ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভয়াবহ দাবানলে ১৯ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সম্প্রতি স্যাটেলাইটের তোলা ছবি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে উদ্বেগজনক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা 'নুসান্তারা অ্যাটলাস'।
প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, পুড়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ এই ভূখণ্ডের মোট আয়তন যুক্তরাজ্য তথা লন্ডন শহরের মূল আয়তনের প্রায় ১২ গুণেরও বেশি। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও দাবানল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে দেশটি।
দাবানল থেকে সৃষ্ট ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়াশা পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশে ছড়িয়ে পড়ে জনজীবন অচল করে তুলেছে। উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়াকে সব ধরনের কারিগরি ও মাঠপর্যায়ের সহায়তার প্রস্তাব পুনরায় দিয়েছে।
তবে এ তীব্র দাবানলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করার সর্বজনীন আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের স্পষ্ট ও জোরালো বক্তব্য হলো, চলমান বিষম পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া এককভাবেই পুরোপুরি সক্ষম।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্যমতে, গত জুন মাস থেকে অঞ্চলে দীর্ঘ খরার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর দাবানল অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এর পেছনে প্রমেথিউসের মতো জ্যান্ত ভূমিকা পালন করেছে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো হালনাগাদ সরকারি পরিসংখ্যান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সংস্থাটির সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড গাভো গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, "আমাদের সূক্ষ্ম হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৮ হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে বাস্তবে মোট ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।"
তিনি দাবানলের ভয়াবহতা উল্লেখ করে আরও বলেন, "চলতি বছরের এই ধ্বংসাত্মক দাবানল অতীতের ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক ও ভয়াল বিপর্যয়ের মতোই চরম ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আমরা বিশেষভাবে ধারণা করছি।" বর্তমানে সমগ্র অঞ্চল জুড়ে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ জোর দিচ্ছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী দলগুলো।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভয়াবহ দাবানলে ১৯ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সম্প্রতি স্যাটেলাইটের তোলা ছবি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে উদ্বেগজনক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা 'নুসান্তারা অ্যাটলাস'।
প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, পুড়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ এই ভূখণ্ডের মোট আয়তন যুক্তরাজ্য তথা লন্ডন শহরের মূল আয়তনের প্রায় ১২ গুণেরও বেশি। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও দাবানল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে দেশটি।
দাবানল থেকে সৃষ্ট ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়াশা পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশে ছড়িয়ে পড়ে জনজীবন অচল করে তুলেছে। উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়াকে সব ধরনের কারিগরি ও মাঠপর্যায়ের সহায়তার প্রস্তাব পুনরায় দিয়েছে।
তবে এ তীব্র দাবানলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করার সর্বজনীন আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের স্পষ্ট ও জোরালো বক্তব্য হলো, চলমান বিষম পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া এককভাবেই পুরোপুরি সক্ষম।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্যমতে, গত জুন মাস থেকে অঞ্চলে দীর্ঘ খরার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর দাবানল অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এর পেছনে প্রমেথিউসের মতো জ্যান্ত ভূমিকা পালন করেছে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো হালনাগাদ সরকারি পরিসংখ্যান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সংস্থাটির সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড গাভো গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, "আমাদের সূক্ষ্ম হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৮ হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে বাস্তবে মোট ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।"
তিনি দাবানলের ভয়াবহতা উল্লেখ করে আরও বলেন, "চলতি বছরের এই ধ্বংসাত্মক দাবানল অতীতের ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক ও ভয়াল বিপর্যয়ের মতোই চরম ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আমরা বিশেষভাবে ধারণা করছি।" বর্তমানে সমগ্র অঞ্চল জুড়ে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ জোর দিচ্ছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী দলগুলো।

আপনার মতামত লিখুন