সংবাদ

নরসিংদীতে কিশোর অটোচালক মনির হত্যা, গ্রেপ্তার ২


প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ এএম

নরসিংদীতে কিশোর অটোচালক মনির হত্যা, গ্রেপ্তার ২
ছবি : সংবাদ

নরসিংদীর রায়পুরায় কিশোর অটোরিকশাচালক মনির হোসেনকে (১৬) হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও শনাক্ত মতে নিহত মনিরের অটোরিকশার চারটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন–নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শেরপুর গ্রামের আসাদ মিয়া ওরফে এরশাদ (৩৮) এবং একই উপজেলার হাটুভাঙা গ্রামের জাহিদুল মিয়া (৩০)।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি এলাকার বাসিন্দা শাহআলম মিয়ার ছেলে মনির হোসেন অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি, তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে রায়পুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।

পরবর্তী সময়ে ৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ শিকদারপাড়া সংলগ্ন বিলের কচুরিপানার মধ্য থেকে একটি লাশ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি নিখোঁজ মনিরের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মনিরকে তার পরিহিত প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বিলের পানিতে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর রায়পুরা থানায় হত্যা ও আলামত গোপন করার অভিযোগে মামলা করা হয়।

মামলাটির তদন্ত পিবিআই নরসিংদী জেলা ইউনিট স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে। পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনা ও নরসিংদী জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাগপাড়া বুরুজেরটেক এলাকার একটি বাড়ি থেকে আসাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে মনিরের অটোরিকশার চারটি ‘Gaston Plus’ ব্যাটারি উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ। পরে আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লার লালমাই বাজারসংলগ্ন আইটি পার্ক এলাকা থেকে অপর আসামি জাহিদুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান, আসাদ প্রথমে চরসুবুদ্ধি এলাকা থেকে মনিরের অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। সন্ধ্যার পর জাহিদুল ওই অটোরিকশায় ওঠেন। পরে তারা নির্জন বিলপাড়ে পৌঁছে মনিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে যান। অটোরিকশার বিভিন্ন অংশ খুলে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অটোরিকশার অবশিষ্টাংশ উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


নরসিংদীতে কিশোর অটোচালক মনির হত্যা, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর রায়পুরায় কিশোর অটোরিকশাচালক মনির হোসেনকে (১৬) হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও শনাক্ত মতে নিহত মনিরের অটোরিকশার চারটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন–নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শেরপুর গ্রামের আসাদ মিয়া ওরফে এরশাদ (৩৮) এবং একই উপজেলার হাটুভাঙা গ্রামের জাহিদুল মিয়া (৩০)।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি এলাকার বাসিন্দা শাহআলম মিয়ার ছেলে মনির হোসেন অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি, তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে রায়পুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।

পরবর্তী সময়ে ৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ শিকদারপাড়া সংলগ্ন বিলের কচুরিপানার মধ্য থেকে একটি লাশ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি নিখোঁজ মনিরের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মনিরকে তার পরিহিত প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বিলের পানিতে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর রায়পুরা থানায় হত্যা ও আলামত গোপন করার অভিযোগে মামলা করা হয়।

মামলাটির তদন্ত পিবিআই নরসিংদী জেলা ইউনিট স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে। পিবিআই প্রধান মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনা ও নরসিংদী জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাগপাড়া বুরুজেরটেক এলাকার একটি বাড়ি থেকে আসাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে মনিরের অটোরিকশার চারটি ‘Gaston Plus’ ব্যাটারি উদ্ধার করে জব্দ করে পুলিশ। পরে আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লার লালমাই বাজারসংলগ্ন আইটি পার্ক এলাকা থেকে অপর আসামি জাহিদুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান, আসাদ প্রথমে চরসুবুদ্ধি এলাকা থেকে মনিরের অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। সন্ধ্যার পর জাহিদুল ওই অটোরিকশায় ওঠেন। পরে তারা নির্জন বিলপাড়ে পৌঁছে মনিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে যান। অটোরিকশার বিভিন্ন অংশ খুলে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অটোরিকশার অবশিষ্টাংশ উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত