ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীর টিপসই নিয়ে জাল কাবিননামা তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার ওই নারী প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস।
স্থানীয় সূত্র ও থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীর স্বামী মারা যান প্রায় ১৩ বছর আগে। দুই ছেলেকে কষ্ট করে বড় করে বিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে তিনি একাই বসবাস করছেন। সম্প্রতি সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জামায়াতের সহযোগী সদস্য পরিচয়দানকারী আবদুস ছাত্তার ওই নারীর কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ও ছবি চান। পরে কৌশলে একটি ফাঁকা কাগজে তার টিপসই নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ওই টিপসই ব্যবহার করে ভুক্তভোগী নারীর অজান্তে একটি জাল কাবিননামা তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম রয়েছে, যেখানে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের তথ্য উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
তবে কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এই বিয়ের ব্যাপারে কিছুই জানেন না এবং কোনো স্বাক্ষরও দেননি। অন্যদিকে কাবিননামায় বিয়ে সম্পন্নকারী হিসেবে যার নাম রয়েছে, সেই কাজি গোলাম মোস্তফাও দাবি করেন, তিনি এই বিয়ে পড়াননি; তার ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে কাবিননামাটি তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনাটি সমাধানের জন্য গত সোমবার ও বুধবার এলাকায় দুই দফা সালিস বৈঠক আহ্বান করা হলেও অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত হননি। স্থানীয় রুস্তম আলী জানান, সালিসে আসামিরা উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী সময়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে ফুলবাড়ীয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জালিয়াতির সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ চলছে।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুস ছাত্তার দাবি করেন, তিনি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে কোনো টিপসই নেননি। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসান হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. ফজলুল হক বলেন, ‘আবদুস ছাত্তার জামায়াতের কোনো পদধারী নেতা নন। বিগত নির্বাচনের সময় কেন্দ্র কমিটির একজন সহযোগী সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত।’

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীর টিপসই নিয়ে জাল কাবিননামা তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার ওই নারী প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস।
স্থানীয় সূত্র ও থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীর স্বামী মারা যান প্রায় ১৩ বছর আগে। দুই ছেলেকে কষ্ট করে বড় করে বিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে তিনি একাই বসবাস করছেন। সম্প্রতি সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জামায়াতের সহযোগী সদস্য পরিচয়দানকারী আবদুস ছাত্তার ওই নারীর কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ও ছবি চান। পরে কৌশলে একটি ফাঁকা কাগজে তার টিপসই নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ওই টিপসই ব্যবহার করে ভুক্তভোগী নারীর অজান্তে একটি জাল কাবিননামা তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম রয়েছে, যেখানে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের তথ্য উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
তবে কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এই বিয়ের ব্যাপারে কিছুই জানেন না এবং কোনো স্বাক্ষরও দেননি। অন্যদিকে কাবিননামায় বিয়ে সম্পন্নকারী হিসেবে যার নাম রয়েছে, সেই কাজি গোলাম মোস্তফাও দাবি করেন, তিনি এই বিয়ে পড়াননি; তার ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে কাবিননামাটি তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনাটি সমাধানের জন্য গত সোমবার ও বুধবার এলাকায় দুই দফা সালিস বৈঠক আহ্বান করা হলেও অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত হননি। স্থানীয় রুস্তম আলী জানান, সালিসে আসামিরা উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী সময়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে ফুলবাড়ীয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জালিয়াতির সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ চলছে।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুস ছাত্তার দাবি করেন, তিনি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে কোনো টিপসই নেননি। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসান হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. ফজলুল হক বলেন, ‘আবদুস ছাত্তার জামায়াতের কোনো পদধারী নেতা নন। বিগত নির্বাচনের সময় কেন্দ্র কমিটির একজন সহযোগী সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত।’

আপনার মতামত লিখুন