সংবাদ

জ্বালানিতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে, বাড়বে বাজেট ঘাটতি: অর্থমন্ত্রী


প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

জ্বালানিতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে, বাড়বে বাজেট ঘাটতি: অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের চাপে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে সরকারকে চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর ফলে:

  • সরকারকে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
  • প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাড়তি আমদানি ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
  • জাতীয় বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও ব্যয় কমাতে সরকার বেশ কিছু সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে: ১. অফিস সময় পরিবর্তন: সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস বিকেল ৫টার পরিবর্তে ৪টায় বন্ধ করা। ২. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: ডেলাইট ব্যবহার বাড়ানো, এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কেট ও সুপারমল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখা। ৩. বাজেট সাপোর্ট: বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামলাতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সাপোর্ট পাওয়ার উদ্যোগ। ৪. মজুত নিশ্চিতকরণ: বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে নিরাপত্তা মজুত গড়ে তোলা।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সরকার এখনই জ্বালানির দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, "বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।"

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। এবারের বাজেটের লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ও শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য ধারণ করে আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


জ্বালানিতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে, বাড়বে বাজেট ঘাটতি: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের চাপে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে সরকারকে চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর ফলে:

  • সরকারকে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
  • প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাড়তি আমদানি ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
  • জাতীয় বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও ব্যয় কমাতে সরকার বেশ কিছু সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে: ১. অফিস সময় পরিবর্তন: সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস বিকেল ৫টার পরিবর্তে ৪টায় বন্ধ করা। ২. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: ডেলাইট ব্যবহার বাড়ানো, এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কেট ও সুপারমল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখা। ৩. বাজেট সাপোর্ট: বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামলাতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সাপোর্ট পাওয়ার উদ্যোগ। ৪. মজুত নিশ্চিতকরণ: বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে নিরাপত্তা মজুত গড়ে তোলা।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সরকার এখনই জ্বালানির দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, "বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।"

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। এবারের বাজেটের লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ও শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য ধারণ করে আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত