সংবাদ

এক রাতেই কৃষকের ৪০ মণ পেঁপে ধ্বংস করল দুর্বৃত্তরা


প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১ পিএম

এক রাতেই কৃষকের ৪০ মণ পেঁপে ধ্বংস করল দুর্বৃত্তরা
দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্নে গড়া পেঁপেবাগান এক রাতেই কেটে ধ্বংস করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ছবি : সংবাদ

দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর স্বপ্নে গড়া ফলন্ত পেঁপেবাগান এক রাতেই লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কাস্তে দিয়ে কেটে ও হাত দিয়ে ছিঁড়ে নষ্ট করা হয়েছে প্রায় ৪০ মণ কাঁচা পেঁপে। সঙ্গে নিয়ে গেছে বীজ সংরক্ষণের জন্য রাখা বিশেষ ৪০টি পাকা পেঁপে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরের পশু হাসপাতালের পেছনে ধলেশ্বরী নদীর উত্তরপাড় এলাকায় এ বর্বর ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক সাদেক মিয়া।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ধলেশ্বরী নদীর তীরে সাদেক মিয়ার ৩০ শতাংশ জমিতে প্রায় ২৭০টি ফলন্ত পেঁপেগাছ ছিল। এবার বাগানজুড়ে এসেছিল বেশ ভালো ফলন। কিন্তু রোববার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাগানে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। তারা কোনো গাছ বা পেঁপে বিক্রি বা ব্যবহারের জন্য নেয়নি; মূলত ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই কাস্তে দিয়ে পেঁপে কেটে মাটিতে ফেলে রেখে যায়। শুধু তা-ই নয়, আগামী মৌসুমের বীজ সংরক্ষণের জন্য রাখা প্রায় ছয় কেজি ওজনের ৪০টি পাকা পেঁপে চুরি করে নিয়ে গেছে তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে বাগানে গিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে কাঁচা পেঁপে পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক সাদেক মিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'দীর্ঘদিনের শ্রম আর জমানো টাকায় বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। এবার ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ করে দিল। এই ক্ষতি আমি কীভাবে সামলে উঠব বুঝতে পারছি না। আমি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।'

ঘটনার পর স্থানীয় উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বাগান পরিদর্শন করেছেন। অসুস্থ থাকায় ঘিওরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করা সম্ভব না হলেও মুঠোফোনে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সরকারি বরাদ্দ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে তাৎক্ষণিকভাবে চাল, ডাল, আটা ও লবণ দেওয়া হয়েছে।'

এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মুহব্বত কবীর জানান, কৃষকের ফসল নষ্টের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কৃষকের এমন স্বপ্নভঙ্গের ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


এক রাতেই কৃষকের ৪০ মণ পেঁপে ধ্বংস করল দুর্বৃত্তরা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর স্বপ্নে গড়া ফলন্ত পেঁপেবাগান এক রাতেই লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কাস্তে দিয়ে কেটে ও হাত দিয়ে ছিঁড়ে নষ্ট করা হয়েছে প্রায় ৪০ মণ কাঁচা পেঁপে। সঙ্গে নিয়ে গেছে বীজ সংরক্ষণের জন্য রাখা বিশেষ ৪০টি পাকা পেঁপে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরের পশু হাসপাতালের পেছনে ধলেশ্বরী নদীর উত্তরপাড় এলাকায় এ বর্বর ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক সাদেক মিয়া।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ধলেশ্বরী নদীর তীরে সাদেক মিয়ার ৩০ শতাংশ জমিতে প্রায় ২৭০টি ফলন্ত পেঁপেগাছ ছিল। এবার বাগানজুড়ে এসেছিল বেশ ভালো ফলন। কিন্তু রোববার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাগানে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। তারা কোনো গাছ বা পেঁপে বিক্রি বা ব্যবহারের জন্য নেয়নি; মূলত ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই কাস্তে দিয়ে পেঁপে কেটে মাটিতে ফেলে রেখে যায়। শুধু তা-ই নয়, আগামী মৌসুমের বীজ সংরক্ষণের জন্য রাখা প্রায় ছয় কেজি ওজনের ৪০টি পাকা পেঁপে চুরি করে নিয়ে গেছে তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে বাগানে গিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে কাঁচা পেঁপে পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক সাদেক মিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'দীর্ঘদিনের শ্রম আর জমানো টাকায় বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। এবার ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ করে দিল। এই ক্ষতি আমি কীভাবে সামলে উঠব বুঝতে পারছি না। আমি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।'

ঘটনার পর স্থানীয় উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বাগান পরিদর্শন করেছেন। অসুস্থ থাকায় ঘিওরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করা সম্ভব না হলেও মুঠোফোনে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সরকারি বরাদ্দ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে তাৎক্ষণিকভাবে চাল, ডাল, আটা ও লবণ দেওয়া হয়েছে।'

এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মুহব্বত কবীর জানান, কৃষকের ফসল নষ্টের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কৃষকের এমন স্বপ্নভঙ্গের ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত