সংবাদ

জমি নিয়ে বিরোধে রংপুরে থমকে গেল দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

জমি নিয়ে বিরোধে রংপুরে থমকে গেল দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন
ছবি : সংবাদ

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রংপুরে পূজা কমিটির দুই পক্ষের টানা দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিমা বিসর্জন। রাত তিনটা পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি সড়ক অবরোধ ও তুমুল বিক্ষোভের কারণে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে মন্দিরেই রেখে চলে যান পূজা কমিটির নেতারা। থমথমে পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য গোলযোগের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়া মহল্লায়।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারপাড়া মহল্লায় মোটর মেকানিক দশরথ চন্দ্র তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করছেন। আগে সেখানে তারা পারিবারিকভাবে পূজা পালন করতেন। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গ্রুপ সেখানে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছিল।

এবার দুর্গাপূজার আগে জমির মালিক দশরথ চন্দ্র ও তার পরিবার নিজেদের জায়গায় পূজা করতে আপত্তি জানালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান শামু উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় - এবারের মতো সেখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ওই জমি সীমানাপ্রাচীর দিয়ে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন জমির মালিক দশরথ ও তার পরিবার।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিজয়া দশমীর দিন বুধবার বিকেলে পূজা কমিটির একটি পক্ষ জমিটি চিরতরে দখলে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। পূজা কমিটির নেতারা চারটির মধ্যে দুটি প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে বাকি দুটি সেখানে রেখে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ জমির মালিকের সত্যতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং অপর পক্ষ বিসর্জন না দেওয়ার দাবিতে অনড় থাকে।

বিকেল পাঁচটা থেকে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাক নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও পূজা কমিটির সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী ও সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী প্রতিমা না সরানোর পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা। তারা কয়েক দফা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও পূজা কমিটির নেতারা প্রতিমা সরাতে রাজি হননি। ফলে মধ্যরাত ৩টা পর্যন্ত সেখানে সড়ক অবরোধ ও হট্টগোল চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রাত তিনটায় বিসর্জন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন পূজা কমিটির নেতারা।

এ ব্যাপারে পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে পূজা উদ্‌যাপন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও পূজা করতে চান। জমিটির মালিক তারা না হলেও এটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু বলেন, ‘সবার আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিসর্জনের পর জমি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুটি প্রতিমা রেখে দেওয়ার অন্যায় দাবি তুলে অরাজকতা তৈরি করছে।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, ‘পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণ পূজার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এখন তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


জমি নিয়ে বিরোধে রংপুরে থমকে গেল দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রংপুরে পূজা কমিটির দুই পক্ষের টানা দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিমা বিসর্জন। রাত তিনটা পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি সড়ক অবরোধ ও তুমুল বিক্ষোভের কারণে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে মন্দিরেই রেখে চলে যান পূজা কমিটির নেতারা। থমথমে পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য গোলযোগের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়া মহল্লায়।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারপাড়া মহল্লায় মোটর মেকানিক দশরথ চন্দ্র তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করছেন। আগে সেখানে তারা পারিবারিকভাবে পূজা পালন করতেন। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গ্রুপ সেখানে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছিল।

এবার দুর্গাপূজার আগে জমির মালিক দশরথ চন্দ্র ও তার পরিবার নিজেদের জায়গায় পূজা করতে আপত্তি জানালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান শামু উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় - এবারের মতো সেখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ওই জমি সীমানাপ্রাচীর দিয়ে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন জমির মালিক দশরথ ও তার পরিবার।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিজয়া দশমীর দিন বুধবার বিকেলে পূজা কমিটির একটি পক্ষ জমিটি চিরতরে দখলে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। পূজা কমিটির নেতারা চারটির মধ্যে দুটি প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে বাকি দুটি সেখানে রেখে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ জমির মালিকের সত্যতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং অপর পক্ষ বিসর্জন না দেওয়ার দাবিতে অনড় থাকে।

বিকেল পাঁচটা থেকে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাক নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও পূজা কমিটির সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী ও সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী প্রতিমা না সরানোর পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা। তারা কয়েক দফা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও পূজা কমিটির নেতারা প্রতিমা সরাতে রাজি হননি। ফলে মধ্যরাত ৩টা পর্যন্ত সেখানে সড়ক অবরোধ ও হট্টগোল চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রাত তিনটায় বিসর্জন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন পূজা কমিটির নেতারা।

এ ব্যাপারে পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে পূজা উদ্‌যাপন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও পূজা করতে চান। জমিটির মালিক তারা না হলেও এটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু বলেন, ‘সবার আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিসর্জনের পর জমি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুটি প্রতিমা রেখে দেওয়ার অন্যায় দাবি তুলে অরাজকতা তৈরি করছে।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, ‘পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণ পূজার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এখন তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত