মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বুধবার মধ্যরাত থেকে দেশের নদী ও সাগরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এ সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ। ইলিশ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এর প্রজনন নিশ্চিত করা জরুরি। তবে নিষেধাজ্ঞা সফল করতে হলে জেলেদের জীবন-জীবিকার কথাও ভাবতে হবে।
প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এবার সারা দেশে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০ জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কিনা সেই প্রশ্ন রয়েছে। বরিশাল বিভাগের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জেলের মধ্যে সহায়তা পাবেন নির্দিষ্ট সংখ্যক জেলে। লক্ষ্মীপুরে নিবন্ধিত প্রায় ৫৪ হাজার জেলের মধ্যে ১১ হাজার ৮৫০ জন বরাদ্দের বাইরে রয়েছেন। যে কারণে নিষেধাজ্ঞার সময়ে অনেক পরিবারকে খাদ্যসংকট ও ঋণের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
শুধু চাল দিয়ে একটি পরিবারের সব প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় ২২ দিন বন্ধ থাকবে। তবে তাদেরকে ঋণের কিস্তি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য খরচ চালাতে হবে। খাদ্যের পাশাপাশি জেলেদের নগদ সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার।
নিষেধাজ্ঞা ভাঙার জন্য শুধু জেলেদের দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না। মৌসুমি ও বহিরাগত জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ জাল সরবরাহকারী, মাছ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই কার্যকর করতে হবে। আবার নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকৃত জেলেরা যেন অনাহারে না থাকেন সেটাও দেখতে হবে। সময়মতো পর্যাপ্ত সহায়তা, জেলেদের সঠিক তালিকা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য সফল হবে।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বুধবার মধ্যরাত থেকে দেশের নদী ও সাগরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এ সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ। ইলিশ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এর প্রজনন নিশ্চিত করা জরুরি। তবে নিষেধাজ্ঞা সফল করতে হলে জেলেদের জীবন-জীবিকার কথাও ভাবতে হবে।
প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এবার সারা দেশে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০ জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কিনা সেই প্রশ্ন রয়েছে। বরিশাল বিভাগের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জেলের মধ্যে সহায়তা পাবেন নির্দিষ্ট সংখ্যক জেলে। লক্ষ্মীপুরে নিবন্ধিত প্রায় ৫৪ হাজার জেলের মধ্যে ১১ হাজার ৮৫০ জন বরাদ্দের বাইরে রয়েছেন। যে কারণে নিষেধাজ্ঞার সময়ে অনেক পরিবারকে খাদ্যসংকট ও ঋণের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
শুধু চাল দিয়ে একটি পরিবারের সব প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় ২২ দিন বন্ধ থাকবে। তবে তাদেরকে ঋণের কিস্তি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য খরচ চালাতে হবে। খাদ্যের পাশাপাশি জেলেদের নগদ সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার।
নিষেধাজ্ঞা ভাঙার জন্য শুধু জেলেদের দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না। মৌসুমি ও বহিরাগত জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ জাল সরবরাহকারী, মাছ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই কার্যকর করতে হবে। আবার নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকৃত জেলেরা যেন অনাহারে না থাকেন সেটাও দেখতে হবে। সময়মতো পর্যাপ্ত সহায়তা, জেলেদের সঠিক তালিকা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য সফল হবে।

আপনার মতামত লিখুন