দেশের কিংবদন্তিতুল্য ও বরেণ্য গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২৪ অক্টোবর তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত।
এরপর প্রবীণ এই গীতিকবির তাজমহল রোডের বাসায় গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা ও স্মৃতিশক্তি সম্পর্কে নিজের আবেগঘন অনুভূতির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি কবির বকুল।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে কবির বকুল লেখেন, তিনি ভালো আছেন। তবে যতোটা ভেবেছিলাম, এখনও ততোটা স্মৃতিবিভ্রাট ঘটেনি তার। পরিচিত বন্ধু ও প্রিয়জনদের দেখে তিনি চিনতে পারছেন এবং মনে করে করে প্রায় সবকিছুই বলছেন।
হানিফ সংকেতের ফোন পেয়ে তিনি ছোট ভাইতুল্য জাহিদকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে যান। শয়নকক্ষে বিছানায় শুয়ে থাকা এই গুণী মানুষটি তাকে দেখেই হাসিমুখে বলে ওঠেন, ‘আরে বকুল যে!’
স্মৃতিশক্তি পরীক্ষার ছলে কবির বকুল জানতে চান তার লেখা প্রথম গানের কথা মনে আছে কি না। কিছুক্ষণ মনে করার পর ধীরে ধীরে নিজের দরাজ কণ্ঠে তিনি গেয়ে ওঠেন, ‘যে সাগর দেখে তৃপ্ত দু’চোখ, মুগ্ধ আমার মন, দেখো নি তো তার ঢেউয়ের আড়ালে ঢাকা কত ক্রন্দন।’
এরপর সর্বশেষ কোন গানটি লিখেছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বহুদিন গান আসে না হৃদয় সচল তবু প্রাণে যেন প্রাণ আসে না।’ শুধু গান নয়, আগের রাতের খাবারের মেনু মুরগির মাংস ও ডিম দিয়ে ভাত খাওয়ার কথাও অবলীলায় মনে করতে পেরেছিলেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলায় জন্ম নেওয়া এই লেখক আধুনিক বাংলা গানের জগতে নিজের কাব্যিক শব্দচয়ন, ছন্দ ও উপমায় অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন।
‘ভালোবাসা যত বড়, জীবন তত বড় নয়’ কিংবা ‘সেই রেললাইনের ধারে মেঠোপথটার পারে দাঁড়িয়ে’-এর মতো বহু জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। বিদায়ের আগে কবির বকুল ছবি তুলতে চাইলে তিনি নিজে উঠে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবি পরে নেন, যা উপস্থিত সকলের মনে গভীর আনন্দের জন্ম দেয়।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
দেশের কিংবদন্তিতুল্য ও বরেণ্য গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২৪ অক্টোবর তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত।
এরপর প্রবীণ এই গীতিকবির তাজমহল রোডের বাসায় গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা ও স্মৃতিশক্তি সম্পর্কে নিজের আবেগঘন অনুভূতির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি কবির বকুল।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে কবির বকুল লেখেন, তিনি ভালো আছেন। তবে যতোটা ভেবেছিলাম, এখনও ততোটা স্মৃতিবিভ্রাট ঘটেনি তার। পরিচিত বন্ধু ও প্রিয়জনদের দেখে তিনি চিনতে পারছেন এবং মনে করে করে প্রায় সবকিছুই বলছেন।
হানিফ সংকেতের ফোন পেয়ে তিনি ছোট ভাইতুল্য জাহিদকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে যান। শয়নকক্ষে বিছানায় শুয়ে থাকা এই গুণী মানুষটি তাকে দেখেই হাসিমুখে বলে ওঠেন, ‘আরে বকুল যে!’
স্মৃতিশক্তি পরীক্ষার ছলে কবির বকুল জানতে চান তার লেখা প্রথম গানের কথা মনে আছে কি না। কিছুক্ষণ মনে করার পর ধীরে ধীরে নিজের দরাজ কণ্ঠে তিনি গেয়ে ওঠেন, ‘যে সাগর দেখে তৃপ্ত দু’চোখ, মুগ্ধ আমার মন, দেখো নি তো তার ঢেউয়ের আড়ালে ঢাকা কত ক্রন্দন।’
এরপর সর্বশেষ কোন গানটি লিখেছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বহুদিন গান আসে না হৃদয় সচল তবু প্রাণে যেন প্রাণ আসে না।’ শুধু গান নয়, আগের রাতের খাবারের মেনু মুরগির মাংস ও ডিম দিয়ে ভাত খাওয়ার কথাও অবলীলায় মনে করতে পেরেছিলেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলায় জন্ম নেওয়া এই লেখক আধুনিক বাংলা গানের জগতে নিজের কাব্যিক শব্দচয়ন, ছন্দ ও উপমায় অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন।
‘ভালোবাসা যত বড়, জীবন তত বড় নয়’ কিংবা ‘সেই রেললাইনের ধারে মেঠোপথটার পারে দাঁড়িয়ে’-এর মতো বহু জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। বিদায়ের আগে কবির বকুল ছবি তুলতে চাইলে তিনি নিজে উঠে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবি পরে নেন, যা উপস্থিত সকলের মনে গভীর আনন্দের জন্ম দেয়।

আপনার মতামত লিখুন