দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তদন্ত শেষে কাজ শুরুর সুযোগ তৈরি হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেওয়ায় জনভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে নেছারাবাদে আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ প্রকল্পসহ (আইভিআরপি) বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় দুদকের তদন্তের কারণে প্রায় এক বছর ধরে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তদন্ত-পরবর্তী সময়ে যেসব কাজ পুনরায় শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেগুলোর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না করা এবং কাজ শুরুর বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় পুরো উন্নয়ন কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অসমাপ্ত সড়ক, জরাজীর্ণ সেতু ও চলাচলের অনুপযোগী যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুত উন্নয়নের সুফল থেকে তাঁরা বঞ্চিত। অন্যদিকে কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নিয়ে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম নিজস্ব গতিতে চলুক; তবে তার অজুহাতে জনগুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকাজ অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখা উচিত নয়। দ্রুত প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং আইনসম্মতভাবে কাজ পুনরায় শুরু করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘দুদকের মামলার কারণে কাজগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে কাজগুলো পুনরায় চালু এবং প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি, তবে আলোচনা চলছে। আশা করছি, বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।’

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তদন্ত শেষে কাজ শুরুর সুযোগ তৈরি হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেওয়ায় জনভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে নেছারাবাদে আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ প্রকল্পসহ (আইভিআরপি) বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় দুদকের তদন্তের কারণে প্রায় এক বছর ধরে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তদন্ত-পরবর্তী সময়ে যেসব কাজ পুনরায় শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেগুলোর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না করা এবং কাজ শুরুর বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় পুরো উন্নয়ন কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অসমাপ্ত সড়ক, জরাজীর্ণ সেতু ও চলাচলের অনুপযোগী যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুত উন্নয়নের সুফল থেকে তাঁরা বঞ্চিত। অন্যদিকে কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নিয়ে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম নিজস্ব গতিতে চলুক; তবে তার অজুহাতে জনগুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকাজ অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখা উচিত নয়। দ্রুত প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং আইনসম্মতভাবে কাজ পুনরায় শুরু করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘দুদকের মামলার কারণে কাজগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে কাজগুলো পুনরায় চালু এবং প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি, তবে আলোচনা চলছে। আশা করছি, বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।’

আপনার মতামত লিখুন