সংবাদ

কৃষি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে বড় প্রস্তাব দিল ঢাকা


মহসীন ইসলাম টুটুল, টোকিও থেকে
মহসীন ইসলাম টুটুল, টোকিও থেকে
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

কৃষি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে বড় প্রস্তাব দিল ঢাকা

  • জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
  • অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজের অঙ্গীকার জাইকা প্রধানের

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।"

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার জাপানে সফরকালে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তার বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের আন্তরিক সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে জাপানের সহায়তায় বাংলাদেশে চলমান মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও দ্রুত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ–জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব, একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাজেট সহায়তা প্রদানেরও অনুরোধ জানানো হয়।

বৈঠকে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি উভয় দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

এ সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়াদি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


কৃষি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে বড় প্রস্তাব দিল ঢাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
  • অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজের অঙ্গীকার জাইকা প্রধানের

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।"

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার জাপানে সফরকালে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তার বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের আন্তরিক সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে জাপানের সহায়তায় বাংলাদেশে চলমান মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও দ্রুত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ–জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব, একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাজেট সহায়তা প্রদানেরও অনুরোধ জানানো হয়।

বৈঠকে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি উভয় দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

এ সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়াদি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত