সংবাদ

স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে চায় না ইসি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে চায় না ইসি

​আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনী (সেনা) মোতায়েন না করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনুকূল আবহাওয়া ও শীতের আমেজকে কাজে লাগিয়ে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই নির্বাচনগুলো শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি গুছাচ্ছে সংস্থাটি।

​নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টি উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ৬০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরও প্রায় ২,৮০০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়োপযোগী হবে। ইতোমধ্যে ১২টি সিটিসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

​ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ (১৩তম সিটি) দেশের অন্যান্য স্থানে কোনো পৌরসভা, উপজেলা বা স্থানীয় সরকারের সীমানা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা বা মামলা আছে কি না, তা তফসিল ঘোষণার আগেই সুরাহা করা হবে।

​এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলেও এর গেজেট এখনো ইসির হাতে পৌঁছেনি। গেজেট পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

​জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্বে আইন সংস্কার কমিটি বিধিমালা সংশোধনে বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো:

​প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক প্রমাণের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া।

​ইভিএম (EVM) এবং কাগজের পোস্টার ব্যবহার বাদ দেওয়া। ​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ তৈরি করা। ​প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি।

​নির্বাচনী প্রচারণায় সংসদ সদস্যদের (MP) অফিস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা।

​কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো নিষিদ্ধ করা।

​গেজেট প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কমিশনের মূল বৈঠকে তোলা হবে। বর্ষা মৌসুম, বাজেট চূড়ান্তকরণ এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

​স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য আগামী এক বছরের মধ্যে পাঁচ স্তরের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন) স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা। বাজেট প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে, যাতে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। নতুন অর্থবছরের বাজেট পাসের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বসে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করবে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "এমনটা আমরা ভাবছি না। তবে সময় আসুক, তখন কমিশন বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।" তিনি আরও জানান, বিধিমালা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যেই সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে চায় না ইসি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

​আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনী (সেনা) মোতায়েন না করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনুকূল আবহাওয়া ও শীতের আমেজকে কাজে লাগিয়ে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই নির্বাচনগুলো শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি গুছাচ্ছে সংস্থাটি।

​নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টি উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ৬০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরও প্রায় ২,৮০০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়োপযোগী হবে। ইতোমধ্যে ১২টি সিটিসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

​ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ (১৩তম সিটি) দেশের অন্যান্য স্থানে কোনো পৌরসভা, উপজেলা বা স্থানীয় সরকারের সীমানা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা বা মামলা আছে কি না, তা তফসিল ঘোষণার আগেই সুরাহা করা হবে।

​এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলেও এর গেজেট এখনো ইসির হাতে পৌঁছেনি। গেজেট পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধন করা হবে।

​জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্বে আইন সংস্কার কমিটি বিধিমালা সংশোধনে বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো:

​প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক প্রমাণের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া।

​ইভিএম (EVM) এবং কাগজের পোস্টার ব্যবহার বাদ দেওয়া। ​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ তৈরি করা। ​প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি।

​নির্বাচনী প্রচারণায় সংসদ সদস্যদের (MP) অফিস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা।

​কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো নিষিদ্ধ করা।

​গেজেট প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কমিশনের মূল বৈঠকে তোলা হবে। বর্ষা মৌসুম, বাজেট চূড়ান্তকরণ এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

​স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য আগামী এক বছরের মধ্যে পাঁচ স্তরের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন) স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা। বাজেট প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে, যাতে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। নতুন অর্থবছরের বাজেট পাসের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বসে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করবে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "এমনটা আমরা ভাবছি না। তবে সময় আসুক, তখন কমিশন বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।" তিনি আরও জানান, বিধিমালা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যেই সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত