সাগর থেকে নদীতে আসা মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন সুনিশ্চিত করতে বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনের দেশব্যাপী মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে পদ্মা ও মেঘনার চাঁদপুর অংশে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্যপট—নদীতে নেই কোনো মাছ ধরার নৌকা, তীরের মৎস্য আড়তগুলো নির্জন, আর কর্মব্যস্ত ঘাটগুলোতে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে একযোগে মাঠে নেমেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ।
চাঁদপুরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে প্রথম দিনেই কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে এ নিষেধাজ্ঞা। চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পুরাণবাজার রনাগোয়াল, বহরিয়া ও হরিণাসহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে মাছ কেনাবেচার চিরচেনা হাঁকডাক উধাও। মৎস্য ঘাটের আড়ত ও জেলেদের নৌকাগুলো নদীর খাল ও পাড়ে সারিবদ্ধভাবে খালি পড়ে রয়েছে। শত শত ঘাট শ্রমিক এখন অবসর সময় কাটাচ্ছেন। আড়তদার ও শ্রমিকেরা জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়লেও সরকারি আইনি নির্দেশনা মেনে চলছেন তাঁরা।
অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা টাস্কফোর্স চাঁদপুর শহরের সব বরফ কল ২২ দিনের জন্য বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে দেশীয় জলাশয়ের চাষ করা মাছ বিক্রিতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
মা ইলিশ রক্ষায় প্রথম দিনে চাঁদপুর সদরে ৩টি, হাইমচরে ২টি এবং মতলব উত্তর ও দক্ষিণে ১টি করে মোট ৭টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ১২টি মাছঘাট পর্যবেক্ষণ করা হয়। অভিযানকালে একটি স্থান থেকে অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, অভয়াশ্রম এলাকায় জেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের তিনটি বিশেষ দল দিনরাত ২৪ ঘণ্টা টহলে নিয়োজিত থাকবে। অন্যদিকে নদীতে জেলেদের সচেতন করতে চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের পক্ষ থেকেও সতর্কতামূলক মাইকিং চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২২ দিন পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশসহ যেকোনো মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহে সরকার নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে প্রণোদনার চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদীর নিবন্ধিত ৪২ হাজার ৭৯০ জন জেলেপরিবারকে বিশেষ খাদ্য সহায়তার চাল দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্য বিভাগের প্রত্যাশা, কঠোর নজরদারি ও সরকারি প্রণোদনার সুষম বন্টনে এ বছর মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে, যা দেশের সার্বিক ইলিশ উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সাগর থেকে নদীতে আসা মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন সুনিশ্চিত করতে বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনের দেশব্যাপী মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে পদ্মা ও মেঘনার চাঁদপুর অংশে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্যপট—নদীতে নেই কোনো মাছ ধরার নৌকা, তীরের মৎস্য আড়তগুলো নির্জন, আর কর্মব্যস্ত ঘাটগুলোতে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে একযোগে মাঠে নেমেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ।
চাঁদপুরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে প্রথম দিনেই কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে এ নিষেধাজ্ঞা। চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পুরাণবাজার রনাগোয়াল, বহরিয়া ও হরিণাসহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে মাছ কেনাবেচার চিরচেনা হাঁকডাক উধাও। মৎস্য ঘাটের আড়ত ও জেলেদের নৌকাগুলো নদীর খাল ও পাড়ে সারিবদ্ধভাবে খালি পড়ে রয়েছে। শত শত ঘাট শ্রমিক এখন অবসর সময় কাটাচ্ছেন। আড়তদার ও শ্রমিকেরা জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়লেও সরকারি আইনি নির্দেশনা মেনে চলছেন তাঁরা।
অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা টাস্কফোর্স চাঁদপুর শহরের সব বরফ কল ২২ দিনের জন্য বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে দেশীয় জলাশয়ের চাষ করা মাছ বিক্রিতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
মা ইলিশ রক্ষায় প্রথম দিনে চাঁদপুর সদরে ৩টি, হাইমচরে ২টি এবং মতলব উত্তর ও দক্ষিণে ১টি করে মোট ৭টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ১২টি মাছঘাট পর্যবেক্ষণ করা হয়। অভিযানকালে একটি স্থান থেকে অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, অভয়াশ্রম এলাকায় জেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের তিনটি বিশেষ দল দিনরাত ২৪ ঘণ্টা টহলে নিয়োজিত থাকবে। অন্যদিকে নদীতে জেলেদের সচেতন করতে চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের পক্ষ থেকেও সতর্কতামূলক মাইকিং চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২২ দিন পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশসহ যেকোনো মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহে সরকার নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে প্রণোদনার চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদীর নিবন্ধিত ৪২ হাজার ৭৯০ জন জেলেপরিবারকে বিশেষ খাদ্য সহায়তার চাল দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্য বিভাগের প্রত্যাশা, কঠোর নজরদারি ও সরকারি প্রণোদনার সুষম বন্টনে এ বছর মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে, যা দেশের সার্বিক ইলিশ উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন