সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ব্যতিক্রমী আয়োজনে উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গাপূজা। উপজেলার আমিয়ান বাথানডাঙা সার্বজনীন দুর্গাপূজায় এবার সোলার ককশিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা। এর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে কৃত্রিম ভাসমান সেতু, ডিজিটাল আলোকসজ্জা ও আকর্ষণীয় লাইটিং শো। ভিন্নধর্মী এই আয়োজন দেখতে প্রতিমার রূপদান পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই মণ্ডপে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা।
আমিয়ান বাথানডাঙা এলাকায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আয়োজকদের দাবি, এটি সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম বৃহৎ পূজার আয়োজন। মণ্ডপের মূল আকর্ষণ প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার সোলার ককশিট। প্রচলিত কাদা-মাটি ও খড়-বাঁশের বাইরে গিয়ে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে সম্পূর্ণ ককশিটের এই দুর্গা প্রতিমা।
আমিয়ান যুব সংঘের সহসভাপতি প্রতীপ ঘোষ জানান, এবার তরুণদের উদ্যোগে বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ককশিটের প্রতিমার পাশাপাশি ভাসমান সেতু ও ডিজিটাল আলোকসজ্জা রাখা হয়েছে। অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে পরিবেশিত হবে বিশেষ লাইটিং শো। যুব সংঘের সহ-সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার ঘোষ বলেন, 'দর্শনার্থীদের একদম নতুন কিছু উপহার দেওয়ার ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। মণ্ডপ এলাকায় রাধাগোবিন্দ মন্দির ও শিবমন্দিরের পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য ভাসমান সেতু তৈরি করা হয়েছে।'
প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও এরই মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্তের মানুষও খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মালঞ্চ রানী ঘোষ বলেন, সোলার ককশিটের প্রতিমা ও ভাসমান সেতু দেখার জন্য প্রতিদিনই আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন আসছেন।
বিপুল দর্শনার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে মণ্ডপে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। আমিয়ান গৌরী মঠের পূজারি শ্যামল সরকার জানান, এখানে পঞ্চমবারের মতো পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি দর্শনার্থী আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, ককশিটের এই প্রতিমা তৈরিতে খরচ হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। প্রতিমা শিল্পীর মজুরি বাবদ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি কেনায় খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মণ্ডপের সামগ্রিক বাজেট ধরা হয়েছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। গ্রামবাসী, শুভানুধ্যায়ী ও সরকারি অনুদানের অর্থ দিয়ে এই বাজেটের সংস্থান করা হচ্ছে বলে জানান যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপজয় ঘোষ।
চলতি বছর কালিগঞ্জ উপজেলায় মোট ৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে আমিয়ান বাথানডাঙার আয়োজনটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে পারে বলে ধারণা করছে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মিলন কুমার ঘোষ বলেন, আমিয়ান বাথানডাঙার ককশিটের প্রতিমা ও ভাসমান সেতু চমৎকার আমেজ তৈরি করেছে। মণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ব্যতিক্রমী আয়োজনে উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গাপূজা। উপজেলার আমিয়ান বাথানডাঙা সার্বজনীন দুর্গাপূজায় এবার সোলার ককশিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা। এর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে কৃত্রিম ভাসমান সেতু, ডিজিটাল আলোকসজ্জা ও আকর্ষণীয় লাইটিং শো। ভিন্নধর্মী এই আয়োজন দেখতে প্রতিমার রূপদান পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই মণ্ডপে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা।
আমিয়ান বাথানডাঙা এলাকায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আয়োজকদের দাবি, এটি সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম বৃহৎ পূজার আয়োজন। মণ্ডপের মূল আকর্ষণ প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার সোলার ককশিট। প্রচলিত কাদা-মাটি ও খড়-বাঁশের বাইরে গিয়ে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে সম্পূর্ণ ককশিটের এই দুর্গা প্রতিমা।
আমিয়ান যুব সংঘের সহসভাপতি প্রতীপ ঘোষ জানান, এবার তরুণদের উদ্যোগে বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ককশিটের প্রতিমার পাশাপাশি ভাসমান সেতু ও ডিজিটাল আলোকসজ্জা রাখা হয়েছে। অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে পরিবেশিত হবে বিশেষ লাইটিং শো। যুব সংঘের সহ-সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার ঘোষ বলেন, 'দর্শনার্থীদের একদম নতুন কিছু উপহার দেওয়ার ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। মণ্ডপ এলাকায় রাধাগোবিন্দ মন্দির ও শিবমন্দিরের পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য ভাসমান সেতু তৈরি করা হয়েছে।'
প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও এরই মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্তের মানুষও খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মালঞ্চ রানী ঘোষ বলেন, সোলার ককশিটের প্রতিমা ও ভাসমান সেতু দেখার জন্য প্রতিদিনই আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন আসছেন।
বিপুল দর্শনার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে মণ্ডপে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। আমিয়ান গৌরী মঠের পূজারি শ্যামল সরকার জানান, এখানে পঞ্চমবারের মতো পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি দর্শনার্থী আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, ককশিটের এই প্রতিমা তৈরিতে খরচ হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। প্রতিমা শিল্পীর মজুরি বাবদ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি কেনায় খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মণ্ডপের সামগ্রিক বাজেট ধরা হয়েছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। গ্রামবাসী, শুভানুধ্যায়ী ও সরকারি অনুদানের অর্থ দিয়ে এই বাজেটের সংস্থান করা হচ্ছে বলে জানান যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপজয় ঘোষ।
চলতি বছর কালিগঞ্জ উপজেলায় মোট ৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে আমিয়ান বাথানডাঙার আয়োজনটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে পারে বলে ধারণা করছে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মিলন কুমার ঘোষ বলেন, আমিয়ান বাথানডাঙার ককশিটের প্রতিমা ও ভাসমান সেতু চমৎকার আমেজ তৈরি করেছে। মণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন