সংবাদ

ইউরোপের সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার পেল আইসিসি


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ এএম

ইউরোপের সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার পেল আইসিসি
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মুখে থাকা আইসিসির পাশে শক্ত অবস্থান নিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার পুরস্কার ‘সাখারভ পুরস্কার’ পেয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আদালতটিকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আইসিসিকে অকার্যকর করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিচারিক সংস্থাটিকে এই সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার দিল। একই সঙ্গে আদালতটির স্বাধীন কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে ইইউ।

বার্তা সংস্থা আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির হাতে ‘সাখারভ পুরস্কার’ তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা আদালতটির জন্য চলতি মাসেই এটি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বড় স্বীকৃতি। এর আগে আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

পুরস্কার ঘোষণার সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়েই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।’

পুরস্কার অর্জনের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেন, এমন এক সময়ে এই সম্মাননা এলো, যখন আন্তর্জাতিক আদালত ও এর কর্মকর্তারা নজিরবিহীন চাপ ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এটি স্বাধীন বিচারিক ব্যবস্থার গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন সুরক্ষাকারীদের ভূমিকা পুনরায় বিশ্বমঞ্চে দৃশ্যমান করল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র তোপের মুখে পড়ে আদালতটি। অতি সম্প্রতি ওয়াশিংটন আইসিসির বিচারক, কৌঁসুলি ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর আর্থিক ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটিকে ‘অকার্যকর’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইসিসির পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা দিল।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


ইউরোপের সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার পেল আইসিসি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার পুরস্কার ‘সাখারভ পুরস্কার’ পেয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আদালতটিকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আইসিসিকে অকার্যকর করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিচারিক সংস্থাটিকে এই সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার দিল। একই সঙ্গে আদালতটির স্বাধীন কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে ইইউ।

বার্তা সংস্থা আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির হাতে ‘সাখারভ পুরস্কার’ তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা আদালতটির জন্য চলতি মাসেই এটি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বড় স্বীকৃতি। এর আগে আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

পুরস্কার ঘোষণার সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়েই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।’

পুরস্কার অর্জনের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেন, এমন এক সময়ে এই সম্মাননা এলো, যখন আন্তর্জাতিক আদালত ও এর কর্মকর্তারা নজিরবিহীন চাপ ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এটি স্বাধীন বিচারিক ব্যবস্থার গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন সুরক্ষাকারীদের ভূমিকা পুনরায় বিশ্বমঞ্চে দৃশ্যমান করল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র তোপের মুখে পড়ে আদালতটি। অতি সম্প্রতি ওয়াশিংটন আইসিসির বিচারক, কৌঁসুলি ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর আর্থিক ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটিকে ‘অকার্যকর’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইসিসির পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা দিল।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত