দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশ আবারও একটি ‘মাফিয়া স্টেটে’ পরিণত হচ্ছে।
সাংগঠনিক অগ্রগতি ও আগামী নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা বিভাগ দক্ষিণ অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এনসিপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলার শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
সভার শুরুতে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে নিজেদের লোককেই নিজেরা হত্যা করে! এর সঠিক বিচার হবে কি না-তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ বিচার ব্যবস্থা সংস্কার না হওয়ায় তা ক্ষমতাসীনদের কাছেই কুক্ষিগত রয়েছে।’
বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে বিএনপির ছত্রছায়ায় তাদের ক্যাডার বাহিনী নিজেদের দলের লোকদের যেমন খুন করছে, তেমনি সাধারণ মানুষের ওপরও নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে।’
বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা যদি এই সরকারকে ছাড় দিয়ে দিই, তবে আমাদের হয়তো আরেকটি ফ্যাসিবাদের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা চাই না আবারও ১৪০০ মানুষের জীবন দিয়ে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ উৎখাত করতে হোক।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভূমিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি আইজিপি স্বয়ং ‘ক্রসফায়ারে’র কথা বলছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরোপুরি নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশে যে এত মাদকের স্পট চিহ্নিত করা হলো, সেগুলোর বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ মূলত একটি মাফিয়া স্টেটে পরিণত হয়েছে, যা আগেও ছিল এবং এখনও এর কোনো পরিবর্তন হয়নি। একদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র, অন্যদিকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের হাতেও অস্ত্র। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যখন অস্ত্রের মোকাবিলা নিজেকেই অস্ত্র হাতে করতে হয়, তাকেই মাফিয়া স্টেট বলে।’
মাদক সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকার মাদকের আসল গডফাদার, সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করছে না। তাদের গ্রেপ্তার না করলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। আপনারা সংসদেও দেখেছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা কক্সবাজার থেকেই দেশের প্রধান মাদক চোরাচালান হয়। তিনি নিজের এলাকাতেই মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে পারছেন না।’
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে—এমনটি আমাদের মনে হচ্ছে না। সরকারি দলের অন্তর্দ্বন্দ্বে ইতোমধ্যে কয়েকশ মানুষ মারা গেছেন ও আহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনকে ক্রমাগত দলীয়করণ করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
মতবিনিময় সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারজিস আলম এবং রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশ আবারও একটি ‘মাফিয়া স্টেটে’ পরিণত হচ্ছে।
সাংগঠনিক অগ্রগতি ও আগামী নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা বিভাগ দক্ষিণ অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এনসিপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলার শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
সভার শুরুতে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে নিজেদের লোককেই নিজেরা হত্যা করে! এর সঠিক বিচার হবে কি না-তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ বিচার ব্যবস্থা সংস্কার না হওয়ায় তা ক্ষমতাসীনদের কাছেই কুক্ষিগত রয়েছে।’
বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে বিএনপির ছত্রছায়ায় তাদের ক্যাডার বাহিনী নিজেদের দলের লোকদের যেমন খুন করছে, তেমনি সাধারণ মানুষের ওপরও নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে।’
বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা যদি এই সরকারকে ছাড় দিয়ে দিই, তবে আমাদের হয়তো আরেকটি ফ্যাসিবাদের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা চাই না আবারও ১৪০০ মানুষের জীবন দিয়ে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ উৎখাত করতে হোক।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভূমিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি আইজিপি স্বয়ং ‘ক্রসফায়ারে’র কথা বলছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরোপুরি নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশে যে এত মাদকের স্পট চিহ্নিত করা হলো, সেগুলোর বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ মূলত একটি মাফিয়া স্টেটে পরিণত হয়েছে, যা আগেও ছিল এবং এখনও এর কোনো পরিবর্তন হয়নি। একদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র, অন্যদিকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের হাতেও অস্ত্র। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যখন অস্ত্রের মোকাবিলা নিজেকেই অস্ত্র হাতে করতে হয়, তাকেই মাফিয়া স্টেট বলে।’
মাদক সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকার মাদকের আসল গডফাদার, সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করছে না। তাদের গ্রেপ্তার না করলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। আপনারা সংসদেও দেখেছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা কক্সবাজার থেকেই দেশের প্রধান মাদক চোরাচালান হয়। তিনি নিজের এলাকাতেই মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে পারছেন না।’
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে—এমনটি আমাদের মনে হচ্ছে না। সরকারি দলের অন্তর্দ্বন্দ্বে ইতোমধ্যে কয়েকশ মানুষ মারা গেছেন ও আহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনকে ক্রমাগত দলীয়করণ করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
মতবিনিময় সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারজিস আলম এবং রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন