সংবাদ

শাহজাদপুরে ৯২ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে


বিমল কুন্ডু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
বিমল কুন্ডু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

শাহজাদপুরে ৯২ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে
ছবি : সংবাদ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের ৯২টি মণ্ডপে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে শাহজাদপুর পৌরসভাতেই আয়োজিত হচ্ছে ২৯টি মণ্ডপের পূজা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। দিন-রাত পরিশ্রম করে রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমার রং-তুলির কাজ প্রায় শেষ। অন্যদিকে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল, সুদৃশ্য তোরণ ও আলোকের রোশনাই ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।

পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী ব্রতচারী সংঘ, বাণী পাঠাগার, বীণাপাণি পাঠাগার, কিশোর সংঘ, নবরূপ সংঘ ও মিলন সংঘ দুর্গা মন্দির ঘুরে দেখা যায় নান্দনিক সাজসজ্জার চিত্র। চলতি বছর এসব মণ্ডপে ঢাকার ধামরাই, গাজীপুর, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর ও পাবনা থেকে আসা কারিগরেরা প্রতিমা তৈরি করছেন। বিখ্যাত শিল্পীদের তৈরি এসব কারুকার্যের প্রতিমা দেখতে এরই মধ্যে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

তবে প্রতিমা শিল্পী হেমন্ত পাল ও অনন্ত পাল আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেলেও প্রতিমার উপযুক্ত মূল্য মিলছে না। তারপরও বংশানুক্রমিক পেশা ও ধর্মের টানে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, প্রতিটি মণ্ডপ কমিটি, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুমার সাহা এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক কমল চন্দ্র সাহা পিন্টু জানান, উপজেলার ৯২টি পূজা মণ্ডপে সরকারি অনুদান বণ্টন করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আগামীকাল ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, ঘট স্থাপন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনব্যাপী এই উৎসব।

নিরাপত্তার বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আনসার, পুলিশ ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের সদস্য এবং র‍্যাব সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন। সেই সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৯২টি মণ্ডপে মোট ৫৮০ জন আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শারদীয় দুর্গোৎসব আবহমান বাংলার সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম) স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


শাহজাদপুরে ৯২ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের ৯২টি মণ্ডপে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে শাহজাদপুর পৌরসভাতেই আয়োজিত হচ্ছে ২৯টি মণ্ডপের পূজা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। দিন-রাত পরিশ্রম করে রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমার রং-তুলির কাজ প্রায় শেষ। অন্যদিকে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল, সুদৃশ্য তোরণ ও আলোকের রোশনাই ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।

পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী ব্রতচারী সংঘ, বাণী পাঠাগার, বীণাপাণি পাঠাগার, কিশোর সংঘ, নবরূপ সংঘ ও মিলন সংঘ দুর্গা মন্দির ঘুরে দেখা যায় নান্দনিক সাজসজ্জার চিত্র। চলতি বছর এসব মণ্ডপে ঢাকার ধামরাই, গাজীপুর, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর ও পাবনা থেকে আসা কারিগরেরা প্রতিমা তৈরি করছেন। বিখ্যাত শিল্পীদের তৈরি এসব কারুকার্যের প্রতিমা দেখতে এরই মধ্যে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।

তবে প্রতিমা শিল্পী হেমন্ত পাল ও অনন্ত পাল আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেলেও প্রতিমার উপযুক্ত মূল্য মিলছে না। তারপরও বংশানুক্রমিক পেশা ও ধর্মের টানে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, প্রতিটি মণ্ডপ কমিটি, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুমার সাহা এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক কমল চন্দ্র সাহা পিন্টু জানান, উপজেলার ৯২টি পূজা মণ্ডপে সরকারি অনুদান বণ্টন করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আগামীকাল ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, ঘট স্থাপন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনব্যাপী এই উৎসব।

নিরাপত্তার বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আনসার, পুলিশ ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের সদস্য এবং র‍্যাব সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন। সেই সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৯২টি মণ্ডপে মোট ৫৮০ জন আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শারদীয় দুর্গোৎসব আবহমান বাংলার সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম) স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত