সংবাদ

একাধিক ভাষা শেখা কি শিশুর মস্তিষ্কের জন্য বাড়তি চাপ?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

একাধিক ভাষা শেখা কি শিশুর মস্তিষ্কের জন্য বাড়তি চাপ?
ছবি: প্রতীকী

একই শিশু বাড়িতে আরবিতে কথা বলছে, স্কুলে ইংরেজিতে পড়ছে, আবার শিখছে চীনা ভাষাও। একাধিক ভাষার সঙ্গে এই পরিচয় শিশুর শেখার প্রক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। গবেষকদের মতে, ভাষাভেদে পড়ার পদ্ধতি আলাদা হলেও প্রতিটি ভাষায় লেখার চিহ্ন থেকে অর্থ উদ্ধার করাই মস্তিষ্কের মূল কাজ। আর ভাষা শেখার ক্ষেত্রে পড়ার আনন্দ ও পারিবারিক আবেগপূর্ণ সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক গবেষক জায়েদ ইউনিভার্সিটির ড. ফাতমা সাঈদ এবং ইউএই ইউনিভার্সিটির ড. ইউয়ান মেং ‘রিডিং ফর প্লেজার কারাভান’ নামের একটি আয়োজনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তাঁরা তুলে ধরেন, বিভিন্ন ভাষার লিখনপদ্ধতি কীভাবে শিশুর শেখার অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে এবং ভাষা শেখায় কোন বিষয়গুলো সহায়ক হতে পারে।

ভাষাভেদে বদলায় পড়ার কৌশল

চীনা অক্ষর পাঠকের মস্তিষ্কে কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়, তা নিয়ে গবেষণা করেন ড. ইউয়ান মেং। তাঁর মতে, প্রতিটি লিখনপদ্ধতি পাঠকের সামনে আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

চীনা ভাষায় সাধারণত শব্দের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থাকে না। তাই কোন অক্ষরগুলো একত্রে একটি শব্দ গঠন করেছে, তা পাঠককে শনাক্ত করতে হয়। আবার একটি অক্ষরের ভেতরের ছোট অংশ থেকেও শব্দের অর্থ বা উচ্চারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আরবি ও ইংরেজির লিখনপদ্ধতিতেও রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। আরবিতে মূল অক্ষর ও নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে শব্দ তৈরি হয়। ইংরেজিতে কিছু ক্ষেত্রে অক্ষরের অবস্থান সামান্য বদলালেও পাঠক শব্দটি চিনতে পারেন। তবে এর মানে এই নয় যে ইংরেজিতে অক্ষরের ক্রম গুরুত্বহীন। গবেষণার ফল পাঠকের ধরন ও কাজের প্রেক্ষাপট অনুযায়ীও ভিন্ন হতে পারে বলে জানান ড. মেং।

তাঁর ব্যাখ্যায়, লিখনপদ্ধতি আলাদা হলেও মস্তিষ্ককে দৃশ্যমান চিহ্নের সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক স্থাপন করে অর্থ বুঝতে হয়। পার্থক্যটি মূলত অর্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত সংকেতে।

আরবির দুই রূপ শেখার অভিজ্ঞতা

আরবি ভাষাভাষী শিশুদের ক্ষেত্রে কথ্য ও লিখিত ভাষার পার্থক্য শেখার প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করে। বাড়িতে তারা সাধারণত স্থানীয় আরবি উপভাষায় কথা বলে। অন্যদিকে লিখিত ভাষায় ব্যবহৃত হয় আধুনিক প্রমিত আরবি, যা ফুসহা নামে পরিচিত। কথ্য রূপের সঙ্গে এর শব্দভান্ডার ও ব্যাকরণে পার্থক্য রয়েছে। ভাষাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় ‘ডাইগ্লসিয়া’।

জায়েদ ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড লিঙ্গুইস্টিকসের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতমা সাঈদের মতে, এই পার্থক্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখার কারণ নেই। বরং এর মধ্য দিয়ে শিশুরা শব্দভান্ডার, বাক্যগঠন এবং অর্থ প্রকাশের একাধিক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হয়।

এক ভাষায় অর্জিত অনেক দক্ষতা অন্য ভাষা শেখার সময়ও কাজে লাগতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, আরবি ভাষার ধ্বনি ও অক্ষর শেখা শিশুরা ইংরেজি পড়ার ক্ষেত্রে ইংরেজিভাষী একভাষী শিশুদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। কিছু শিশু ইংরেজি বানানেও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করতে পারে। এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে আরবি বানানের তুলনামূলক নিয়মিত বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পড়ার সমস্যার একমাত্র ব্যাখ্যা ডাইগ্লসিয়া নয়

শিশুদের আরবি পড়তে অসুবিধার পেছনে প্রায়ই ডাইগ্লসিয়াকে দায়ী করা হয়। তবে ড. সাঈদ এ ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাঁর মতে, আরবি ভাষায় কথ্য ও লিখিত রূপের পার্থক্য বাস্তব হলেও এটিই পড়ার সমস্যার প্রধান কারণ - এমন প্রমাণ দুর্বল।

