ষা করে যদি বন্দরকে বিদেশিদের হাতে দেওয়া হয় তখন বলতে হবে সরকার মুখে যাই বলুক না কেন আসলে তার মূল লক্ষ্য হলো, 'সবার আগে এবং সবার জন্য আমেরিকা'।"
গণতন্ত্রের প্রকৃত সংজ্ঞা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিপিবির এই প্রবীণ নেতা বলেন, "নির্বাচিত হলেই সরকার গণতান্ত্রিক হয় না। গণতান্ত্রিক আচরণের মধ্য দিয়ে নিজেকেই গণতান্ত্রিক সরকার প্রমাণ করতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের না দেওয়ার ব্যাপারে দেশের অধিকাংশ মানুষ একমত থাকলেও সরকার জনগণ উপেক্ষা করে বিদেশীদের অপারেটরের দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অগণতান্ত্রিক।"
একই সাথে তিনি বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানান।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "দেশ আজ উগ্র দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্রাজ্যবাদের দাসত্বের কবলে। এরা বাংলাদেশের অর্থনীতি রাজনীতি সবকিছুকে হাতের মুঠায় নিয়ে আর একবার অগণতান্ত্রিক শাসনের ফাঁদে ফেলতে চায়। এই অবস্থায় দেশের সচেতন মহল কে জাগ্রত থাকতে হবে এবং দেশের স্বার্থ বিরোধী যে কোন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।"
সিপিবি পল্টন শাখার সম্পাদক রফিজুল ইসলাম রফিকের সভাপতিত্বে এবং সহ-সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ত্রিদীব সাহা, পল্টন থানার সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল এবং বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত।

আপনার মতামত লিখুন