সংবাদ

আইফোনের লোভে বাল্যবন্ধুর প্রাণ নিল বন্ধু


প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

আইফোনের লোভে বাল্যবন্ধুর প্রাণ নিল বন্ধু
ছবি : সংবাদ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে এক তরুণকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই বাল্যবন্ধুর বিরুদ্ধে। নিখোঁজের সাত দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেক আহমেদ (২১) নামের ওই যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাল্যবন্ধু সাহেল মিয়াকে আটক করা হয়েছে।

নিহত তারেক আহমেদ নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লার ছেলে। আটক সাহেল মিয়া একই গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে। তারা দুজন বাল্যবন্ধু এবং পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর তারেক ও সাহেল লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে একটি ভবন নির্মাণের কাজে যান। সেখানে তারেকের কাছে থাকা আইফোনটি দেখে সাহেলের লোভ হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল জানান, ২২ অক্টোবর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারেককে হত্যা করা হয়। পরে তার কাছে থাকা আইফোনটি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। হত্যাকাণ্ড শেষে তারেকের মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে পালিয়ে যান সাহেল।

এদিকে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে ২৫ অক্টোবর তারেকের বাবা মহব্বত উল্লা নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরবর্তী সময়ে বন্ধু সাহেলের অসংলগ্ন কথাবার্তায় পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। মঙ্গলবার সাহেল বাড়িতে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে নবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল বন্ধু তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং লাশ গুম করার স্থান দেখিয়ে দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল হোসেন বলেন, 'আটক সাহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আইফোনটি কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাল্যবন্ধুর হাতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


আইফোনের লোভে বাল্যবন্ধুর প্রাণ নিল বন্ধু

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে এক তরুণকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই বাল্যবন্ধুর বিরুদ্ধে। নিখোঁজের সাত দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেক আহমেদ (২১) নামের ওই যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাল্যবন্ধু সাহেল মিয়াকে আটক করা হয়েছে।

নিহত তারেক আহমেদ নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লার ছেলে। আটক সাহেল মিয়া একই গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে। তারা দুজন বাল্যবন্ধু এবং পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর তারেক ও সাহেল লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে একটি ভবন নির্মাণের কাজে যান। সেখানে তারেকের কাছে থাকা আইফোনটি দেখে সাহেলের লোভ হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল জানান, ২২ অক্টোবর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারেককে হত্যা করা হয়। পরে তার কাছে থাকা আইফোনটি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। হত্যাকাণ্ড শেষে তারেকের মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে পালিয়ে যান সাহেল।

এদিকে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে ২৫ অক্টোবর তারেকের বাবা মহব্বত উল্লা নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরবর্তী সময়ে বন্ধু সাহেলের অসংলগ্ন কথাবার্তায় পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। মঙ্গলবার সাহেল বাড়িতে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে নবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল বন্ধু তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং লাশ গুম করার স্থান দেখিয়ে দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল হোসেন বলেন, 'আটক সাহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আইফোনটি কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাল্যবন্ধুর হাতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত