সংবাদ

‘স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি কলাপস, হরিলুটের সাম্রাজ্য’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

‘স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি কলাপস, হরিলুটের সাম্রাজ্য’

স্বাস্থ্য খাতের লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মকে ‘মাদার অব অল দুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি কলাপস। এমনভাবে টাকা চুরির সিস্টেম করা, কারও কোনো কন্ট্রোল নাই।’ সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শহরের মেরিনা স্কয়ারের দ্বিতীয় তলায় মেরিনা ইয়াসমিন চৌধুরী ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বিস্ফোরক বক্তব্য প্রদান করেন।

এম নাসের রহমান বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আমল থেকে শুরু করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ খাতে ব্যাপক লুটপাট অব্যাহত রয়েছে।

বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘থানা হেলথ কমপ্লেক্সগুলো খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা যদি হেলথ সেক্টর নিয়ে কথা বলি, বাজেটে যদি ৬০ হাজার কোটি টাকা দেন, এটি আমি একটা এক্সাম্পল বলতেছি। তাহলে প্রথমেই ১০ হাজার কোটি টাকা চুরি, আরও টেন পারসেন্ট ১০ হাজার কোটি টাকা মাইনাস করেন। থাকল কতো? ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যেও চুরি করে ফাইনালি হয়তো ২০/২৫ হাজার কোটি টাকা এই জনগণের জন্য যায়। আর বাকিটা সব বিভিন্ন কার্যপ্রতিনিধি আছেন, তাঁদের পকেটে চলে যায়।’

নিজের নিজ জেলার হাসপাতালের দুর্নীতির জঘন্য চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহে মৌলভীবাজারের আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটা দিবালোকে চুরি হাতেনাতে ধরেছি। ১ কোটি ২০ লাখ টাকার। তত্ত্বাবধায়ক এবং আরএমও মিলে টেন্ডার ছাড়া এক কোটি বিশ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে। এটির তদন্তে তিনটা কমিটি আসছে। দুদক আসছে। তো এই হলো আমাদের হেলথ অবস্থা। কোথায় কী করবেন।’

তিনি জানান, এই অনিয়মের ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে।

স্বাস্থ্য খাতের এই সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও সীমাহীন লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি পুরা রিপোর্ট তৈরি করতেছি বাংলাদেশের হেলথ সেক্টরের যে মাদার অব অল দুর্নীতির যে কারবারি চলতেছে হেলথ সেক্টরে। হরিলুট।’

পরিশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল বাজেটে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


‘স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি কলাপস, হরিলুটের সাম্রাজ্য’

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

স্বাস্থ্য খাতের লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মকে ‘মাদার অব অল দুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি কলাপস। এমনভাবে টাকা চুরির সিস্টেম করা, কারও কোনো কন্ট্রোল নাই।’ সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শহরের মেরিনা স্কয়ারের দ্বিতীয় তলায় মেরিনা ইয়াসমিন চৌধুরী ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বিস্ফোরক বক্তব্য প্রদান করেন।

এম নাসের রহমান বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আমল থেকে শুরু করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ খাতে ব্যাপক লুটপাট অব্যাহত রয়েছে।

বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘থানা হেলথ কমপ্লেক্সগুলো খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা যদি হেলথ সেক্টর নিয়ে কথা বলি, বাজেটে যদি ৬০ হাজার কোটি টাকা দেন, এটি আমি একটা এক্সাম্পল বলতেছি। তাহলে প্রথমেই ১০ হাজার কোটি টাকা চুরি, আরও টেন পারসেন্ট ১০ হাজার কোটি টাকা মাইনাস করেন। থাকল কতো? ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যেও চুরি করে ফাইনালি হয়তো ২০/২৫ হাজার কোটি টাকা এই জনগণের জন্য যায়। আর বাকিটা সব বিভিন্ন কার্যপ্রতিনিধি আছেন, তাঁদের পকেটে চলে যায়।’

নিজের নিজ জেলার হাসপাতালের দুর্নীতির জঘন্য চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহে মৌলভীবাজারের আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটা দিবালোকে চুরি হাতেনাতে ধরেছি। ১ কোটি ২০ লাখ টাকার। তত্ত্বাবধায়ক এবং আরএমও মিলে টেন্ডার ছাড়া এক কোটি বিশ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে। এটির তদন্তে তিনটা কমিটি আসছে। দুদক আসছে। তো এই হলো আমাদের হেলথ অবস্থা। কোথায় কী করবেন।’

তিনি জানান, এই অনিয়মের ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে।

স্বাস্থ্য খাতের এই সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও সীমাহীন লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি পুরা রিপোর্ট তৈরি করতেছি বাংলাদেশের হেলথ সেক্টরের যে মাদার অব অল দুর্নীতির যে কারবারি চলতেছে হেলথ সেক্টরে। হরিলুট।’

পরিশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল বাজেটে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত