ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যাতলায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এই ভাঙন শুরু হয়। এতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়াপদা সড়কের বাইরে প্রায় ১০০ ফুট চরের মতো অংশ ছিল। ঝড়ের পরপরই সেই অংশে ধস নামে এবং তা প্রায় ৩০০ ফুটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চরের প্রায় ১০০ ফুট অংশ সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি মূল ওয়াপদা সড়কের প্রায় ৩০ ফুট ঢাল ধসে নদীতে চলে গেছে এবং বর্তমানে মূল সড়কের দিকেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ভাঙনস্থলটি পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতাপনগরের বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। খবর পেয়ে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মাওলানা রিয়াছাদ আলীসহ আশপাশের এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রম ও শ্রমিকদের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এনজিওকর্মী মাওলানা জাহিদুল ইসলাম জানান, বেড়িবাঁধের ভেতরের অংশে থাকা গভীর লেকটি এই ভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ। এই বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে তালতলা বাজার, কুড়িকাহুনিয়া, প্রতাপনগর ফাজিল ও মহিলা মাদ্রাসা এবং বন্যাতলা স্কুলসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা রিয়াছাদ আলী বলেন, সম্প্রতি কুড়িকাহুনিয়ায় দেখা দেওয়া ভাঙনের তুলনায় বন্যাতলার ভাঙনের পরিধি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি এবং এর গতিও অত্যন্ত তীব্র। তবে সৌভাগ্যবশত ভাঙনস্থলের ৪০০ ফুটের মধ্যে আগে থেকে মজুত রাখা কয়েক হাজার জিও ব্যাগ দ্রুত কাজে লাগাতে পেরেছেন স্থানীয়রা।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর অধীন ৭/২ নম্বর পোল্ডারে এই আকস্মিক ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে পাউবোর লোকজন পৌঁছানোর আগেই এলাকাবাসী নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে বাঁধ রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, 'বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাকাজ শুরু করা হয়েছে।'

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যাতলায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এই ভাঙন শুরু হয়। এতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়াপদা সড়কের বাইরে প্রায় ১০০ ফুট চরের মতো অংশ ছিল। ঝড়ের পরপরই সেই অংশে ধস নামে এবং তা প্রায় ৩০০ ফুটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চরের প্রায় ১০০ ফুট অংশ সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি মূল ওয়াপদা সড়কের প্রায় ৩০ ফুট ঢাল ধসে নদীতে চলে গেছে এবং বর্তমানে মূল সড়কের দিকেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ভাঙনস্থলটি পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতাপনগরের বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। খবর পেয়ে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মাওলানা রিয়াছাদ আলীসহ আশপাশের এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রম ও শ্রমিকদের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এনজিওকর্মী মাওলানা জাহিদুল ইসলাম জানান, বেড়িবাঁধের ভেতরের অংশে থাকা গভীর লেকটি এই ভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ। এই বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে তালতলা বাজার, কুড়িকাহুনিয়া, প্রতাপনগর ফাজিল ও মহিলা মাদ্রাসা এবং বন্যাতলা স্কুলসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা রিয়াছাদ আলী বলেন, সম্প্রতি কুড়িকাহুনিয়ায় দেখা দেওয়া ভাঙনের তুলনায় বন্যাতলার ভাঙনের পরিধি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি এবং এর গতিও অত্যন্ত তীব্র। তবে সৌভাগ্যবশত ভাঙনস্থলের ৪০০ ফুটের মধ্যে আগে থেকে মজুত রাখা কয়েক হাজার জিও ব্যাগ দ্রুত কাজে লাগাতে পেরেছেন স্থানীয়রা।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর অধীন ৭/২ নম্বর পোল্ডারে এই আকস্মিক ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে পাউবোর লোকজন পৌঁছানোর আগেই এলাকাবাসী নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে বাঁধ রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, 'বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাকাজ শুরু করা হয়েছে।'

আপনার মতামত লিখুন