বরং শিশুরা কী ধরনের শিক্ষা পাচ্ছে, ছোটবেলা থেকে ফুসহার সঙ্গে তাদের পরিচয় কতটা এবং বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ কেমন - এসব বিষয় আরবি পড়তে শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ড. সাঈদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ফুসহা ভাষায় কার্টুন দেখেছে ও গল্প শুনেছে, তাদের আরবি শব্দভান্ডার তুলনামূলকভাবে বড়। অন্যদিকে, যেসব শিশু আরবিতে কথা বললেও শুধু ইংরেজি ভাষার কার্টুন দেখেছে, তাদের শব্দভান্ডার ছিল তুলনায় ছোট।

চীনা ও ইংরেজি শেখায় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সুযোগ

চীনা ও ইংরেজির মতো ভিন্ন লিখনপদ্ধতির দুটি ভাষা একসঙ্গে শেখা শিশুর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে এর মধ্য দিয়ে এক ভাষায় অর্জিত কিছু দক্ষতা অন্য ভাষায়ও কাজে লাগার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ড. মেং।

দুটি ভাষাতেই অর্থবোধক অংশ একত্র করে শব্দ গঠনের উদাহরণ রয়েছে। ইংরেজির ‘ব্ল্যাকবোর্ড’ এবং চীনা ‘হেই বান’ এর উদাহরণ। উভয় ক্ষেত্রেই ‘কালো’ ও ‘বোর্ড’ অর্থবোধক দুটি অংশ মিলিয়ে একটি শব্দ তৈরি হয়েছে।

একটি ভাষায় শব্দের অর্থবোধক অংশ শনাক্ত করার অভ্যাস অন্য ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। তবে প্রতিটি ভাষার নিজস্ব লিখনপদ্ধতি ও উচ্চারণ আলাদাভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

ভাষা শেখায় আনন্দের গুরুত্ব

শৈশবে আনন্দের জন্য বই পড়ার সঙ্গে বড় বয়সে ভালো শব্দভান্ডারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে একটি ব্রিটিশ গবেষণায়। তবে এই সম্পর্ককে সরাসরি কারণ ও ফলাফলের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।

গবেষকদের মতে, শিশু যেন পড়াশোনাকে বাড়তি চাপ হিসেবে না দেখে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। ভাষার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে আবেগ ও ভালোবাসার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ড. ফাতমা সাঈদ।

তাঁর মতে, বাবা-মা ঘরে গল্প বলা, খেলা ও একসঙ্গে পড়ার মধ্য দিয়ে কোনো ভাষা ব্যবহার করলে শিশুর সঙ্গে সেই ভাষার একটি আবেগপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। এতে ভাষাটির প্রতি শিশুর আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


একাধিক ভাষা শেখা কি শিশুর মস্তিষ্কের জন্য বাড়তি চাপ?

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একই শিশু বাড়িতে আরবিতে কথা বলছে, স্কুলে ইংরেজিতে পড়ছে, আবার শিখছে চীনা ভাষাও। একাধিক ভাষার সঙ্গে এই পরিচয় শিশুর শেখার প্রক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। গবেষকদের মতে, ভাষাভেদে পড়ার পদ্ধতি আলাদা হলেও প্রতিটি ভাষায় লেখার চিহ্ন থেকে অর্থ উদ্ধার করাই মস্তিষ্কের মূল কাজ। আর ভাষা শেখার ক্ষেত্রে পড়ার আনন্দ ও পারিবারিক আবেগপূর্ণ সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক গবেষক জায়েদ ইউনিভার্সিটির ড. ফাতমা সাঈদ এবং ইউএই ইউনিভার্সিটির ড. ইউয়ান মেং ‘রিডিং ফর প্লেজার কারাভান’ নামের একটি আয়োজনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তাঁরা তুলে ধরেন, বিভিন্ন ভাষার লিখনপদ্ধতি কীভাবে শিশুর শেখার অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে এবং ভাষা শেখায় কোন বিষয়গুলো সহায়ক হতে পারে।

ভাষাভেদে বদলায় পড়ার কৌশল

চীনা অক্ষর পাঠকের মস্তিষ্কে কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়, তা নিয়ে গবেষণা করেন ড. ইউয়ান মেং। তাঁর মতে, প্রতিটি লিখনপদ্ধতি পাঠকের সামনে আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

চীনা ভাষায় সাধারণত শব্দের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থাকে না। তাই কোন অক্ষরগুলো একত্রে একটি শব্দ গঠন করেছে, তা পাঠককে শনাক্ত করতে হয়। আবার একটি অক্ষরের ভেতরের ছোট অংশ থেকেও শব্দের অর্থ বা উচ্চারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আরবি ও ইংরেজির লিখনপদ্ধতিতেও রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। আরবিতে মূল অক্ষর ও নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে শব্দ তৈরি হয়। ইংরেজিতে কিছু ক্ষেত্রে অক্ষরের অবস্থান সামান্য বদলালেও পাঠক শব্দটি চিনতে পারেন। তবে এর মানে এই নয় যে ইংরেজিতে অক্ষরের ক্রম গুরুত্বহীন। গবেষণার ফল পাঠকের ধরন ও কাজের প্রেক্ষাপট অনুযায়ীও ভিন্ন হতে পারে বলে জানান ড. মেং।

তাঁর ব্যাখ্যায়, লিখনপদ্ধতি আলাদা হলেও মস্তিষ্ককে দৃশ্যমান চিহ্নের সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক স্থাপন করে অর্থ বুঝতে হয়। পার্থক্যটি মূলত অর্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত সংকেতে।

আরবির দুই রূপ শেখার অভিজ্ঞতা

আরবি ভাষাভাষী শিশুদের ক্ষেত্রে কথ্য ও লিখিত ভাষার পার্থক্য শেখার প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করে। বাড়িতে তারা সাধারণত স্থানীয় আরবি উপভাষায় কথা বলে। অন্যদিকে লিখিত ভাষায় ব্যবহৃত হয় আধুনিক প্রমিত আরবি, যা ফুসহা নামে পরিচিত। কথ্য রূপের সঙ্গে এর শব্দভান্ডার ও ব্যাকরণে পার্থক্য রয়েছে। ভাষাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় ‘ডাইগ্লসিয়া’।

জায়েদ ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড লিঙ্গুইস্টিকসের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতমা সাঈদের মতে, এই পার্থক্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখার কারণ নেই। বরং এর মধ্য দিয়ে শিশুরা শব্দভান্ডার, বাক্যগঠন এবং অর্থ প্রকাশের একাধিক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হয়।

এক ভাষায় অর্জিত অনেক দক্ষতা অন্য ভাষা শেখার সময়ও কাজে লাগতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, আরবি ভাষার ধ্বনি ও অক্ষর শেখা শিশুরা ইংরেজি পড়ার ক্ষেত্রে ইংরেজিভাষী একভাষী শিশুদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। কিছু শিশু ইংরেজি বানানেও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করতে পারে। এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে আরবি বানানের তুলনামূলক নিয়মিত বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পড়ার সমস্যার একমাত্র ব্যাখ্যা ডাইগ্লসিয়া নয়

শিশুদের আরবি পড়তে অসুবিধার পেছনে প্রায়ই ডাইগ্লসিয়াকে দায়ী করা হয়। তবে ড. সাঈদ এ ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাঁর মতে, আরবি ভাষায় কথ্য ও লিখিত রূপের পার্থক্য বাস্তব হলেও এটিই পড়ার সমস্যার প্রধান কারণ - এমন প্রমাণ দুর্বল।

বরং শিশুরা কী ধরনের শিক্ষা পাচ্ছে, ছোটবেলা থেকে ফুসহার সঙ্গে তাদের পরিচয় কতটা এবং বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ কেমন - এসব বিষয় আরবি পড়তে শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ড. সাঈদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ফুসহা ভাষায় কার্টুন দেখেছে ও গল্প শুনেছে, তাদের আরবি শব্দভান্ডার তুলনামূলকভাবে বড়। অন্যদিকে, যেসব শিশু আরবিতে কথা বললেও শুধু ইংরেজি ভাষার কার্টুন দেখেছে, তাদের শব্দভান্ডার ছিল তুলনায় ছোট।

চীনা ও ইংরেজি শেখায় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সুযোগ

চীনা ও ইংরেজির মতো ভিন্ন লিখনপদ্ধতির দুটি ভাষা একসঙ্গে শেখা শিশুর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে এর মধ্য দিয়ে এক ভাষায় অর্জিত কিছু দক্ষতা অন্য ভাষায়ও কাজে লাগার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ড. মেং।

দুটি ভাষাতেই অর্থবোধক অংশ একত্র করে শব্দ গঠনের উদাহরণ রয়েছে। ইংরেজির ‘ব্ল্যাকবোর্ড’ এবং চীনা ‘হেই বান’ এর উদাহরণ। উভয় ক্ষেত্রেই ‘কালো’ ও ‘বোর্ড’ অর্থবোধক দুটি অংশ মিলিয়ে একটি শব্দ তৈরি হয়েছে।

একটি ভাষায় শব্দের অর্থবোধক অংশ শনাক্ত করার অভ্যাস অন্য ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। তবে প্রতিটি ভাষার নিজস্ব লিখনপদ্ধতি ও উচ্চারণ আলাদাভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

ভাষা শেখায় আনন্দের গুরুত্ব

শৈশবে আনন্দের জন্য বই পড়ার সঙ্গে বড় বয়সে ভালো শব্দভান্ডারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে একটি ব্রিটিশ গবেষণায়। তবে এই সম্পর্ককে সরাসরি কারণ ও ফলাফলের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।

গবেষকদের মতে, শিশু যেন পড়াশোনাকে বাড়তি চাপ হিসেবে না দেখে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। ভাষার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে আবেগ ও ভালোবাসার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ড. ফাতমা সাঈদ।

তাঁর মতে, বাবা-মা ঘরে গল্প বলা, খেলা ও একসঙ্গে পড়ার মধ্য দিয়ে কোনো ভাষা ব্যবহার করলে শিশুর সঙ্গে সেই ভাষার একটি আবেগপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। এতে ভাষাটির প্রতি শিশুর আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত