যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী নেতার বিরুদ্ধে এই অশোভন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জেএফকে বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় ইউনূস এই তোপের মুখে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন ইউনূসের পথ আগলে দাঁড়ান।
এ সময় তারা ‘টেররিস্ট’ (সন্ত্রাসী) ও ‘গো ব্যাক’ (ফিরে যাও) বলে চিৎকার করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের একজন চিৎকার করে বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন। আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। কেন এখানে এসেছেন?’
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে ইউনূসকে হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে পুনরায় টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অপরাধী চক্র বিদেশের মাটিতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি আওতায় আনতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ মিশনকে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তেমনটিই করা হবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর নিন্দা
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই। দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলের গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ছোট করা হয়েছে। এই কদর্য আচরণের পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মো. তাহের বলেন, ‘পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও সফররত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। দেশের শান্তিপ্রিয় ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাই কমিশনসমূহের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।’
বার্লিন সফর বাতিল
জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ইউনূসের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ওই সফর বাতিল করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের যোগাযোগ কর্মকর্তা আনা স্টোরমার এক ইমেইল বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। বার্লিন সফর শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। পরে তিনি পদত্যাগ করলে এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রথম বিদেশের মাটিতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন তিনি। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী নেতার বিরুদ্ধে এই অশোভন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জেএফকে বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় ইউনূস এই তোপের মুখে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন ইউনূসের পথ আগলে দাঁড়ান।
এ সময় তারা ‘টেররিস্ট’ (সন্ত্রাসী) ও ‘গো ব্যাক’ (ফিরে যাও) বলে চিৎকার করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের একজন চিৎকার করে বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন। আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। কেন এখানে এসেছেন?’
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে ইউনূসকে হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে পুনরায় টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অপরাধী চক্র বিদেশের মাটিতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি আওতায় আনতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ মিশনকে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তেমনটিই করা হবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর নিন্দা
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই। দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলের গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ছোট করা হয়েছে। এই কদর্য আচরণের পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মো. তাহের বলেন, ‘পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও সফররত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। দেশের শান্তিপ্রিয় ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাই কমিশনসমূহের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।’
বার্লিন সফর বাতিল
জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ইউনূসের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ওই সফর বাতিল করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের যোগাযোগ কর্মকর্তা আনা স্টোরমার এক ইমেইল বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। বার্লিন সফর শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। পরে তিনি পদত্যাগ করলে এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রথম বিদেশের মাটিতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন তিনি। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন