সংবাদ

হেফাজতের ‘মধ্যস্থতায়’ কওমি ঘরানার ৭ দলের নতুন জোট


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

হেফাজতের ‘মধ্যস্থতায়’ কওমি ঘরানার ৭ দলের নতুন জোট
ছবি : সংগৃহীত

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ‘মধ্যস্থতায়’ একই ঘরানার সাতটি রাজনৈতিক দল নতুন জোট গঠন করেছে। জোটের নাম ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার খিলগাঁওয়ে মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সাতটি দলের নেতাদের অংশগ্রহণে এ সিদ্ধান্ত হয়।

দল সাতটি হচ্ছে—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট (রাজী), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

বৈঠকে সাতটি দলের তিনজন করে একুশজন ও হেফাজতে ইসলামের তিনজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে সাতটি দলের প্রতিটির তিনজন করে সদস্য নিয়ে ২১ জনের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জোটবদ্ধ দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি (ইজহার) বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক। দল দুটি জামায়াত জোটেও সক্রিয় থাকবে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে থাকবে, পাশাপাশি সমমনা ব্যানারেও সঙ্গী হবে।

আতাউল্লাহ আমিন বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে পূর্বের জোটে থাকবেন। তবে ইসলামবিরোধী তৎপরতা প্রতিরোধে এই জোটে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি ঘরানার বিভিন্ন দল একাধিক জোটে যায়। তারা পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। এরপর হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহর আহ্বানে গত ১৬ জুলাই ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের নেতারা ‘নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার কথা জানায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাত দল লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে। সেদিন জানানো হয়, লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা ঢাকায় ২২ অক্টোবর বৈঠক করে ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দীর্ঘদিনের যে প্রচেষ্টা, তার অংশ হিসেবেই সাতটি দল এক ব্যানারে এসেছে। তিনি জানান, এটি হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে কোন জোট নয়। হেফাজতে ইসলাম এই ঐক্যপ্রচেষ্টায় ‘মুরুব্বির’ ভূমিকা পালন করেছে।

জোট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত-জোটের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে এই জোটের নেতৃত্বে আনার একটা প্রচেষ্টা ছিল। তবে মামুনুল হক নেতৃত্বে না এসে দুই জোটেরই সঙ্গী হয়েছেন।

মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় এদিন বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যদের মধ্যে ছিলেন—জমিয়তের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন ও আহমদ আলী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির ও মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ অন্যরা।

বৈঠকে হেফাজতের নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল ও আইয়ুব বাবুনগরী উপস্থিত ছিলেন। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


হেফাজতের ‘মধ্যস্থতায়’ কওমি ঘরানার ৭ দলের নতুন জোট

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ‘মধ্যস্থতায়’ একই ঘরানার সাতটি রাজনৈতিক দল নতুন জোট গঠন করেছে। জোটের নাম ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার খিলগাঁওয়ে মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সাতটি দলের নেতাদের অংশগ্রহণে এ সিদ্ধান্ত হয়।

দল সাতটি হচ্ছে—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট (রাজী), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

বৈঠকে সাতটি দলের তিনজন করে একুশজন ও হেফাজতে ইসলামের তিনজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে সাতটি দলের প্রতিটির তিনজন করে সদস্য নিয়ে ২১ জনের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জোটবদ্ধ দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি (ইজহার) বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক। দল দুটি জামায়াত জোটেও সক্রিয় থাকবে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে থাকবে, পাশাপাশি সমমনা ব্যানারেও সঙ্গী হবে।

আতাউল্লাহ আমিন বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে পূর্বের জোটে থাকবেন। তবে ইসলামবিরোধী তৎপরতা প্রতিরোধে এই জোটে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি ঘরানার বিভিন্ন দল একাধিক জোটে যায়। তারা পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। এরপর হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহর আহ্বানে গত ১৬ জুলাই ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের নেতারা ‘নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার কথা জানায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাত দল লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে। সেদিন জানানো হয়, লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা ঢাকায় ২২ অক্টোবর বৈঠক করে ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দীর্ঘদিনের যে প্রচেষ্টা, তার অংশ হিসেবেই সাতটি দল এক ব্যানারে এসেছে। তিনি জানান, এটি হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে কোন জোট নয়। হেফাজতে ইসলাম এই ঐক্যপ্রচেষ্টায় ‘মুরুব্বির’ ভূমিকা পালন করেছে।

জোট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত-জোটের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে এই জোটের নেতৃত্বে আনার একটা প্রচেষ্টা ছিল। তবে মামুনুল হক নেতৃত্বে না এসে দুই জোটেরই সঙ্গী হয়েছেন।

মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় এদিন বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যদের মধ্যে ছিলেন—জমিয়তের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন ও আহমদ আলী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির ও মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ অন্যরা।

বৈঠকে হেফাজতের নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল ও আইয়ুব বাবুনগরী উপস্থিত ছিলেন। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত