সংবাদ

এক রাতে উধাও কমলগঞ্জের ১৪টি গাছ


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ এএম

এক রাতে উধাও কমলগঞ্জের ১৪টি গাছ
ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে জাম, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণিসহ অন্তত ১৪টি বড় গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কেটে নেওয়া গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা বলে ধারণা স্থানীয় অধিবাসীদের। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় রাতের আঁধারে সড়কের পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কেটে নেওয়া গাছের মধ্যে জাম, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি রয়েছে। গাছগুলো কেটে টুকরো করে ট্রাক বা পিকআপে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কেবল কাটা গাছের গোড়াগুলো পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক রাতেই এতগুলো বড় গাছ কেটে নিয়ে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগার কথা। বন বিভাগের কার্যালয় ও চেকপোস্ট কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও হেলাল মিয়া বলেন, যেখান থেকে গাছগুলো কাটা হয়েছে, তার কাছাকাছিই রাজকান্দি বনরেঞ্জের কার্যালয়, সড়কের চেকপোস্ট ও নিয়মিত পুলিশি টহল থাকে। এর পরও কীভাবে কয়েক ঘণ্টা ধরে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘মূল সড়ক থেকে একসঙ্গে এতগুলো গাছ চুরির ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এটি একটি বড় সিন্ডিকেট চক্রের কাজ বলে মনে হচ্ছে।’ খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ, পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা তানভির হোসেন জানান, এলজিইডির সড়কের পাশ থেকে গাছ চুরির বিষয়টি শুনে তারা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছুটিতে থাকায় তিনি ফিরলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত কমলগঞ্জে এভাবে সড়কের পাশের গাছ কেটে পাচার করায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত, কাঠ উদ্ধার এবং গাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


এক রাতে উধাও কমলগঞ্জের ১৪টি গাছ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে জাম, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণিসহ অন্তত ১৪টি বড় গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কেটে নেওয়া গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা বলে ধারণা স্থানীয় অধিবাসীদের। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সড়কের ঘোরামারা এলাকায় রাতের আঁধারে সড়কের পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কেটে নেওয়া গাছের মধ্যে জাম, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি রয়েছে। গাছগুলো কেটে টুকরো করে ট্রাক বা পিকআপে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কেবল কাটা গাছের গোড়াগুলো পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক রাতেই এতগুলো বড় গাছ কেটে নিয়ে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগার কথা। বন বিভাগের কার্যালয় ও চেকপোস্ট কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও হেলাল মিয়া বলেন, যেখান থেকে গাছগুলো কাটা হয়েছে, তার কাছাকাছিই রাজকান্দি বনরেঞ্জের কার্যালয়, সড়কের চেকপোস্ট ও নিয়মিত পুলিশি টহল থাকে। এর পরও কীভাবে কয়েক ঘণ্টা ধরে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘মূল সড়ক থেকে একসঙ্গে এতগুলো গাছ চুরির ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এটি একটি বড় সিন্ডিকেট চক্রের কাজ বলে মনে হচ্ছে।’ খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ, পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা তানভির হোসেন জানান, এলজিইডির সড়কের পাশ থেকে গাছ চুরির বিষয়টি শুনে তারা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছুটিতে থাকায় তিনি ফিরলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত কমলগঞ্জে এভাবে সড়কের পাশের গাছ কেটে পাচার করায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত, কাঠ উদ্ধার এবং গাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত