সংবাদ

উখিয়ায় টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে বের হচ্ছে গ্যাস, জ্বলছে আগুন


জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার
জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

উখিয়ায় টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে বের হচ্ছে গ্যাস, জ্বলছে আগুন
ছবি : সংবাদ

কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় এই ঘটনা ঘটে। মাটির নিচ থেকে আগুনের শিখা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়।

ঘটনার পরপরই এলাকাটিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম কাজ করছে। আগুন বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন জানান, রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হচ্ছিল এবং ভেতরে আগুন জ্বলছিল।

বাড়ির মালিক মোস্তফা সিকদার জানান, পানীয় জলের সংকট মেটাতে মঙ্গলবার সকালে ৫-৬ জন শ্রমিক গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করেন। খননকাজ প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট গভীরে পৌঁছালে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে বিকট শব্দে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হওয়ায় দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনা সদস্যরাও যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন (বা সংশ্লিষ্ট পদবি) জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ওই এলাকায় আগে থেকেই গ্যাসের উপস্থিতির কথা শোনা গেলেও পরীক্ষা ছাড়া সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের নিশ্চিত মজুত রয়েছে কি না, তা বলা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভূগর্ভের স্তর, গ্যাসের ধরন ও উৎস নিশ্চিত করার পর এটি প্রাকৃতিক গ্যাস কি না— সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। বর্তমানে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


উখিয়ায় টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে বের হচ্ছে গ্যাস, জ্বলছে আগুন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় এই ঘটনা ঘটে। মাটির নিচ থেকে আগুনের শিখা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়।

ঘটনার পরপরই এলাকাটিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম কাজ করছে। আগুন বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন জানান, রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হচ্ছিল এবং ভেতরে আগুন জ্বলছিল।

বাড়ির মালিক মোস্তফা সিকদার জানান, পানীয় জলের সংকট মেটাতে মঙ্গলবার সকালে ৫-৬ জন শ্রমিক গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করেন। খননকাজ প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট গভীরে পৌঁছালে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে বিকট শব্দে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হওয়ায় দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনা সদস্যরাও যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন (বা সংশ্লিষ্ট পদবি) জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ওই এলাকায় আগে থেকেই গ্যাসের উপস্থিতির কথা শোনা গেলেও পরীক্ষা ছাড়া সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের নিশ্চিত মজুত রয়েছে কি না, তা বলা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভূগর্ভের স্তর, গ্যাসের ধরন ও উৎস নিশ্চিত করার পর এটি প্রাকৃতিক গ্যাস কি না— সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। বর্তমানে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত